Chapter 2 : হযরত মুহাম্মদ (স.) Islamic History 1st paper

HSC Islamic History 1st paper এর Chapter 2 : হযরত মুহাম্মদ (স.) অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১৫৮

প্রশ্ন

Islamic History 1st paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মুক্তিযুদ্ধের সময় রাশেদদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামে প্রবেশের রাস্তা কেটে দিয়েছিল, যাতে পাকিস্তান আর্মি সহজে প্রবেশ করতে না পারে। রাস্তা কাটা থাকায় পাক আর্মি গাড়ি ছাড়া পায়ে হেঁটে গ্রামে প্রবেশ করার সাহস পায়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের এ রণকৌশলের কারণে রাশেদদের গ্রাম ছিল নিরাপদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ঘাঁটি।

Rajshahi · 2017

হিজরত অর্থ কী?

উত্তর

'হিজরত' শব্দের অর্থ দেশত্যাগ, প্রস্থান এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করা।
হিজরত ও দেশত্যাগের মধ্যে পার্থক্য কী? বুঝিয়ে লিখ।

উত্তর

হিজরত এবং দেশত্যাগের মধ্যে মৌলিক ও উদ্দেশ্যগত কিছু পার্থক্য রয়েছে। শাব্দিকভাবে হিজরত ও দেশত্যাগ একই অর্থ ধারণ করে। অর্থাৎ এগুলোর অর্থ এক দেশ বা একস্থান থেকে অন্য স্থানে প্রস্থান করা। কিন্তু উদ্দেশ্যগত দিক দিয়ে দুটি ভিন্ন বিষয়। দেশত্যাগ যে কোনো প্রয়োজনে, বৈষয়িক বা পার্থিব উদ্দেশ্য সাধনে হতে পারে। কিন্তু 'হিজরত' শব্দটির সাথে ইসলাম প্রচার বা প্রসারের বিষয়টি জড়িত। রাসুল (স) ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে বিরোধীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বর্তমান সময়েও কেউ যদি অনুরূপ পরিস্থিতিতে বা উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়, তবে তা হিজরত বলে পরিগণিত হবে।
উদ্দীপকের অনুরূপ রণকৌশল মহানবি (স) কোন যুদ্ধে প্রয়োগ করেছিলেন? বর্ণনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের অনুরূপ রণকৌশল মহানবি (স) খন্দকের যুদ্ধে প্রয়োগ করেছিলেন। ইসলামের সূচনালগ্নে যে কয়টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ হলো খন্দকের যুদ্ধ। এ যুদ্ধ ইতিহাসে বিভিন্ন নামে অভিহিত। মুহম্মদ (স) সালমান ফারসির পরামর্শক্রমে মদিনার চারপাশে খাল বা খন্দক খনন করে যে অভিনব যুদ্ধ কৌশলের অবতারণা করেন তাই ইতিহাসে খন্দকের যুদ্ধ নামে পরিচিত। উদ্দীপকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রতিহত করতে কৌশল অবলম্বনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে গ্রামে প্রবেশের রাস্তা ভেঙে দিয়ে গ্রামবাসী শত্রুপক্ষ থেকে নিরাপদ থাকতে সক্ষম হয়। খন্দকের যুদ্ধেও এ ধরনের কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে মুসলমানরা কুরাইশদের পরাজিত করেছিল। ৬২৭ সালের ৩১ মার্চ কুরাইশ, ইহুদি ও বেদুইনদের সর্বাধিনায়ক আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মক্কার মুশারিকরা মদিনা আক্রমণ করে। তাদের প্রতিহত করতে মুহাম্মদ (স) তিন হাজার মর্দে মুজাহিদের এক বাহিনী মদিনার চারপাশে খননকৃত পরিখার প্রহরায় নিযুক্ত ছিলেন। পরিখা পেরিয়ে হামলা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা মদিনাকে ২৭ দিন পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে। কিন্তু দীর্ঘ অবরোধের ফলে শত্রু বাহিনীতে খাদ্য ও পানীয়ের অভাব দেখা দেয় ও ঝড়ো হাওয়ায় তাদের তাঁবু উড়ে যায়। অনুরূপ ঘটনা রাশেদদের গ্রামের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশেদদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামে প্রবেশের একমাত্র প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটি কেটে দিয়েছিল, যাতে পাকিস্তানি আর্মি সহজে গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে। মুক্তিযোদ্ধারা এ রণকৌশলের মাধ্যমে শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, খন্দকের যুদ্ধে রাসুল (স)-এর গৃহীত কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমেই রাশেদদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা এদেশকে শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
মহানবি (স) এর উক্ত রণকৌশলটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

খন্দকের যুদ্ধে মহানবি (স)-এর গৃহীত রণকৌশল অর্থাৎ মুসলমানদের পরিখা খনন করার মতো কৌশল যুদ্ধ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৬২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মার্চ কুরাইশ, ইহুদি ও বেদুইনদের সম্মিলিত শক্তি উহুদ যুদ্ধের বিজয়ী সেনাপতি আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মদিনাকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়। তাদের সৈন্যসংখ্যা ছিল ১০,০০০। এ সমন্বিত শক্তির মোকাবিলা করার জন্য হযরত মুহম্মদ (স) মাত্র ৩,০০০ সৈন্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণের জন্য মহানবি (স) সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করেন। বৈঠকে পারস্যের জনৈক মুসলমান সালমান ফারসির পরামর্শক্রমে মদিনা নগরীর অরক্ষিত স্থানসমূহে গভীর পরিখা খনন করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মহানবি (স) স্বয়ং এ কাজে অংশ নেন। ৬২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মার্চ মক্কার যৌথবাহিনী মদিনায় হামলা চালায়। কিন্তু মদিনার অভিনব আত্মরক্ষার কৌশল দেখে তারা বিস্মিত হয়। শত চেষ্টা সত্ত্বেও পরিখা অতিক্রম করে শত্রুপক্ষ মদিনায় প্রবেশ করতে পারেনি। তাই তারা ২৭ দিন মদিনা অবরোধ করে রাখে। দীর্ঘ অবরোধের পর খাদ্যাভাব, ঝড়-বৃষ্টি, হিমেল হাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে যৌথবাহিনী অবরোধ প্রত্যাহার করে স্বদেশে ফিরে যায়। শুধু পরিখা খননের এই কৌশলের মাধ্যমে মুসলমানরা শত্রুর অস্ত্রসম থেকে রক্ষা পায়, যা ছিল মুসলমানদের জন্য অনেক বড় বিজয়। উদ্দীপকে রাশেদদের গ্রামের লোকেরা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের আক্রমণ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য গ্রামে প্রবেশের রাস্তাটি কেটে ফেলে। ফলে হানাদার বাহিনী ঐ গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এভাবে তাদের গ্রাম রক্ষা পায়। একইভাবে খন্দকের যুদ্ধের সময় মদিনার অরক্ষিত অঞ্চলগুলোতে পরিখা খনন করে। এই পরিখা অতিক্রম করে শত্রু বাহিনী সামনে সামনে এগুতে ব্যর্থ হয়। পরিশেষে বলা যায় যে, যুদ্ধের সময় পরিখা খননের মতো এ ধরনের কৌশল গ্রহণ যুদ্ধ জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মুক্তিযুদ্ধের সময় রাশেদদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামে প্রবেশের রাস্তা কেটে দিয়েছিল, যাতে পাকিস্তান আর্মি সহজে প্রবেশ করতে না পারে। রাস্তা কাটা থাকায় পাক আর্মি গাড়ি ছাড়া পায়ে হেঁটে গ্রামে প্রবেশ করার সাহস পায়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের এ রণকৌশলের কারণে রাশেদদের গ্রাম ছিল নিরাপদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ঘাঁটি।

Rajshahi · 2017

হিজরত অর্থ কী?

