ফরিদ স্ত্রীকে প্রহার করে আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ লঙ্ঘন করেছে ।
ইসলামপূর্ব যুগে নারীরা এক শোচনীয় পরিস্থিতির মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতো। তাদের কোনো অধিকার বা মান-সম্মান দেওয়া হতো না। কিন্তু ইসলাম নারীদের এ অপমানজনক অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছে। নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা লাভের নির্দেশ দিয়েছেন । ফরিদের কাজে এ নির্দেশ অমান্য করার দৃষ্টান্ত লক্ষণীয়। ফরিদ তার স্ত্রীকে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক মানসিক নির্যাতন করে। এমনকি স্ত্রীর অধিকার পর্যন্ত স্বীকার করতে চায় না। অথচ বিদায় হজের ভাষণে মহানবি (স) বলেছেন, স্ত্রীদের উপর তোমাদের যেরূপ অধিকার আছে, স্ত্রীদেরও তোমাদের উপর সেরূপ অধিকার আছে। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমরা তাদেরকে গ্রহণ করেছ এবং তারই আদেশ মতো তাদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করে নিয়েছ। তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “নারীদের তেমনই ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে। যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের। (সূরা আল-বাকারাহ আয়াত ২২৮)। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের এ নির্দেশ থেকে বোঝা যায়। নারী হলো পুরুষের ভূষণ। তাই তাদেরকে অন্তর থেকে সম্মান করতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে। স্ত্রী, মা, বোনসহ কোনো নারীকেই কোনোরূপ অত্যাচার করা যাবে না। ঠাট্টা-বিদ্রুপ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা যাবে না। তারা মনে কষ্ট পায়। এমন কোনো কাজ করা যাবে না । মহানবি (স) আল্লাহর নির্দেশ মেনে স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন ।
পরিশেষে বলা যায় যে, স্ত্রীদের সাথে যেমন আচরণ করতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল হুকুম দিয়েছেন ফরিদ তা লঙ্ঘন করেছে।