উদ্দীপকের সমিতিটি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর প্রণীত মদিনা সনদকে নির্দেশ করে।
মদিনা সনদকে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয়। মদিনায় বসবাসরত বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সদ্ভাব প্রতিষ্ঠা এবং তা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে হযরত মুহাম্মদ (স) এ ঐতিহাসিক সনদ প্রণয়ন করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত শাসনতন্ত্রে সব জাতি-ধর্মের মানুষের ন্যায্য অধিকার লাভের প্রতীক এই মদিনা সনদেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত নিজ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এবং চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হানাহানি ও লুটতরাজ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে রহমতপুর এলাকার কয়েকজন যুবক ঈমান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সমিতি বা সংঘ গড়ে তোলেন। তাদের এই উদ্যোগ সফল হয়। একইভাবে মহানবি (স) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরতের পর সেখানে বসবাসরত ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিকসহ সব জাতি-ধর্মের মানুষের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের নীতি গ্রহণ করেন। মদিনাকে একটি আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য তিনি একটি সনদ প্রণয়ন করেন, যা ইসলাম তথা বিশ্ব ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। এ সনদে ৪৭টি ধারা ছিল। ধারাগুলো ছিল মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অধিকারের রক্ষাকবচ। এ সনদে মদিনার সব সম্প্রদায়কে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার অধিকার দেওয়া হয়। রক্তপাত, হত্যা, বলাৎকার অপরাধমূলক কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দুর্বল, অসহায় মানুষকে সর্বতোভাবে সাহায্য করার আহ্বান জানানো হয়। এসব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সমিতিটি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর প্রণীত মদিনা সনদকে নির্দেশ করে।