উত্তর

'হিজরত' শব্দের অর্থ দেশত্যাগ, প্রস্থান এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করা।
হিজরত ও দেশত্যাগের মধ্যে পার্থক্য কী? বুঝিয়ে লিখ।

উত্তর

হিজরত এবং দেশত্যাগের মধ্যে মৌলিক ও উদ্দেশ্যগত কিছু পার্থক্য রয়েছে। শাব্দিকভাবে হিজরত ও দেশত্যাগ একই অর্থ ধারণ করে। অর্থাৎ এগুলোর অর্থ এক দেশ বা একস্থান থেকে অন্য স্থানে প্রস্থান করা। কিন্তু উদ্দেশ্যগত দিক দিয়ে দুটি ভিন্ন বিষয়। দেশত্যাগ যে কোনো প্রয়োজনে, বৈষয়িক বা পার্থিব উদ্দেশ্য সাধনে হতে পারে। কিন্তু 'হিজরত' শব্দটির সাথে ইসলাম প্রচার বা প্রসারের বিষয়টি জড়িত। রাসুল (স) ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে বিরোধীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বর্তমান সময়েও কেউ যদি অনুরূপ পরিস্থিতিতে বা উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়, তবে তা হিজরত বলে পরিগণিত হবে।
উদ্দীপকের অনুরূপ রণকৌশল মহানবি (স) কোন যুদ্ধে প্রয়োগ করেছিলেন? বর্ণনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের অনুরূপ রণকৌশল মহানবি (স) খন্দকের যুদ্ধে প্রয়োগ করেছিলেন। ইসলামের সূচনালগ্নে যে কয়টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ হলো খন্দকের যুদ্ধ। এ যুদ্ধ ইতিহাসে বিভিন্ন নামে অভিহিত। মুহম্মদ (স) সালমান ফারসির পরামর্শক্রমে মদিনার চারপাশে খাল বা খন্দক খনন করে যে অভিনব যুদ্ধ কৌশলের অবতারণা করেন তাই ইতিহাসে খন্দকের যুদ্ধ নামে পরিচিত। উদ্দীপকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রতিহত করতে কৌশল অবলম্বনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে গ্রামে প্রবেশের রাস্তা ভেঙে দিয়ে গ্রামবাসী শত্রুপক্ষ থেকে নিরাপদ থাকতে সক্ষম হয়। খন্দকের যুদ্ধেও এ ধরনের কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে মুসলমানরা কুরাইশদের পরাজিত করেছিল। ৬২৭ সালের ৩১ মার্চ কুরাইশ, ইহুদি ও বেদুইনদের সর্বাধিনায়ক আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মক্কার মুশারিকরা মদিনা আক্রমণ করে। তাদের প্রতিহত করতে মুহাম্মদ (স) তিন হাজার মর্দে মুজাহিদের এক বাহিনী মদিনার চারপাশে খননকৃত পরিখার প্রহরায় নিযুক্ত ছিলেন। পরিখা পেরিয়ে হামলা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা মদিনাকে ২৭ দিন পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে। কিন্তু দীর্ঘ অবরোধের ফলে শত্রু বাহিনীতে খাদ্য ও পানীয়ের অভাব দেখা দেয় ও ঝড়ো হাওয়ায় তাদের তাঁবু উড়ে যায়। অনুরূপ ঘটনা রাশেদদের গ্রামের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশেদদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামে প্রবেশের একমাত্র প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটি কেটে দিয়েছিল, যাতে পাকিস্তানি আর্মি সহজে গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে। মুক্তিযোদ্ধারা এ রণকৌশলের মাধ্যমে শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, খন্দকের যুদ্ধে রাসুল (স)-এর গৃহীত কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমেই রাশেদদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা এদেশকে শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
মহানবি (স) এর উক্ত রণকৌশলটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

খন্দকের যুদ্ধে মহানবি (স)-এর গৃহীত রণকৌশল অর্থাৎ মুসলমানদের পরিখা খনন করার মতো কৌশল যুদ্ধ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৬২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মার্চ কুরাইশ, ইহুদি ও বেদুইনদের সম্মিলিত শক্তি উহুদ যুদ্ধের বিজয়ী সেনাপতি আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মদিনাকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়। তাদের সৈন্যসংখ্যা ছিল ১০,০০০। এ সমন্বিত শক্তির মোকাবিলা করার জন্য হযরত মুহম্মদ (স) মাত্র ৩,০০০ সৈন্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণের জন্য মহানবি (স) সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করেন। বৈঠকে পারস্যের জনৈক মুসলমান সালমান ফারসির পরামর্শক্রমে মদিনা নগরীর অরক্ষিত স্থানসমূহে গভীর পরিখা খনন করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মহানবি (স) স্বয়ং এ কাজে অংশ নেন। ৬২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মার্চ মক্কার যৌথবাহিনী মদিনায় হামলা চালায়। কিন্তু মদিনার অভিনব আত্মরক্ষার কৌশল দেখে তারা বিস্মিত হয়। শত চেষ্টা সত্ত্বেও পরিখা অতিক্রম করে শত্রুপক্ষ মদিনায় প্রবেশ করতে পারেনি। তাই তারা ২৭ দিন মদিনা অবরোধ করে রাখে। দীর্ঘ অবরোধের পর খাদ্যাভাব, ঝড়-বৃষ্টি, হিমেল হাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে যৌথবাহিনী অবরোধ প্রত্যাহার করে স্বদেশে ফিরে যায়। শুধু পরিখা খননের এই কৌশলের মাধ্যমে মুসলমানরা শত্রুর অস্ত্রসম থেকে রক্ষা পায়, যা ছিল মুসলমানদের জন্য অনেক বড় বিজয়। উদ্দীপকে রাশেদদের গ্রামের লোকেরা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের আক্রমণ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য গ্রামে প্রবেশের রাস্তাটি কেটে ফেলে। ফলে হানাদার বাহিনী ঐ গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এভাবে তাদের গ্রাম রক্ষা পায়। একইভাবে খন্দকের যুদ্ধের সময় মদিনার অরক্ষিত অঞ্চলগুলোতে পরিখা খনন করে। এই পরিখা অতিক্রম করে শত্রু বাহিনী সামনে সামনে এগুতে ব্যর্থ হয়। পরিশেষে বলা যায় যে, যুদ্ধের সময় পরিখা খননের মতো এ ধরনের কৌশল গ্রহণ যুদ্ধ জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আব্দুস সামাদ নামক ব্যক্তিটি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি এলাকার মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হওয়ার পর সমাজের সকল অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে বলেন। এতে সমাজের এক শ্রেণির মানুষের কাছে তিনি শত্রু হয়ে যান। এক পর্যায়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তিনি দেশ ত্যাগে বাধ্য হন।

Rajshahi · 2017

হযরত মুহম্মদ (স) এর মাতার নাম কী?

উত্তর

হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাতার নাম আমিনা বেগম।
হিলফুল ফুজুল বলতে কী বুঝায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

হিলফুল ফুজুল বলতে কিশোর বয়সে মহানবি (স) এর প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘকে বোঝায়। মহানবি (স) ছিলেন শান্তির দূত। তাই বালক বয়সে যখন তিনি পাঁচ বছর স্থায়ী 'হারবুল ফুজ্জার' যুদ্ধের (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ভয়াবহতা দেখলেন তখন তাঁর অন্তর মানবতার জন্য কেঁদে উঠল। এ প্রেক্ষিতেই তিনি সমমনা কয়েকজন উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন হিলফুল ফুজুল নামের শান্তিসংঘটি। সংগঠনটি গোত্রীয় যুদ্ধের অবসানসহ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করত। এটি প্রায় ৫০ বছর স্থায়ী ছিল।
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মহামানবের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সাথে মহানবি (স)-এর নবুয়ত লাভের পর ইসলাম প্রচার এবং এ কাজে নির্যাতনের শিকার হয়ে হিজরত করার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে গেলে অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। সত্যের পথে থাকা এবং এ পথে মানুষকে আহ্বান করতে গিয়ে যুগে যুগে মহামানবেরা নানা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (স) তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর সত্যের পথে অবিচল থেকে ধৈর্য ও হিজরতের মাধ্যমে রাসুল (স)-এর পরিস্থিতি মোকাবিলার আংশিক প্রতিফলন লক্ষ করা যায় আব্দুস সামাদের কর্মকাণ্ডে। উদ্দীপকে দেখা যায়, আব্দুস সামাদকে এলাকাবাসী সবাই শ্রদ্ধা করত। তিনি মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হওয়ার পর সবাইকে অনৈতিকতা পরিহার করে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানান। কিন্তু তার এ কাজে সমাজের এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষীরা বিরোধিতা শুরু করে এবং তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে দেশ ত্যাগ করেন। একই ঘটনা পরিলক্ষিত হয় হযরত মুহাম্মদ (স)-এর জীবনে। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে নবুয়ত লাভের পর মহানবি (স) গোপনে নিকট আত্মীয়দের মধ্যে এবং পরবর্তীতে ৬১৩ খ্রিষ্টাব্দে মক্কাবাসীদের কাছে তাওহিদের বাণী প্রচার শুরু করেন। এতে মক্কার পৌত্তলিক, কুরাইশসহ মূর্তিপূজার দিশারি সকল গোত্র মুহাম্মদ (স)-এর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। মহানবি (স) এর ওপর তারা অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে; তাঁকে পাগল বলে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে থাকে। কুরাইশদের অত্যাচার যখন চরম আকার ধারণ করে তখন মহানবি (স) আল্লাহর নির্দেশে তাঁর শিষ্যদের আবিসিনিয়ায় হিজরতের পরামর্শ দেন। তাছাড়া মহানবি (স) মক্কায় অবস্থান করলে তাঁর বিরুদ্ধে কুরাইশদের ষড়যন্ত্রের মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমনকি তারা রাসুল (স) কে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। এ প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ তাঁকে মদিনায় হিজরতের নির্দেশ দেন। কারণ তখন মদিনায় ইসলাম প্রচারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তাই মহানবি (স) মহান আল্লাহর নির্দেশে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন এবং মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত প্রতিষ্ঠা করেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, রাসুল (স)-এর ইসলাম প্রচার, নির্যাতন সহ্য করা এবং হিজরতের ঘটনার সাথে আব্দুস সামাদের কর্মকাণ্ড আংশিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
উক্ত মহাপুরুষের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের ঘটনা তাঁর ও তাঁর প্রচারিত ধর্মের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

