তানজিমের নিজ দেশ হলো বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ খ্যাত বাংলাদেশ। তার ভ্রমণকৃত দেশ হচ্ছে জাপান।
বাংলাদেশ ও জাপানের শিল্প পরিবেশের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। বস্তুত জাপান পৃথিবীর অন্যতম শিল্পোন্নত দেশ। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ উন্নয়নের নিমিত্তে শিল্পকে প্রাধান্য দিচ্ছে। যদিও দেশটি কৃষি প্রধান। জাপানের লোকসংখ্যার তুলনায় কৃষিকাজের উপযোগী ভূমির পরিমাণ কম। এ দুই ভৌগোলিক উপাদান (জনসংখ্যা ও ভূমির অপর্যাপ্ততা) জাপানকে শিল্পপ্রধান দেশে পরিণত করেছে। এছাড়াও এখানে রয়েছে শিল্প প্রতিষ্ঠার অনুকূল পরিবেশ। যেমন- প্রচুর জলবিদ্যুৎ শক্তি, কঠোর পরিশ্রম উপযোগী নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু, সমুদ্র সান্নিধ্য, ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের সহযোগী হিসেবে বৃহৎ যন্ত্রশিল্প, দক্ষ কারিগর, সুলভ শ্রমিক, কারিগরি জ্ঞান প্রভৃতি।
বাংলাদেশ শিল্পের প্রসারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু অধিক জনসংখ্যা থাকলেও কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতার অভাবে দেশ পিছিয়ে রয়েছে। উপরন্তু কৃষি অনুকূল ভূমি ও জলবায়ু দেশটিকে কৃষিপ্রধান করে রেখেছে। তাই শিল্প স্থাপনের যথেষ্ট ভূমি এখানে সহজপ্রাপ্য নয়। এছাড়া খনিজ ও শক্তি সম্পদেরও অপর্যাপ্ততা রয়েছে। তবে এত প্রতিবন্ধকতার পরও দেশটি বর্তমানে শিল্পের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে দেশটি ঈর্ষণীয় সাফল্য লাভ করেছে। দেশটির শিল্পের বিকাশে অনুকূল যে পরিবেশ রয়েছে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ, সমুদ্র পরিবহন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ, সুলভ শ্রমিক ইত্যাদি।