উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো ঘূর্ণিঝড়। উক্ত দুর্যোগটি জলজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
ঘূর্ণিঝড় কোনো স্বল্প পরিসর স্থানে অতিরিক্ত তাপের জন্য নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়া। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং নিম্নচাপের বাইরে ক্রমেই বায়ুর চাপ বেশি থাকে। ফলে নিম্নচাপজনিত কারণে বায়ু উপরের দিকে উঠে এসে উপকূলে ঝড়ো বাতাসসহ বৃষ্টিপাত ঘটায়। পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশে সমুদ্রের উপকূলের বিভিন্ন প্রকার প্রচণ্ড ধ্বংসকারী ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি, মানুষ, গৃহপালিত পশু ইত্যাদি বিনষ্ট হয়। বাংলাদেশেও ঘূর্ণিঝড়ে, প্রচণ্ড জলোচ্ছ্বাসের ফলে অসংখ্য মানুষ, বন্যপ্রাণী ও গবাদিপশু মারা যায় এবং ব্যাপকভাবে আবাদি জমির ফসল ও ভৌত অবকাঠামো বিনষ্ট হয়। যেমন- ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশে যে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল তাতে এযাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণহানি ও সম্পদ ধ্বংস হয়েছিল। এ ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায়, ১০ লক্ষ লোক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের ফলে যে জলোচ্ছ্বাস হয় তা ছিল স্মরণকালের অন্যতম। এতে কোটি কোটি টাকার বনজসম্পদ ধ্বংস ছাড়াও প্রায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষ, ১৫ হাজার হরিন, হাজার হাজার বানর ও শূকর এ জলোচ্ছ্বাসে মারা যায়। আবার ২০০৭ সালে বাংলাদেশে সিডরের আঘাতে দক্ষিণাঞ্চলে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। সুতরাং বলা যায় যে, ঘূর্ণিঝড়ের ফলে উপরোল্লিখিত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।