রাসুল (স)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঘটনা তাঁর জীবনের জন্য ছিল মোড় পরিবর্তনকারী এবং ইসলামের ভিত প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর কুরাইশদের অত্যাচারের মাত্রা যখন বেড়ে যায় তখন তিনি মহান আল্লাহর আদেশে হযরত আবু বকর (রা)-কে সাথে নিয়ে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন এবং এখানেই মুহাম্মদ (স)-এর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। মদিনাবাসীর সহযোগিতায় ইসলামের বিস্তৃতি সহজ হয়ে যায়। এই হিজরতের ফলে মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়, যা পরবর্তীকালে মক্কা বিজয় তথা অর্ধেক পৃথিবী বিজয় করার দ্বার উন্মোচন করে। হিজরতের ফলে মহানবি (স)-এর জীবনধারায় পরিবর্তন আসে এবং তিনি সুস্থ পরিবেশে বসবাস করার সুযোগ লাভ করেন। ঐতিহাসিক P.K. Hitti বলেন, 'হিজরতের সাথে সাথে হযরতের মক্কা জীবনের অবসান ও মদিনা জীবনের সূচনা হয় এবং এখানেই মুহাম্মদ (স)-এর জীবনের মোড় ঘুরে যায়।' মহানবি (স) মদিনায় হিজরত করলে মদিনাবাসী তাঁকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বরণ করে নেয়। এরপর মদিনায় ইসলাম দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে সমগ্র আরবজাহান মুসলমানদের অধীনে আসে। হিজরতের পরপরই মুহাম্মদ (স) মদিনাতে মুসলমানদের মিলনকেন্দ্র হিসেবে মসজিদে নববি প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও মদিনাবাসী মহানবির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যে তাদের নগরীর নাম রাখেন 'মদিনাতুন্নবি' বা নবির শহর। এতে মদিনাবাসীর সম্মান অনেক বেড়ে যায়। মহানবি (স)-এর হিজরতের ফলে মদিনার লোকজন দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে এবং মদিনাবাসী দীর্ঘদিনের ভেদাভেদ ও শত্রুতা ভুলে গিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। হিজরতের ফলেই মহানবি (স) বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান 'মদিনা সনদ' প্রণয়ন করেন। সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মহানবি (স)-এর হিজরতের ফলে ইসলামের প্রচার ও প্রসার অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আব্দুস সামাদ নামক ব্যক্তিটি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি এলাকার মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হওয়ার পর সমাজের সকল অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে বলেন। এতে সমাজের এক শ্রেণির মানুষের কাছে তিনি শত্রু হয়ে যান। এক পর্যায়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তিনি দেশ ত্যাগে বাধ্য হন।

Rajshahi · 2017

হযরত মুহম্মদ (স) এর মাতার নাম কী?

উত্তর

হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাতার নাম আমিনা বেগম।
হিলফুল ফুজুল বলতে কী বুঝায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

হিলফুল ফুজুল বলতে কিশোর বয়সে মহানবি (স) এর প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘকে বোঝায়। মহানবি (স) ছিলেন শান্তির দূত। তাই বালক বয়সে যখন তিনি পাঁচ বছর স্থায়ী 'হারবুল ফুজ্জার' যুদ্ধের (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ভয়াবহতা দেখলেন তখন তাঁর অন্তর মানবতার জন্য কেঁদে উঠল। এ প্রেক্ষিতেই তিনি সমমনা কয়েকজন উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন হিলফুল ফুজুল নামের শান্তিসংঘটি। সংগঠনটি গোত্রীয় যুদ্ধের অবসানসহ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করত। এটি প্রায় ৫০ বছর স্থায়ী ছিল।
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মহামানবের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সাথে মহানবি (স)-এর নবুয়ত লাভের পর ইসলাম প্রচার এবং এ কাজে নির্যাতনের শিকার হয়ে হিজরত করার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে গেলে অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। সত্যের পথে থাকা এবং এ পথে মানুষকে আহ্বান করতে গিয়ে যুগে যুগে মহামানবেরা নানা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (স) তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর সত্যের পথে অবিচল থেকে ধৈর্য ও হিজরতের মাধ্যমে রাসুল (স)-এর পরিস্থিতি মোকাবিলার আংশিক প্রতিফলন লক্ষ করা যায় আব্দুস সামাদের কর্মকাণ্ডে। উদ্দীপকে দেখা যায়, আব্দুস সামাদকে এলাকাবাসী সবাই শ্রদ্ধা করত। তিনি মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হওয়ার পর সবাইকে অনৈতিকতা পরিহার করে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানান। কিন্তু তার এ কাজে সমাজের এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষীরা বিরোধিতা শুরু করে এবং তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে দেশ ত্যাগ করেন। একই ঘটনা পরিলক্ষিত হয় হযরত মুহাম্মদ (স)-এর জীবনে। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে নবুয়ত লাভের পর মহানবি (স) গোপনে নিকট আত্মীয়দের মধ্যে এবং পরবর্তীতে ৬১৩ খ্রিষ্টাব্দে মক্কাবাসীদের কাছে তাওহিদের বাণী প্রচার শুরু করেন। এতে মক্কার পৌত্তলিক, কুরাইশসহ মূর্তিপূজার দিশারি সকল গোত্র মুহাম্মদ (স)-এর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। মহানবি (স) এর ওপর তারা অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে; তাঁকে পাগল বলে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে থাকে। কুরাইশদের অত্যাচার যখন চরম আকার ধারণ করে তখন মহানবি (স) আল্লাহর নির্দেশে তাঁর শিষ্যদের আবিসিনিয়ায় হিজরতের পরামর্শ দেন। তাছাড়া মহানবি (স) মক্কায় অবস্থান করলে তাঁর বিরুদ্ধে কুরাইশদের ষড়যন্ত্রের মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমনকি তারা রাসুল (স) কে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। এ প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ তাঁকে মদিনায় হিজরতের নির্দেশ দেন। কারণ তখন মদিনায় ইসলাম প্রচারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তাই মহানবি (স) মহান আল্লাহর নির্দেশে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন এবং মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত প্রতিষ্ঠা করেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, রাসুল (স)-এর ইসলাম প্রচার, নির্যাতন সহ্য করা এবং হিজরতের ঘটনার সাথে আব্দুস সামাদের কর্মকাণ্ড আংশিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
উক্ত মহাপুরুষের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের ঘটনা তাঁর ও তাঁর প্রচারিত ধর্মের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

