মাসুমের ভ্রমণকৃত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বৃষ্টিবহুল জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রধানত বন্যা উল্লেখযোগ্য। আর কক্সবাজারে দেখা হাতির শুঁড়ের মতো মেঘের কারণ হলো টর্নেডো। অর্থাৎ মাসুমের ভ্রমণকৃত দুই জেলার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো বন্যা ও টর্নেডো।
ভৌগোলিক অবস্থান, ভূপ্রকৃতি এবং আবহাওয়া বা জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বৃষ্টিবহুল জেলায় নিয়মিত বন্যা হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, পরে এই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিচু এলাকাগুলো যেমন— হাওর, বিল, ঝিলগুলো বৃষ্টির পানি দিয়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সুতরাং বর্ষা ঋতুতে স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টিপাতের কারণে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে থাকে। অপরদিকে, টর্নেডো অর্থ বজ্রঝড় । সাধারণত লঘুচাপই টর্নেডো সৃষ্টির প্রধান কারণ। টর্নেডোর গতি ঘণ্টায় সাধারণত ৪৮০-৮০০ কি.মি. হতে পারে। এর বিস্তার মাত্র কয়েক মিটার এবং দৈর্ঘ্য ৫-৩০ কি.মি. পর্যন্ত হতে পারে। টর্নেডোর আকৃতি হাতির শুঁড়ের মতো। ভূপষ্ঠের উপরে এর ব্যাস ১০০-৫০০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। বন্যা বিস্তৃত এলাকায় অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ সময়ব্যাপী সংঘটিত হয়। আর টর্নেডো স্বল্প সময় ও স্বল্প পরিসরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়। বন্যায়
নদীর পানি নদীর তীর বা বাঁধ উপচে প্লাবন ভূমিতে ঢুকে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের জন্য বন্যা একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রায় প্রতিবছরই বন্যায় দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে ফসল, গবাদিপশু এবং অন্যান্য সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়, যা মাঝে মাঝে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯০, ১৯৯৫, ২০০৪ এবং ২০০৭ সালের প্রলয়ংকরী বন্যায় দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ১৯৭৪ সালে এই ক্ষতির মাত্রা এত বেশি ছিল যে সেটি বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অন্যদিকে, টর্নেডো অল্প সময়ে হঠাৎ করে আঘাত হেনে প্রচুর ক্ষতিসাধন করে। স্বল্প পরিসর জায়গায় বায়ুচাপের পার্থক্য অত্যধিক বলেই এর তাণ্ডবতা ভয়ংকর হয়। ঝড়োপুঞ্জ মেঘের তলদেশ থেকে চোঙের মতো মেঘ মাটির দিকে নামতে থাকে। এ চোঙ যেখানে ভূমি স্পর্শ করে সেখানে ঘন কালো মেঘে চারদিক অন্ধকার হয়ে যায় এবং বিকট শব্দে সবকিছু ধূলিসাৎ হয়ে যায়। বাংলাদেশে সাধারনত চৈত্র-বৈশাখ মাসে টর্নেডোর তাণ্ডব লক্ষ করা যায় ।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, বন্যা ও টর্নেডো এই দুই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে যথেষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে।