উদ্দীপকে 'খ' ও 'গ' হলো যথাক্রমে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় এবং মেরুবৃত্তীয় নিম্নচাপ বলয়। নিচে এ দুটি চাপ বলয়ের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো-
উষ্ণবায়ু ক্রমশ প্রসারিত ও শীতল হয়ে ২৫° থেকে ৩৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের ক্রান্তীয় অঞ্চলে উপস্থিত হয়ে আংশিকভাবে নিম্ন দিকে নেমে আসে। বাকি বায়ু মেরু প্রদেশের দিকে প্রবাহিত হয়। নিরক্ষীয় অঞ্চলের ন্যায় এ অঞ্চল দুটিতেও বায়ুর পার্শ্বপ্রবাহ অনুভূত হয় না এবং বায়ুমণ্ডল শান্ত থাকে। এ অঞ্চলে শীতল ও শুষ্ক বায়ু ঊর্ধ্ব আকাশ থেকে নিচের দিকে নামার কারণে অঞ্চলটি বৃষ্টিহীন থাকে। পৃথিবীর অধিকাংশ মরুভূমি এ অঞ্চলে পরিলক্ষিত হয়। এ শীতল ও ভারী বায়ু ক্রান্তীয় অঞ্চলে নিচে নামতে থাকে। যার ফলে এ দুটি উচ্চচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর কর্কটীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ বলা হয়।
অপরদিকে, ৬০° থেকে ৬৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ জুড়ে দুটি মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের অবস্থান। মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর আবর্তন শক্তির তুলনায় শীতলতা অনেক বেশি প্রবল। ফলে এ অঞ্চলে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। নিয়ম মোতাবেক অত্যধিক শীতলতার কারণে এ অঞ্চলে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চলের তুলনায় এ অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের পরিসর এবং পৃথিবীর আবর্তন গতি উভয়ই বেশি। তাই পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল বা বহির্মুখী শক্তির প্রভাবে এ অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত ও প্রসারিত হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
তাই বলা যায়, 'খ' ও 'গ' দুটি চাপ বলয়ের বৈশিষ্ট্যগত তারতম্য রয়েছে।