রাসুল (স)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঘটনা তাঁর জীবনের জন্য ছিল মোড় পরিবর্তনকারী এবং ইসলামের ভিত প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর কুরাইশদের অত্যাচারের মাত্রা যখন বেড়ে যায় তখন তিনি মহান আল্লাহর আদেশে হযরত আবু বকর (রা)-কে সাথে নিয়ে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন এবং এখানেই মুহাম্মদ (স)-এর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। মদিনাবাসীর সহযোগিতায় ইসলামের বিস্তৃতি সহজ হয়ে যায়। এই হিজরতের ফলে মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়, যা পরবর্তীকালে মক্কা বিজয় তথা অর্ধেক পৃথিবী বিজয় করার দ্বার উন্মোচন করে। হিজরতের ফলে মহানবি (স)-এর জীবনধারায় পরিবর্তন আসে এবং তিনি সুস্থ পরিবেশে বসবাস করার সুযোগ লাভ করেন। ঐতিহাসিক P.K. Hitti বলেন, 'হিজরতের সাথে সাথে হযরতের মক্কা জীবনের অবসান ও মদিনা জীবনের সূচনা হয় এবং এখানেই মুহাম্মদ (স)-এর জীবনের মোড় ঘুরে যায়।' মহানবি (স) মদিনায় হিজরত করলে মদিনাবাসী তাঁকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বরণ করে নেয়। এরপর মদিনায় ইসলাম দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে সমগ্র আরবজাহান মুসলমানদের অধীনে আসে। হিজরতের পরপরই মুহাম্মদ (স) মদিনাতে মুসলমানদের মিলনকেন্দ্র হিসেবে মসজিদে নববি প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও মদিনাবাসী মহানবির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যে তাদের নগরীর নাম রাখেন 'মদিনাতুন্নবি' বা নবির শহর। এতে মদিনাবাসীর সম্মান অনেক বেড়ে যায়। মহানবি (স)-এর হিজরতের ফলে মদিনার লোকজন দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে এবং মদিনাবাসী দীর্ঘদিনের ভেদাভেদ ও শত্রুতা ভুলে গিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। হিজরতের ফলেই মহানবি (স) বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান 'মদিনা সনদ' প্রণয়ন করেন। সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মহানবি (স)-এর হিজরতের ফলে ইসলামের প্রচার ও প্রসার অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আশরাফ সাহেবের বাসায় সবসময় দুই ধরনের রান্না হয়। ভালোমানের রান্না হয় তার পরিবারের জন্য, আর নিম্নমানের খাবার তৈরি হয় ড্রাইভার, বাবুর্চি আর পরিচারিকাদের জন্য। তাদের চিকিৎসা, বাসস্থান ও ভালো পোশাকেরও সুব্যবস্থা নাই। আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথেও সবসময় দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। এসব নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে।

Dhaka · 2017

মহানবি (স) কত খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

উত্তর

মহানবি (স) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
মুহাম্মদ (স)-কে 'আল-আমিন' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সততা ও বিশ্বস্ততার ধারক হওয়ায় মহানবি (স)-কে আল আমিন বলা হয়। 'আল আমিন' শব্দের অর্থ বিশ্বাসী। মহানবি (স)- ছোটবেলা থেকেই এ গুণটির অধিকারী ছিলেন। তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। তাই সবাই তাঁকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করত এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখত। এ মহান গুণের জন্য তাঁকে সবাই 'আল আমিন' বলে ডাকত।
উদ্দীপকের আশরাফ সাহেব মহানবি (স) এর কোন উপদেশ মেনে চললে অধীনস্তদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণের উপদেশটি মেনে চললে আশরাফ সাহেব অধীনদের প্রতি বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না। ১০ম হিজরির ৯ জিলহজ (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) মহানবি (স) বিশ্বমানবতার জীবন পরিচালনার সার্বিক নির্দেশনাস্বরূপ মক্কার আরাফা ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। এ ভাষণে তিনি মানবজাতির সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সার্বিক উপদেশ প্রদান করেন। অধীন বা দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারও ছিল এ ভাষণের একটি উপদেশ। কিন্তু আশরাফ সাহেব এ নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন। আশরাফ সাহেব তার অধীন ড্রাইভার, পরিচারিকা, বাবুর্চির সাথে সমতাভিত্তিক আচরণ করেন না। তিনি তাদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের চিকিৎসা, পোশাক, বাসস্থানের ব্যাপারেও তিনি উদাসীন। অথচ বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেছেন, 'দাস- দাসীদের সাথে সদয় ব্যবহার করো। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করো না। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে, তাদেরও তাই পরাবে- ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতো মানুষ।' রাসুল (স)-এর এ নির্দেশ মেনে চললে আশরাফ সাহেব তার অধীন কর্মচারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ করতে পারতেন না।
উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স) এর বিদায় হজের ভাষণের এ সংক্রান্ত নির্দেশাবলির পরিপন্থি। উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স)- এর বিদায় হজের ভাষণের এ সংক্রান্ত নির্দেশনার পরিপন্থি। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানবজাতির জীবন পরিচালনা সার্বিক দিকনির্দেশনা। এ ভাষণে মানবজাতির মুক্তির নির্দেশনা দিতে গিয়ে রাসুল (স) বলেন 'তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।' কিন্তু জনাব আশরাফ এ নির্দেশ অমান্য করেছেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। তার এ কর্মকান্ড ইসলাম তথা রাসুল (স)-এর নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ ইসলাম নারীর সবধরনের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূল (স)ও বিদায় হজের ভাষণে স্ত্রীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে তাদের সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য হলো ইসলামের এ নির্দেশ মেনে চলে নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আশরাফ সাহেবের বাসায় সবসময় দুই ধরনের রান্না হয়। ভালোমানের রান্না হয় তার পরিবারের জন্য, আর নিম্নমানের খাবার তৈরি হয় ড্রাইভার, বাবুর্চি আর পরিচারিকাদের জন্য। তাদের চিকিৎসা, বাসস্থান ও ভালো পোশাকেরও সুব্যবস্থা নাই। আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথেও সবসময় দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। এসব নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে।

Dhaka · 2017

মহানবি (স) কত খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

উত্তর

মহানবি (স) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
মুহাম্মদ (স)-কে 'আল-আমিন' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সততা ও বিশ্বস্ততার ধারক হওয়ায় মহানবি (স)-কে আল আমিন বলা হয়। 'আল আমিন' শব্দের অর্থ বিশ্বাসী। মহানবি (স)- ছোটবেলা থেকেই এ গুণটির অধিকারী ছিলেন। তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। তাই সবাই তাঁকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করত এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখত। এ মহান গুণের জন্য তাঁকে সবাই 'আল আমিন' বলে ডাকত।
উদ্দীপকের আশরাফ সাহেব মহানবি (স) এর কোন উপদেশ মেনে চললে অধীনস্তদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণের উপদেশটি মেনে চললে আশরাফ সাহেব অধীনদের প্রতি বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না। ১০ম হিজরির ৯ জিলহজ (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) মহানবি (স) বিশ্বমানবতার জীবন পরিচালনার সার্বিক নির্দেশনাস্বরূপ মক্কার আরাফা ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। এ ভাষণে তিনি মানবজাতির সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সার্বিক উপদেশ প্রদান করেন। অধীন বা দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারও ছিল এ ভাষণের একটি উপদেশ। কিন্তু আশরাফ সাহেব এ নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন। আশরাফ সাহেব তার অধীন ড্রাইভার, পরিচারিকা, বাবুর্চির সাথে সমতাভিত্তিক আচরণ করেন না। তিনি তাদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের চিকিৎসা, পোশাক, বাসস্থানের ব্যাপারেও তিনি উদাসীন। অথচ বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেছেন, 'দাস- দাসীদের সাথে সদয় ব্যবহার করো। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করো না। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে, তাদেরও তাই পরাবে- ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতো মানুষ।' রাসুল (স)-এর এ নির্দেশ মেনে চললে আশরাফ সাহেব তার অধীন কর্মচারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ করতে পারতেন না।
উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স) এর বিদায় হজের ভাষণের এ সংক্রান্ত নির্দেশাবলির পরিপন্থি। উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স)- এর বিদায় হজের ভাষণের এ সংক্রান্ত নির্দেশনার পরিপন্থি। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানবজাতির জীবন পরিচালনা সার্বিক দিকনির্দেশনা। এ ভাষণে মানবজাতির মুক্তির নির্দেশনা দিতে গিয়ে রাসুল (স) বলেন 'তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।' কিন্তু জনাব আশরাফ এ নির্দেশ অমান্য করেছেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। তার এ কর্মকান্ড ইসলাম তথা রাসুল (স)-এর নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ ইসলাম নারীর সবধরনের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূল (স)ও বিদায় হজের ভাষণে স্ত্রীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে তাদের সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য হলো ইসলামের এ নির্দেশ মেনে চলে নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিজ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এবং চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হানাহানি ও লুটতরাজ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে রহমতপুর এলাকার কয়েকজন যুবক ঈমান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সমিতি বা সংঘ গড়ে তোলেন। তাদের এই উদ্যোগ সফল হয়।

Rajshahi · 2018

কত সালে মক্কা বিজয় হয়েছিল?

