উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' দেশদুটি যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। দেশ দুটি বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্তিধর। নিচে দেশ দুটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য এ তিনটি শিরোনামে তুলে ধরা হলো।
কৃষি: জাপানের মোট কৃষিযোগ্য জমির ১২.৩৩ শতাংশ ধান চাষের জন্য ব্যবহৃত হয়। দক্ষিণ জাপান ধান চাষের প্রধান অঞ্চল। এ দেশে হেক্টর প্রতি ধানের উৎপাদন প্রায় ৫,৭৫০ কিলোগ্রাম। এছাড়া এখানে গম, যব, সয়াবিন, রাই, ওট ও তুঁত গাছের চাষ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে এখানে ভুট্টা, ইক্ষু, কার্পাস, তামাক, আলু প্রভৃতি উৎপন্ন হচ্ছে। জাপানে নানারকম ফল উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে কমলালেবু, চেরি, পিচ, আপেল, আঙ্গুর প্রভৃতি প্রধান। যুক্তরাষ্ট্রও বৃহৎ দেশ বিধায় কৃষি উৎপাদনে বিশ্বে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। গম এর শীর্ষস্থানীয় ফসল। এছাড়া যব এবং বিভিন্ন প্রকার ফলমূল উল্লেখযোগ্য।
শিল্প: জাপানের কার্পাস, রেশম, লৌহ-ইস্পাত, জাহাজ নির্মাণ, কাগজ প্রভৃতি শিল্প খুব উন্নত। বর্তমানে গাড়ি, টেলিফোন, রেডিও, ক্যামেরা, ঘড়ি, ক্যালকুলেটর প্রভৃতি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি উৎপাদনে জাপান প্রচুর উন্নতি করেছে। শিল্পের অভাবনীয় সাফল্যের জন্য জাপানকে প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার বলা হয়। জাপানের মতো যুক্তরাষ্ট্রও শিল্পোন্নত দেশ এবং দেশটির শিল্প প্রকৃতি একই রকম।
বাণিজ্য: জাপানের বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য হলো কাঁচামাল আমদানি এবং শিল্পজাত পণ্য রপ্তানি। জাপানের আমদানির ৪৫ শতাংশ আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং রপ্তানির ৪০ শতাংশ যায় এশিয়ার দেশসমূহে। জাপান প্রধানত তুলা, খনিজ তেল, কয়লা, চাউল ও অন্যান্য খাদ্যশস্য, পশম প্রভৃতি আমদানি করে এবং বস্ত্র, ইস্পাত, রাসায়নিক দ্রব্য, চিনামাটির বাসনপত্র, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক দ্রব্যাদি, ক্যামেরা প্রভৃতি রপ্তানি করে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি দ্রব্যের মধ্যে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য, যন্ত্রপাতি ও পরিবহনের সাজ-সরঞ্জাম, লৌহ- ইস্পাত ও ধাতব দ্রব্যাদি, মুক্তা ও অন্যান্য পাথর, সুতিবস্ত্র, তৈরি পোশাক, পাট ও চামড়াজাত দ্রব্যাদি, রাসায়নিক দ্রব্যাদি, যন্ত্রপাতি ও পরিবহনের সরঞ্জাম, পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য, ধাতব দ্রব্য প্রভৃতি প্রধান। আলোচনা থেকে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান অর্থনীতির ক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত অবস্থানে। তাই বিশ্বের সকল দেশের নিকট দেশ দুটির অর্থনৈতিক পুরুত্ব রয়েছে।