উদ্দীপকে পরিচলন বৃষ্টিকে দেখানো হয়েছে। উক্ত বৃষ্টিপাত ছাড়াও আরও ৩ প্রকার বৃষ্টিপাত রয়েছে। যথা- শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত ও সংঘর্ষ বা বায়ু প্রাচীরজনিত বৃষ্টিপাত। উক্ত বৃষ্টিপাতগুলো সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো-
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত : জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় গতিপথে উঁচু পর্বতে বাধা পেলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরে উঠতে থাকে। উপরে উঠে এ জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু শীতল ও ঘনীভূত হয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। পাহাড়-পর্বতের বাধাজনিত কারণে এরূপ বৃষ্টিপাত হয় বলে এটি শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।
ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত : কোনো স্বল্প পরিসর স্থানে অতিরিক্ত তাপের জন্য নিম্নচাপের সৃষ্টি হলে ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়। ঘূর্ণিঝড়ে কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং নিম্নচাপের বাইরে ক্রমেই বায়ুর চাপ বেশি থাকে। ফলে চারিদিকের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ পরিপৃক্ত বায়ু ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে ছুটে আসে। নিম্নচাপ কেন্দ্রে অনুভূমিকভাবে আগত এসব বায়ুর মিলনের ফলে ঘূর্ণিবর্তের সৃষ্টি হয় এবং বায়ু নিম্নচাপের কেন্দ্র থেকে ঘুরতে ঘুরতে সোজা উপরের দিকে উঠে যায়। নিম্নচাপজনিত কারণে বায়ু উপরে উঠে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে একে ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত বলে। ঘূর্ণিঝড়জনিত বৃষ্টিপাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- ঘূর্ণিবাত্যার কেন্দ্রের দেয়ালে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়। কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে বৃষ্টিপাত ক্রমশ কমতে থাকে।
সংঘর্ষ বা বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টিপাত : শীতল বায়ু উষ্ণ বায়ু অপেক্ষা ভারী। যখন শীতল ও উষ্ণ বায়ুপুঞ্জ মুখোমুখি উপস্থিত হয়ে একে অপরের দিকে অগ্রসর হয়, তখন উষ্ণ জলীয়বাষ্পপূর্ণ হালকা বায়ুপুঞ্জ ভারী শীতল বায়ুপুঞ্জের গা বেয়ে উপরে উঠতে থাকে। উপরে উঠার ফলে জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বায়ু প্রসারিত ও শীতল হয়ে বায়পুঞ্জের সীমান্ত বরাবর বৃষ্টিপাত ঘটায় যা সংঘর্ষ বা বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।
সুতরাং বলা যায় যে, পাহাড়-পর্বত, তাপমাত্রা জনিত কারণে উল্লিখিত বৃষ্টিপাতগুলোর মধ্যে বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।