উত্তর

৬৩০ সালে মক্কা বিজয় হয়েছিল।
'বায়তুল মাল' কী? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

বায়তুল মাল বলতে ইসলামি রাষ্ট্রের সরকারি কোষাগারকে বোঝায়। ইসলামি রাষ্ট্রের সব অর্থ এক স্থানে জমা থাকে। রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরিচালনায় এ অর্থ ব্যয় করা হয়। রাষ্ট্রের বাৎসরিক ব্যয় নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত অর্থ গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রের সমগ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এ সম্পদের ওপর নির্ভর করে। এ ধরনের রাষ্ট্রীয় কোষাগারই বায়তুল মাল নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের সমিতি প্রাচীন আরবের কোন সংগঠনকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সমিতিটি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর প্রণীত মদিনা সনদকে নির্দেশ করে। মদিনা সনদকে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয়। মদিনায় বসবাসরত বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সদ্ভাব প্রতিষ্ঠা এবং তা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে হযরত মুহাম্মদ (স) এ ঐতিহাসিক সনদ প্রণয়ন করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত শাসনতন্ত্রে সব জাতি-ধর্মের মানুষের ন্যায্য অধিকার লাভের প্রতীক এই মদিনা সনদেরই প্রতিফলন ঘটেছে। উদ্দীপকে উল্লেখিত নিজ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এবং চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হানাহানি ও লুটতরাজ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে রহমতপুর এলাকার কয়েকজন যুবক ঈমান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সমিতি বা সংঘ গড়ে তোলেন। তাদের এই উদ্যোগ সফল হয়। একইভাবে মহানবি (স) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরতের পর সেখানে বসবাসরত ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিকসহ সব জাতি-ধর্মের মানুষের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের নীতি গ্রহণ করেন। মদিনাকে একটি আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য তিনি একটি সনদ প্রণয়ন করেন, যা ইসলাম তথা বিশ্ব ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। এ সনদে ৪৭টি ধারা ছিল। ধারাগুলো ছিল মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অধিকারের রক্ষাকবচ। এ সনদে মদিনার সব সম্প্রদায়কে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার অধিকার দেওয়া হয়। রক্তপাত, হত্যা, বলাৎকার অপরাধমূলক কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দুর্বল, অসহায় মানুষকে সর্বতোভাবে সাহায্য করার আহ্বান জানানো হয়। এসব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সমিতিটি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর প্রণীত মদিনা সনদকে নির্দেশ করে।
উক্ত সমিতির কার্যাবলি সম্পাদনে মহানবি (স)-এর কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো।

উত্তর

মহানবি (স)-এর উক্ত পদক্ষেপ অর্থাৎ মদিনা সনদের ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী মদিনা রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল। মুহাম্মদ (স)-এর প্রণীত মদিনা সনদে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সদ্ভাব প্রতিষ্ঠার মহান আদর্শ বর্ণিত হয়েছে। এতে সবার অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের যাবতীয় দিকনির্দেশনা রয়েছে। এ সনদই ছিল শক্তিশালী মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি। মদিনা সনদ মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে হিংসা, বিদ্বেষ ও কলহের অবসান ঘটায়। অসাম্প্রদায়িক চেতনার এ সুমহান শিক্ষা উদ্দীপকে বর্ণিত রহমতপুর এলাকার সমিতিটিতেও দেখা যায়। নিজ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এবং চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হানাহানি ও লুটতরাজ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে রহমতপুর এলাকার কয়েকজন যুবক ঈমান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সমিতি বা সংঘ গড়ে তোলেন। তাদের এই উদ্যোগ সফল হয়। মদিনা সনদও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করে অনন্য রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখে। এ সনদ পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত মদিনাবাসীর মধ্যে শান্তি বয়ে আনে। মদিনার বিবদমান আউস ও খাজরাজ গোত্রদ্বয়ের মিলন এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এ সনদের মাধ্যমে মদিনায় দীর্ঘসময় ধরে চলা বুয়াসের যুদ্ধের অবসান হয় এবং রক্তপাতের পরিবর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মদিনাবাসী একটি সুশৃঙ্খল জাতিতে পরিণত হয়। মদিনাবাসীর সহায়তায় মহানবি (স) বিভিন্ন যুদ্ধে জয়লাভ করে আরবের বুকে মদিনাকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হন। পরবর্তীকালে খুলাফায়ে রাশেদিনের সময় এটি একটি বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয় । উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, মদিনা সনদই ছিল শক্তিশালী মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নিজ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এবং চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হানাহানি ও লুটতরাজ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে রহমতপুর এলাকার কয়েকজন যুবক ঈমান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সমিতি বা সংঘ গড়ে তোলেন। তাদের এই উদ্যোগ সফল হয়।

Rajshahi · 2018

কত সালে মক্কা বিজয় হয়েছিল?

উত্তর

৬৩০ সালে মক্কা বিজয় হয়েছিল।
'বায়তুল মাল' কী? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

বায়তুল মাল বলতে ইসলামি রাষ্ট্রের সরকারি কোষাগারকে বোঝায়। ইসলামি রাষ্ট্রের সব অর্থ এক স্থানে জমা থাকে। রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরিচালনায় এ অর্থ ব্যয় করা হয়। রাষ্ট্রের বাৎসরিক ব্যয় নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত অর্থ গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রের সমগ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এ সম্পদের ওপর নির্ভর করে। এ ধরনের রাষ্ট্রীয় কোষাগারই বায়তুল মাল নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের সমিতি প্রাচীন আরবের কোন সংগঠনকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সমিতিটি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর প্রণীত মদিনা সনদকে নির্দেশ করে। মদিনা সনদকে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয়। মদিনায় বসবাসরত বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সদ্ভাব প্রতিষ্ঠা এবং তা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে হযরত মুহাম্মদ (স) এ ঐতিহাসিক সনদ প্রণয়ন করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত শাসনতন্ত্রে সব জাতি-ধর্মের মানুষের ন্যায্য অধিকার লাভের প্রতীক এই মদিনা সনদেরই প্রতিফলন ঘটেছে। উদ্দীপকে উল্লেখিত নিজ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এবং চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হানাহানি ও লুটতরাজ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে রহমতপুর এলাকার কয়েকজন যুবক ঈমান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সমিতি বা সংঘ গড়ে তোলেন। তাদের এই উদ্যোগ সফল হয়। একইভাবে মহানবি (স) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরতের পর সেখানে বসবাসরত ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিকসহ সব জাতি-ধর্মের মানুষের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের নীতি গ্রহণ করেন। মদিনাকে একটি আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য তিনি একটি সনদ প্রণয়ন করেন, যা ইসলাম তথা বিশ্ব ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। এ সনদে ৪৭টি ধারা ছিল। ধারাগুলো ছিল মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অধিকারের রক্ষাকবচ। এ সনদে মদিনার সব সম্প্রদায়কে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার অধিকার দেওয়া হয়। রক্তপাত, হত্যা, বলাৎকার অপরাধমূলক কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দুর্বল, অসহায় মানুষকে সর্বতোভাবে সাহায্য করার আহ্বান জানানো হয়। এসব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সমিতিটি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর প্রণীত মদিনা সনদকে নির্দেশ করে।
উক্ত সমিতির কার্যাবলি সম্পাদনে মহানবি (স)-এর কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো।

