উদ্দীপকে উল্লিখিত বনভূমিটি হলো ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
বনভূমি মানবসমাজের অতি মূল্যবান সম্পদ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ও বায়বীয় উপাদান সুষ্ঠুভাবে বজায় রাখার জন্য বনভূমি অপরিহার্য।
ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কোনো অঞ্চলের মোট আয়তনের পঁচিশ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রায় ১৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই বনভূমির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। গাছ আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং দুর্যোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনে কাঠ, বাঁশ, বেত, মধু, মোম প্রভৃতি এ বন হতে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া আসবাবপত্র নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠের একটা বিরাট অংশ হতে আসে। কাগজ, রেয়ন, দিয়াশলাই শিল্পের কাঁচামাল এ বন থেকে সংগ্রহ করা হয় শিল্পের উন্নতিতে, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরকারের আয়ের উৎস হিসেবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এই বনভূমির গুরুত্ব রয়েছে। দেশের মোট বনভূমির বড় অংশ এ বন দখল করে আছে পাহাড়িয়া মানুষের বসতি ও কর্মসংস্থান অনেকটা এ বনের মাধ্যমে হয়। এছাড়া ঐ অঞ্চলে যারতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এ বন মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং বলা যায় যে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাহাড়িয়া (ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষ) বনভূমির ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।