উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক ও খ' দেশদ্বয়ের নাম যথাক্রমে জাপান ও যুক্তরাজ্য। উক্ত দেশদ্বয়ের শিল্পের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
জাপান একটি শিল্পোন্নত দেশ। এদেশ লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এখানে খনিজ সম্পদ তেমন পাওয়া যায় না। আমদানিকৃত কাঁচামাল ও শক্তি সম্পদ দ্বারা শিল্প পরিচালনা করতে হয়। কিন্তু শিল্পনেতা, কারিগর, সুশিক্ষিত ও পরিশ্রমী কর্মী বাহিনী, উচ্চমাত্রায় সঞ্চয়ের প্রবণতা, উচ্চ বিনিয়োগ হার ও শিল্প ও বৈদেশিক বাণিজ্য উন্নয়নের জন্য সরকারের জোরালো সমর্থন মিলে জাপান শিল্পোন্নত অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হয়েছে। এখানে ইয়াওয়াটা অঞ্চল, টোকিও-ইয়োকোহামা অঞ্চল, ওসাকা, কোবে অঞ্চল, কামাইসি অঞ্চল, মুরোরান অঞ্চল প্রভৃতি স্থানে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। কয়লা ও আকরিক লোহা আমদানি করে স্থানীয় পানিবিদ্যুতের সুবিধা থাকায় উক্ত অঞ্চলে শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। জাপানে সব ধরনের লৌহ ও ইস্পাত দ্রব্য প্রস্তুত করা হয়। বড় বড় জাহাজ, রেলইঞ্জিন, যন্ত্রপাতি, মোটরগাড়ি, ট্রাক্টর, বাইসাইকেল, বৈদ্যুতিক পাখা, রেডিও, ট্রানজিস্টর, টেলিভিশন সেট, ক্যামেরা প্রভৃতি থেকে আরম্ভ করে সুচ এবং পেরেক পর্যন্ত প্রস্তুত হয়।
অপরদিকে, যুক্তরাজ্য ইউরোপের পশ্চিমে অবস্থিত একটি শিল্পোন্নত দেশ। ১৮০০ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের শিল্পবিপ্লব শুরু হয়। এ অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প, কার্পাস বয়ন শিল্প, পাট বয়নশিল্প, লিনেন বয়নশিল্প প্রভৃতি শিল্প গড়ে উঠেছে। শিল্পের যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত থাকায় বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে এ অঞ্চল শিল্পে সমৃদ্ধি লাভ করেছে। স্থানীয় লৌহ আকরিক, কাঠ ও চুনাপাথর এ শিল্পের উন্নতিতে সাহায্য করেছে। শক্তির উৎস হিসেবে স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত কয়লা ও আমদানিকৃত লৌহ আকরিকের সাহায্যে এখানে উৎপাদন কাজ চলে। জাহাজ ও বিভিন্ন প্রকার যন্ত্রপাতি এ শিল্পকেন্দ্রে প্রস্তুত করা হয়। এদেশের ব্ল্যাককান্ট্রি অঞ্চলের বামিংহামে মোটর গাড়ি, সাইকেল, রেলের যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বন্দুক, কভেন্ট্রি সাইকেল ও মোটরগাড়ি, রেডডিচ সুচ এবং ডালি শিকল প্রস্তুতের জন্য জগদ্বিখ্যাত। এছাড়া যুক্তরাজ্যেই আধুনিক কার্পাস বয়নশিল্পের সর্বপ্রথম যন্ত্রপাতি আবিষ্কৃত হয়। এছাড়া এখানে লিনেন বয়নশিল্প গড়ে উঠেছে।
সুতরাং বলা যায় যে, জাপান ও যুক্তরাজ্য দুটি দেশই স্থানীয় দক্ষ শ্রমিক ও বিনিয়োগের কারণ শিল্পের দিক দিয়ে অগ্রসরমান।