উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' বায়ুপ্রবাহ বলতে পশ্চিমা বায়ুর কথা বলা হয়েছে । দুই ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চলের দিকে দু'টি বায়ু সারাবছর নির্দিষ্ট পথে প্রবাহিত হয়। এদেরকে পশ্চিমা বায়ু বলে। এই বায়ু দু'টি ৩৫°-৬০° অক্ষাংশের মধ্যে প্রবাহিত হয়। বায়ু দু'টির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—
১. উত্তর গোলার্ধে এই বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুপ্রবাহকে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু বলে। দক্ষিণ গোলার্ধে এই বায়ু উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে যায়। এই বায়ুপ্রবাহকে উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু বলে। বাণিজ্য বায়ুর বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে পশ্চিমা বায়ুকে বিপরীত বাণিজ্য বায়ু বলে।
২. উষ্ণ থেকে শীতল অক্ষাংশীয় এলাকার দিকে বায়ু প্রবাহিত হওয়ার ফলে সারাবছর কম-বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
৩. এই বায়ু চলাচলের পথে রীতিমতো বায়ুমণ্ডলীয় গোলযোগ সৃষ্টি হয়। ঘূর্ণিঝড়, প্রতীপ ঘূর্ণিবাত, বজ্রঝড়, শক্তিশালী ঘূর্ণন প্রভৃতি সৃষ্টিতে এ বায়ু ভূমিকা রাখে।
৪. পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত এলাকা শীতকালের চেয়ে গ্রীষ্মকালে শান্ত থাকে। এ বায়ুর বিশেষত্ব হচ্ছে শীতকালে বাতাস যেকোনো দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে এবং কদাচিৎ ঘূর্ণিঝড় হয়।
৫. উত্তর গোলার্ধে বেশি স্থলভাগ ও নানারূপ ভূপ্রকৃতির জন্য দক্ষিণ- পশ্চিম পশ্চিমা বায়ুর দিক ও গতি অধিক পরিবর্তিত হয়। দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগ বেশি থাকায় উত্তর পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু ৪০°- ৪৭° অক্ষাংশের মধ্যে সারাবছর বাধাহীনভাবে প্রবল গতিতে প্রবাহিত হয়। এজন্য এ অবস্থানকে 'গর্জনশীল চল্লিশা' (Roaring (Forties) বলা হয়।
৬. পশ্চিমের সমুদ্রের ওপর থেকে জলীয়বাষ্প গ্রহণ করায় এই বায়ুপ্রবাহের ফলে সকল মহাদেশের পশ্চিম উপকূলে বৃষ্টিপাত হয়।
৭. শীতকালে জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ অধিক শীতল হওয়ার কারণে এই বায়ুপ্রবাহে অধিক বৃষ্টিপাত হয়।