উত্তর

মহানবি (স)-এর উক্ত পদক্ষেপ অর্থাৎ মদিনা সনদের ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী মদিনা রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল। মুহাম্মদ (স)-এর প্রণীত মদিনা সনদে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সদ্ভাব প্রতিষ্ঠার মহান আদর্শ বর্ণিত হয়েছে। এতে সবার অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের যাবতীয় দিকনির্দেশনা রয়েছে। এ সনদই ছিল শক্তিশালী মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি। মদিনা সনদ মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে হিংসা, বিদ্বেষ ও কলহের অবসান ঘটায়। অসাম্প্রদায়িক চেতনার এ সুমহান শিক্ষা উদ্দীপকে বর্ণিত রহমতপুর এলাকার সমিতিটিতেও দেখা যায়। নিজ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এবং চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হানাহানি ও লুটতরাজ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে রহমতপুর এলাকার কয়েকজন যুবক ঈমান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সমিতি বা সংঘ গড়ে তোলেন। তাদের এই উদ্যোগ সফল হয়। মদিনা সনদও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করে অনন্য রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখে। এ সনদ পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত মদিনাবাসীর মধ্যে শান্তি বয়ে আনে। মদিনার বিবদমান আউস ও খাজরাজ গোত্রদ্বয়ের মিলন এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এ সনদের মাধ্যমে মদিনায় দীর্ঘসময় ধরে চলা বুয়াসের যুদ্ধের অবসান হয় এবং রক্তপাতের পরিবর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মদিনাবাসী একটি সুশৃঙ্খল জাতিতে পরিণত হয়। মদিনাবাসীর সহায়তায় মহানবি (স) বিভিন্ন যুদ্ধে জয়লাভ করে আরবের বুকে মদিনাকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হন। পরবর্তীকালে খুলাফায়ে রাশেদিনের সময় এটি একটি বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয় । উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, মদিনা সনদই ছিল শক্তিশালী মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মিয়ানমার শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক অত্যাচার, নির্যাতন, লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও ঘরবাড়ি পোড়ানোর শিকার হয়ে প্রায় ৬ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সরকার মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা দিয়ে সহযোগিতা করছে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীও তাদের ত্রাণ বিতরণ করছে।

Rajshahi · 2018

মদিনার পূর্ব নাম কী?

উত্তর

মদিনার পূর্ব নাম ইয়াসরিব।
'মেরাজ' বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মেরাজ বলতে মুহাম্মদ (স)- এর ঊর্ধ্বাকাশে গিয়ে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভের ঘটনাকে বোঝায়। 'মেরাজ' অর্থ ঊর্ধ্বগমন। ৬২০ খ্রিষ্টাব্দে আল্লাহ তায়ালা ২৭ রজব রাতে মহানবি (স)-কে তাঁর গৃহ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্ত আকাশ ভেদ করে স্বীয় আরশে আজিমে নিয়ে বেহেশত, দোজখসহ সৃষ্টির রহস্যাবলি দেখিয়ে ইসলামের কতিপয় মৌলিক বিষয়াবলি প্রদান করে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে দিয়ে যান। এই সময়েই মুসলমানদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজের বিধান করা হয়। এই ঊর্ধ্ব গমনই ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় 'মেরাজ' নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ইসলামের ইতিহাসের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় গ্রহণের সাথে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম ঘটনা হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সাদৃশ্য রয়েছে। মানবতার মুক্তির দূত মহানবি (স) নবুয়ত লাভের পর মক্কাবাসীর কাছে তাওহিদের বাণী প্রচার শুরু করেন। এতে মক্কার পৌত্তলিক কুরাইশরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁর ওপর অত্যাচার, নির্যাতন শুরু করে। কুরাইশদের অত্যাচারের মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেলে হযরত আবু বকর (রা) কে সাথে নিয়ে তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন । উদ্দীপকেও এ ঘটনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের বর্ণনানুযায়ী, মিয়ানমার শাসকগোষ্ঠীর অবর্ণনীয় অত্যাচার- নির্যাতনে বাধ্য হয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানরা নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন তাদেরকে সহায়তা করছে। অনুরূপভাবে মহানবি (স) কুরাইশদের অত্যাচার- নির্যাতনের প্রেক্ষিতেই মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। তিনি মক্কায় ইসলাম প্রচার শুরু করলে মক্কার কুরাইশরা তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু করে। তাঁকে পাগল বলে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে থাকে। এমনকি তারা মহানবি (স) কে হত্যার পরিকল্পনা করে। ফলে মহানবি (স) আল্লাহর নির্দেশে মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যান। আর এ- হিজরতের মাধ্যমে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। কেননা মদিনাবাসী তাঁকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বরণ করে নেয়। এরপর ইসলাম দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করে এবং শেষ পর্যন্ত মহানবি (স) মদিনায় একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তাই বলা যায়, অত্যাচার-নির্যাতনের প্রেক্ষিতে নিজ দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়া এবং সে দেশের সহযোগিতা লাভের দিক দিয়ে উদ্দীপকের রোহিঙ্গাদের 'ঘটনা ও হিজরতের ঘটনার মধ্যে মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের আলোকে মদিনার মুহাজির ও আনসার সম্প্রদায়ের অবদান মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সহায়তা দান মদিনার মুহাজির ও আনসার সম্প্রদায়ের অবদানের সাথে তুলনীয়। জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে যারা হিজরত করেন তাদেরকে মুহাজির এবং যারা হিজরতকারীদের সর্বতোভাবে সাহায্য ও আশ্রয় দান করেন তারা আনসার নামে পরিচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে আনসার ও মুহাজিরদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের ত্যাগ, তিতিক্ষা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সাহায্য দানের ঘটনায়ও মুহাজির ও আনসারদের অবদানের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে আসা এবং বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের তাদের সহযোগিতা প্রদান যথাক্রমে মুহাজির ও আনসারদের ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। ইসলাম প্রচারের শুরুর দিকে মুহাজির ও আনসারদের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। মুহাজিররা জন্মভূমি ও আত্মীয়-স্বজনের মায়া কাটিয়ে মদিনায় হিজরত করেন। তারা নিজেদের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে ইসলাম ও রাসুল (স)-এর সেবায় নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেন। এছাড়া আনসাররা তাদের জানমালসহ সবকিছু ইসলামের জন্য উৎসর্গ করেন। মদিনায় আগত মুহাজিরদের জন্য তারা নিজের অর্থ, সম্পদ ও বাড়ি-ঘর ভাগ করে দেন। তাদের নজিরবিহীন কুরবানি ও সাহায্যে ইসলামের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। ইসলাম ও রাসুল (স)-এর সেবায় তারা যে সততা ও উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, মানব ইতিহাসে বিরল। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে মুহাজিরদের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং আনসারদের সাহায্য-সহযোগিতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আজকের বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথকে প্রশস্ত করেছিল। তাদের অবদান ছাড়া ইসলামের এ পর্যায়ে পৌঁছানো দুঃসাধ্য হতো।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মিয়ানমার শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক অত্যাচার, নির্যাতন, লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও ঘরবাড়ি পোড়ানোর শিকার হয়ে প্রায় ৬ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সরকার মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা দিয়ে সহযোগিতা করছে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীও তাদের ত্রাণ বিতরণ করছে।

Rajshahi · 2018

মদিনার পূর্ব নাম কী?

