জীববৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাস উপযোগী ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, বাস্তুসংস্থানগত প্রভৃতির প্রভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী যে বৈচিত্র্যতার সৃষ্টি হয় তাকে বোঝায়।
পৃথিবীর এক এক অঞ্চলে এক এক ধরনের উদ্ভিদ জন্মে, এক এক ধরনের প্রাণীর আবাসস্থল গড়ে উঠে। প্রতিটি অঞ্চলেই মানুষসহ অন্যান্য প্রাণী বসবাস করে। যদিও তাদের প্রজাতি, জীনগত কোনো পার্থক্য নেই তথাপিও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, ভৌগোলিক অবস্থার কারণে এক এক অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর বাহ্যিক আচার-আচরণ, দৈহিক গঠন প্রভৃতির মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিগত, জলবায়ুগত পার্থক্যের কারণে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছে। এ ভিন্নধর্মী বাস্তুতন্ত্র থাকার কারণে বিশ্বব্যাপী উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে বৈচিত্র্যতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোনো কারণে এসব বাস্তুসংস্থানের কোন উপাদানের হ্রাস ঘটে তাহলে ঐ বাস্তুসংস্থানের স্বাভাবিকতা বিনষ্ট হয় যার ফলে জীববৈচিত্র্যতার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাববিস্তার করে। জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আমার নিজস্ব যুক্তি হচ্ছে জীব সম্প্রদায়ের একে অপরের সাথে আন্তঃসম্পর্ক স্থাপন করে ভূপ্রকৃতি, জলবায়ুগত তারতম্যের কারণে বিশ্বব্যাপী এ জীবসম্প্রদায় ও উদ্ভিদকুলের মধ্যে বৈচিত্র্যতা প্রকাশ পেয়েছে যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নিরক্ষীয় অঞ্চলে উত্তাপ বেশি তাই বৃষ্টিপাত হয় এবং ঐ অঞ্চলে অধিক লম্বাযুক্ত বনভূমি গড়ে উঠেছে। আবার, মেরু অঞ্চলের দিকে ঠাণ্ডা আবহাওয়া বিরাজ করায় ঐ অঞ্চলে বড় বড় লম্বাযুক্ত পাতাবিশিষ্ট গাছ জন্মাতে পারে না। আবার, দক্ষিণ আমেরিকার আমাজান বনে যে ধরনের বাস্তুসংস্থান গড়ে উঠেছে ঐ রকম বাস্তুসংস্থান আবার এশিয়ার দক্ষিণে দেখা যায় না। এখানে অন্য রকম বাস্তুসংস্থান গড়ে উঠেছে।
সুতরাং ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ুগত তারতম্য প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে জীব ও উদ্ভিদ সম্প্রদায়ের মধ্যে যে বৈচিত্র্যতা তাই জীববৈচিত্র্যতা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।