উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজিবের উপলব্ধি হলো জলবায়ুর বৈচিত্র্যতা প্রাণী ও উদ্ভিদের উপর প্রভাববিস্তার করে ।
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের জলবায়ুর ভিন্নতার কারণে মানুষের জীবন- যাপন প্রণালিতে ও উদ্ভিদের বিস্তরণের ক্ষেত্রে তারতম্য হয়ে থাকে। অনুকূল জলবায়ু ও বিস্তীর্ণ কৃষি ভূমির কারণে মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের লোক বসতি ঘন। কৃষিই অধিবাসীদের প্রধান উপজীবিকা। অধিবাসিগণ অলস প্রকৃতির এবং ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। মৌসুমি জলবায়ুতে বেশি বৃষ্টির অঞ্চলে চিরহরিৎ বৃক্ষ, মাঝারি বৃষ্টি অঞ্চলে গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ আর কম বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তৃণ জাতীয় উদ্ভিদ বেশি লক্ষ করা যায়। আবার ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের লোক বসতি তত ঘন নয়। যদিও কৃষিই অধিবাসীদের প্রধান উপজীবিকা। তবে তা বাণিজ্যিক ও বাগিচা কৃষি। বর্তমানে শ্রম শিল্পের উন্নতির ফলে উপজীবিকায় কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। অধিবাসিগণ অপেক্ষাকৃত পরিশ্রমী। আর্দ্র বৃষ্টিবহুল শীতকাল এবং বৃষ্টিহীন দীর্ঘ গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে বলে এ অঞ্চলে ছোট ছোট গাছ ও ঝোপঝাড় বেশি জন্মে এবং এগুলো শুষ্কতা মোকাবিলার ক্ষমতাসম্পন্ন ।
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে আরও দেখা যায়, এ অঞ্চলের অধিবাসীরা বিভিন্ন উপজীবিকায় নিয়োজিত। ঘন সন্নিবিষ্ট বনভূমি থাকায় বন্য ফলমূল আহরণ, জুম চাষ, পশু, পাখি শিকার ইত্যাদি তাদের প্রধান উপজীবিকা। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরক্ষীয় দেশসমূহ কৃষিকাজে উন্নতি লাভ করছে। সারাবছর ধরে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং অধিক তাপের জন্য এ অঞ্চলে প্রশস্ত পত্রযুক্ত চিরহরিৎ বৃক্ষের গভীর বনের সৃষ্ট হয়েছে।
অতএব, উপরিউক্ত জলবায়ু অঞ্চল বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় যে, অনিকের বাবার উক্তিটি যথার্থ