উত্তর

মদিনার পূর্ব নাম ইয়াসরিব।
'মেরাজ' বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মেরাজ বলতে মুহাম্মদ (স)- এর ঊর্ধ্বাকাশে গিয়ে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভের ঘটনাকে বোঝায়। 'মেরাজ' অর্থ ঊর্ধ্বগমন। ৬২০ খ্রিষ্টাব্দে আল্লাহ তায়ালা ২৭ রজব রাতে মহানবি (স)-কে তাঁর গৃহ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্ত আকাশ ভেদ করে স্বীয় আরশে আজিমে নিয়ে বেহেশত, দোজখসহ সৃষ্টির রহস্যাবলি দেখিয়ে ইসলামের কতিপয় মৌলিক বিষয়াবলি প্রদান করে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে দিয়ে যান। এই সময়েই মুসলমানদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজের বিধান করা হয়। এই ঊর্ধ্ব গমনই ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় 'মেরাজ' নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ইসলামের ইতিহাসের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় গ্রহণের সাথে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম ঘটনা হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সাদৃশ্য রয়েছে। মানবতার মুক্তির দূত মহানবি (স) নবুয়ত লাভের পর মক্কাবাসীর কাছে তাওহিদের বাণী প্রচার শুরু করেন। এতে মক্কার পৌত্তলিক কুরাইশরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁর ওপর অত্যাচার, নির্যাতন শুরু করে। কুরাইশদের অত্যাচারের মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেলে হযরত আবু বকর (রা) কে সাথে নিয়ে তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন । উদ্দীপকেও এ ঘটনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের বর্ণনানুযায়ী, মিয়ানমার শাসকগোষ্ঠীর অবর্ণনীয় অত্যাচার- নির্যাতনে বাধ্য হয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানরা নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন তাদেরকে সহায়তা করছে। অনুরূপভাবে মহানবি (স) কুরাইশদের অত্যাচার- নির্যাতনের প্রেক্ষিতেই মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। তিনি মক্কায় ইসলাম প্রচার শুরু করলে মক্কার কুরাইশরা তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু করে। তাঁকে পাগল বলে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে থাকে। এমনকি তারা মহানবি (স) কে হত্যার পরিকল্পনা করে। ফলে মহানবি (স) আল্লাহর নির্দেশে মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যান। আর এ- হিজরতের মাধ্যমে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। কেননা মদিনাবাসী তাঁকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বরণ করে নেয়। এরপর ইসলাম দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করে এবং শেষ পর্যন্ত মহানবি (স) মদিনায় একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তাই বলা যায়, অত্যাচার-নির্যাতনের প্রেক্ষিতে নিজ দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়া এবং সে দেশের সহযোগিতা লাভের দিক দিয়ে উদ্দীপকের রোহিঙ্গাদের 'ঘটনা ও হিজরতের ঘটনার মধ্যে মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের আলোকে মদিনার মুহাজির ও আনসার সম্প্রদায়ের অবদান মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সহায়তা দান মদিনার মুহাজির ও আনসার সম্প্রদায়ের অবদানের সাথে তুলনীয়। জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে যারা হিজরত করেন তাদেরকে মুহাজির এবং যারা হিজরতকারীদের সর্বতোভাবে সাহায্য ও আশ্রয় দান করেন তারা আনসার নামে পরিচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে আনসার ও মুহাজিরদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের ত্যাগ, তিতিক্ষা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সাহায্য দানের ঘটনায়ও মুহাজির ও আনসারদের অবদানের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে আসা এবং বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের তাদের সহযোগিতা প্রদান যথাক্রমে মুহাজির ও আনসারদের ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। ইসলাম প্রচারের শুরুর দিকে মুহাজির ও আনসারদের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। মুহাজিররা জন্মভূমি ও আত্মীয়-স্বজনের মায়া কাটিয়ে মদিনায় হিজরত করেন। তারা নিজেদের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে ইসলাম ও রাসুল (স)-এর সেবায় নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেন। এছাড়া আনসাররা তাদের জানমালসহ সবকিছু ইসলামের জন্য উৎসর্গ করেন। মদিনায় আগত মুহাজিরদের জন্য তারা নিজের অর্থ, সম্পদ ও বাড়ি-ঘর ভাগ করে দেন। তাদের নজিরবিহীন কুরবানি ও সাহায্যে ইসলামের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। ইসলাম ও রাসুল (স)-এর সেবায় তারা যে সততা ও উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, মানব ইতিহাসে বিরল। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে মুহাজিরদের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং আনসারদের সাহায্য-সহযোগিতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আজকের বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথকে প্রশস্ত করেছিল। তাদের অবদান ছাড়া ইসলামের এ পর্যায়ে পৌঁছানো দুঃসাধ্য হতো।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

এভারগ্রিন কলেজের শিক্ষার্থীরা সুন্দরবনে বেড়াতে যায়। অধ্যক্ষ তাদেরকে শ্রেণি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকতে বলেন এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের অনুমতি ব্যতীত শিক্ষার্থীকে বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের মধ্যে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী শ্রেণি শিক্ষককে না জানিয়ে বনে প্রবেশ করে এবং বাঘের শিকারে পরিণত হয়। এ দুঃখজনক ঘটনাটি ভ্রমণের আনন্দ কেড়ে নেয় এবং শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি করে। সবাই আপনজন হারানোর বেদনা নিয়ে বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করে। শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে বড়দের নির্দেশ সর্বদা পালনীয়। এ শিক্ষা তাদেরকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করে।

Dhaka · 2018

বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের সেনাপতি কে ছিলেন?

উত্তর

বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের সেনাপতি ছিলেন আবু জেহেল।
হুদায়বিয়ার সন্ধিকে 'প্রকাশ্য বিজয়' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

হুদায়বিয়ার সন্ধি ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য বিশেষ সাফল্য বয়ে আনায় এটিকে 'প্রকাশ্য বিজয়' বলা হয়। ইসলামের ইতিহাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। আপাতদৃষ্টিতে এ সন্ধির শর্তগুলো মুসলমানদের স্বার্থের প্রতিকূলে বলে মনে হলেও বাস্তবে এর ফলাফল মুসলমানদের জন্য অনুকূল ছিল। হুদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমে কুরাইশরা মহানবি (স)কে মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মেনে নেয়। ফলে মুসলমানরা একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। দশ বছরের জন্য যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হওয়ায় রাসুল (স) ইসলাম প্রচারে মনোযোগ দিতে পারেন। আবার হুদায়বিয়ার সন্ধি ভঙ্গের কারণেই মুসলমানরা মক্কায় অভিযান চালিয়ে তা জয় করে। এসব কারণে এ সন্ধিকে মুসলমানদের জন্য 'ফাতহুম মুবিন' বা প্রকাশ্য বিজয় বলা হয়।
উদ্দীপকটি ইসলামের ইতিহাসের কোন যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উহুদ যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধে জয়লাভের জন্য সেনাপতির নির্দেশনা অনুসরণ এবং আন্তরিকতার সাথে যুদ্ধ করা আবশ্যক। নেতৃত্বের আদেশ অমান্য করার কারণেই উহুদ যুদ্ধে মুসলমানরা পরাজিত হয়েছিল। শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, যেকোনো দলীয় কাজে ব্যর্থতা বা বিপর্যয় এড়িয়ে সফলতা লাভের জন্য কর্তৃপক্ষ বা নেতার আদেশ মেনে চলা আবশ্যক। উদ্দীপকে আলোচিত ঘটনায় এ কথার সত্যতা পাওয়া যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, সুন্দরবন ভ্রমণরত এভারগ্রিন কলেজের শিক্ষার্থীদের শ্রেণি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকতে বলা হয়েছিল। অধ্যক্ষ শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের বনের ভেতর প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষার্থী এ আদেশ অমান্য করে বনে প্রবেশ করে এবং বাঘের শিকারে পরিণত হয়। ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কুরাইশ এবং মদিনার মুসলমানের মধ্যে সংঘটিত উহুদ যুদ্ধেও এরূপ বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে। মুসলিম সেনা শিবিরের একপাশে একটি সংকীর্ণ গিরিপথ ছিল । ঐ পথে শত্রুর আক্রমণের সম্ভাবনা থাকায় রাসুল (স) সেটি পাহাড়া দেওয়ার জন্য ৫০ জন তীরন্দাজ নিযুক্ত করেন। তিনি তাদের কোনো অবস্থাতেই গিরিপথ ত্যাগ না করার নির্দেশ দেন । কিন্তু যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে মুসলমানদের বিজয় দেখে গিরিপথ রক্ষীরা তাদের অবস্থান ত্যাগ করে গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন ঐ অরক্ষিত গিরিপথ দিয়ে কুরাইশ সেনাপতি খালিদ -বিন ওয়ালিদ পাল্টা আক্রমণ চালান। ফলে মুসলমানরা পরাজিত হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উহুদ যুদ্ধের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের মতো উক্ত যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই কি মুসলমানদেরকে অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, উক্ত যুদ্ধ অর্থাৎ উহুদ যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই মুসলমানদেরকে অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল। উহুদ যুদ্ধে বীর বিক্রমে যুদ্ধ করা সত্ত্বেও নেতার নির্দেশ না মানার কারণে মুসলিম বাহিনী পরাজিত হয়। এ যুদ্ধ ছিল মুসলমানদের জন্য ইমান ও ধৈর্যের এক অগ্নিপরীক্ষা। ঐতিহাসিক এম ওয়াট বলেন, উহুদের যুদ্ধে এ চরম অবস্থায় না পড়লে মুসলমানরা বুঝতে পারত না, তারা কতটুকু খাঁটি। এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে মুসলমানরা পরে একটি সুশৃঙ্খল এবং অপরাজেয় সামরিক জাতিতে পরিণত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত এভারগ্রিন কলেজের কিছু শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের নির্দেশ অমান্য করে মারাত্মক বিপদে পড়ে। অন্য শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে বড়দের নির্দেশ সর্বদা পালনীয়। এ শিক্ষা তাদেরকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করে। একই ভাবে উহুদ যুদ্ধে গিরিপথ রক্ষায় নিয়োজিত মুসলিম সৈন্যরা তাদের দায়িত্বে অবহেলা করায় মুসলিম বাহিনী পরাজিত হয়। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে নেতার আদেশ অগ্রাহ্য করা এবং বিশৃঙ্খল হওয়া যে কতো বড় বিপদজনক, মুসলমানরা তা মর্মে মর্মে অনুভব করেন। পরবর্তীকালে আর কোনো যুদ্ধেই তারা এরূপ মারাত্মক ভুল করেনি। উহুদ যুদ্ধের শিক্ষা পরবর্তী যুদ্ধসমূহে (খন্দক, খাইবার, মুতা প্রভৃতি) মুসলমানদের জয়লাভ করার জন্য বেশ সহায়ক হয়েছিল। উহুদ যুদ্ধ মুসলমানদের নেতৃত্বের আদেশ মেনে চলার শিক্ষা দেয়। এ মহান শিক্ষা কাজে লাগিয়ে তারা পুরো আরব উপদ্বীপ জয় করার পর শক্তিশালী সাসানীয় এবং বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য করায়ত্ত করেছিল। সুতরাং বলা যায়, উহুদ যুদ্ধের শিক্ষা মুসলমানদের অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

