উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকের শেষোক্ত উক্তিটি হলো পুরো জীবজগতের জীবনব্যবস্থা জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয়। উক্ত উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো:
পৃথিবীর সর্বত্র একইরূপে জলবায়ু বিরাজ করে না। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি, উদ্ভিদ, প্রাণী, কৃষিব্যবস্থা ও মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে রয়েছে যথেষ্ট পার্থক্য। জৎলবায়ুর উপর ভিত্তি কুরে গড়ে উঠে কৃষিব্যবস্থা। পৃথিবীর সবস্থানে যেমন কৃষিজ ফসল ভালো হয় না তেমনি সবস্থান প্রাণী বা উদ্ভিদের জীবনধারণ তথা বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। জলবায়ুর ভিন্নতা জীবজগতের জীবনযাত্রাকে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করে।
জলবায়ুর ভিন্নতার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকার জীবজন্তু বাস করে। অর্থাৎ অনুকূল পরিবেশ না পেলে কোনো জীবজন্তু স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না। মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে প্রধানত হিংস্র মাংসাশী, তৃণভোজী এবং গৃহপালিত জীবজন্তু যেমন-গরু, ছাগল, ঘোড়া, মহিষ, বাঘ, ভাল্লুক, চিতাবাঘ, হরিণ, ছাগল, কুকুর, বিড়াল প্রভৃতি বসবাস করে। অন্যদিকে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে হিংস্র ও মাংসাশী প্রাণী দেখা যায় না বললেই চলে।
পৃথিবীর এক এক অঞ্চলের বসতি এক এক ধরনের। জলবায়ুর ওপর ভিত্তি করে এ সমস্ত বসতি গড়ে উঠেছে। যেমন- তুন্দ্রা অঞ্চলের বাসগৃহে সাধারণত জানালা থাকে না। অধিক বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে বাসগৃহের চাল কিছুটা ঢালু করা হয়। আবার ভূমিকম্পন অঞ্চলের বাসগৃহ অধিকাংশ কাঠ দ্বারা নির্মিত। নিরক্ষীয় অঞ্চল এবং অধিক শীতপ্রধান অঞ্চলে জনবসতি খুবই বিরল। আবার মৌসুমি জলবায় অঞ্চলে জনবসতি ঘন সন্নিবিষ্ট।
সুতরাং বলা যায় যে, জলবায়ুর ভিন্নতা জীবজগতের জীবনব্যবস্থা তথা বাসস্থান নির্মাণ থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাস, পোশাক পরিচ্ছদ তথা সংস্কৃতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাববিস্তার করে থাকে।