উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ঘটনা-২' হলো শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত। নিচে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হলো:
জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ুর গতিপথে কোনো উচ্চভূমি বা' পর্বত দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হলে ঐ জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বত বা উচ্চভূমির পার্শ্বদেশ বেয়ে উপরে ওঠে প্রসারিত হয়। তখন পর্বতের উপরের শীতল তুষারের সংস্পর্শে এসে জলীয়বাষ্প শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত পার্শ্বে বৃষ্টিপাত ঘটায়। মূলত ভূমির বন্ধুরতার কারণে এ বৃষ্টিপাত হয় বলে একে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে। কিন্তু পর্বত অতিক্রম করে ঐ বায়ু যখন পর্বতের অপর পার্শ্বে পৌছায় তখন বায়ুতে জলীয়বাষ্প অনেক কমে যায়। বায়ু তখন পর্বতের গাত্র বেয়ে নিচে নামতে থাকে। ফলে উত্তপ্ত ও প্রায় শুষ্ক হয়ে পড়ে। এ কারণে পর্বতের অনুবাত পার্শ্বে বৃষ্টিপাত হয় না, বা কম হয়। এজন্য পর্বত বা পাহাড়ের বৃষ্টিপাতহীন অনুবাত অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।
জলীয়বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হলে তার দক্ষিণাংশে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু হিমালয়ের উত্তরে অবস্থিত তিব্বত ও মধ্য এশিয়ায় বৃষ্টি হয় না বলে ঐ অঞ্চল বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। পৃথিবীর বহুদেশে। শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত সংঘটিত হতে দেখা যায়। এ বৃষ্টিপাত সাধারণত বৃহৎ এলাকাব্যাপী সংঘটিত হয়। এ বৃষ্টির কোনো সুনির্দিষ্ট সময়কাল নেই।