উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' ও 'গ' বায়ু হলো যথাক্রমে উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু ও উত্তর সুমেরুদেশীয় বায়ু। দক্ষিণ গোলার্ধে যে পশ্চিমা বায়ু উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে যায় তাকে উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু বলে। এ বায়ু বাণিজ্য বায়ুর বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে বিপরীত বাণিজ্য বায়ুও বলে। ইউরোপীয় নাবিকগণ এ বায়ুকে 'প্রবল বায়ু' বলে থাকে। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু ৪০০ থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে বেশ জোরে গর্জন করতে করতে প্রবাহিত হয়। এ বায়ুর প্রভাবে মহাদেশগুলোর পশ্চিম উপকূলে বৃষ্টিপাত হয়। শীতকালে জলভাগের চেয়ে স্থলভাগ বেশি ঠান্ডা থাকে বলে এ বায়ুর প্রভাবে শীতকালে অধিক বৃষ্টি হয়।
অপরদিকে, বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে বেঁকে উত্তর-পূর্ব বায়ুরূপে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তা হলো উত্তর সুমেরুদেশীয় বায়ু। মেরু এলাকা থেকে আগত এ বায়ু শুষ্ক ও শীতল। ক্রান্তীয় এলাকার নিকট থেকে আগত পশ্চিমা বায়ুর সঙ্গে এ বায়ুর সংযোগ হলে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু ও উত্তর সুমেরুদেশীয় বায়ুর মধ্যে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।