এভারগ্রিন কলেজের শিক্ষার্থীরা সুন্দরবনে বেড়াতে যায়। অধ্যক্ষ তাদেরকে শ্রেণি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকতে বলেন এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের অনুমতি ব্যতীত শিক্ষার্থীকে বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের মধ্যে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী শ্রেণি শিক্ষককে না জানিয়ে বনে প্রবেশ করে এবং বাঘের শিকারে পরিণত হয়। এ দুঃখজনক ঘটনাটি ভ্রমণের আনন্দ কেড়ে নেয় এবং শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি করে। সবাই আপনজন হারানোর বেদনা নিয়ে বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করে। শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে বড়দের নির্দেশ সর্বদা পালনীয়। এ শিক্ষা তাদেরকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করে।

Dhaka · 2018

বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের সেনাপতি কে ছিলেন?

উত্তর

বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের সেনাপতি ছিলেন আবু জেহেল।
হুদায়বিয়ার সন্ধিকে 'প্রকাশ্য বিজয়' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

হুদায়বিয়ার সন্ধি ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য বিশেষ সাফল্য বয়ে আনায় এটিকে 'প্রকাশ্য বিজয়' বলা হয়। ইসলামের ইতিহাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। আপাতদৃষ্টিতে এ সন্ধির শর্তগুলো মুসলমানদের স্বার্থের প্রতিকূলে বলে মনে হলেও বাস্তবে এর ফলাফল মুসলমানদের জন্য অনুকূল ছিল। হুদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমে কুরাইশরা মহানবি (স)কে মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মেনে নেয়। ফলে মুসলমানরা একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। দশ বছরের জন্য যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হওয়ায় রাসুল (স) ইসলাম প্রচারে মনোযোগ দিতে পারেন। আবার হুদায়বিয়ার সন্ধি ভঙ্গের কারণেই মুসলমানরা মক্কায় অভিযান চালিয়ে তা জয় করে। এসব কারণে এ সন্ধিকে মুসলমানদের জন্য 'ফাতহুম মুবিন' বা প্রকাশ্য বিজয় বলা হয়।
উদ্দীপকটি ইসলামের ইতিহাসের কোন যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উহুদ যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধে জয়লাভের জন্য সেনাপতির নির্দেশনা অনুসরণ এবং আন্তরিকতার সাথে যুদ্ধ করা আবশ্যক। নেতৃত্বের আদেশ অমান্য করার কারণেই উহুদ যুদ্ধে মুসলমানরা পরাজিত হয়েছিল। শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, যেকোনো দলীয় কাজে ব্যর্থতা বা বিপর্যয় এড়িয়ে সফলতা লাভের জন্য কর্তৃপক্ষ বা নেতার আদেশ মেনে চলা আবশ্যক। উদ্দীপকে আলোচিত ঘটনায় এ কথার সত্যতা পাওয়া যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, সুন্দরবন ভ্রমণরত এভারগ্রিন কলেজের শিক্ষার্থীদের শ্রেণি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকতে বলা হয়েছিল। অধ্যক্ষ শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের বনের ভেতর প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষার্থী এ আদেশ অমান্য করে বনে প্রবেশ করে এবং বাঘের শিকারে পরিণত হয়। ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কুরাইশ এবং মদিনার মুসলমানের মধ্যে সংঘটিত উহুদ যুদ্ধেও এরূপ বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে। মুসলিম সেনা শিবিরের একপাশে একটি সংকীর্ণ গিরিপথ ছিল । ঐ পথে শত্রুর আক্রমণের সম্ভাবনা থাকায় রাসুল (স) সেটি পাহাড়া দেওয়ার জন্য ৫০ জন তীরন্দাজ নিযুক্ত করেন। তিনি তাদের কোনো অবস্থাতেই গিরিপথ ত্যাগ না করার নির্দেশ দেন । কিন্তু যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে মুসলমানদের বিজয় দেখে গিরিপথ রক্ষীরা তাদের অবস্থান ত্যাগ করে গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন ঐ অরক্ষিত গিরিপথ দিয়ে কুরাইশ সেনাপতি খালিদ -বিন ওয়ালিদ পাল্টা আক্রমণ চালান। ফলে মুসলমানরা পরাজিত হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উহুদ যুদ্ধের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের মতো উক্ত যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই কি মুসলমানদেরকে অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, উক্ত যুদ্ধ অর্থাৎ উহুদ যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই মুসলমানদেরকে অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল। উহুদ যুদ্ধে বীর বিক্রমে যুদ্ধ করা সত্ত্বেও নেতার নির্দেশ না মানার কারণে মুসলিম বাহিনী পরাজিত হয়। এ যুদ্ধ ছিল মুসলমানদের জন্য ইমান ও ধৈর্যের এক অগ্নিপরীক্ষা। ঐতিহাসিক এম ওয়াট বলেন, উহুদের যুদ্ধে এ চরম অবস্থায় না পড়লে মুসলমানরা বুঝতে পারত না, তারা কতটুকু খাঁটি। এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে মুসলমানরা পরে একটি সুশৃঙ্খল এবং অপরাজেয় সামরিক জাতিতে পরিণত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত এভারগ্রিন কলেজের কিছু শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের নির্দেশ অমান্য করে মারাত্মক বিপদে পড়ে। অন্য শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে বড়দের নির্দেশ সর্বদা পালনীয়। এ শিক্ষা তাদেরকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করে। একই ভাবে উহুদ যুদ্ধে গিরিপথ রক্ষায় নিয়োজিত মুসলিম সৈন্যরা তাদের দায়িত্বে অবহেলা করায় মুসলিম বাহিনী পরাজিত হয়। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে নেতার আদেশ অগ্রাহ্য করা এবং বিশৃঙ্খল হওয়া যে কতো বড় বিপদজনক, মুসলমানরা তা মর্মে মর্মে অনুভব করেন। পরবর্তীকালে আর কোনো যুদ্ধেই তারা এরূপ মারাত্মক ভুল করেনি। উহুদ যুদ্ধের শিক্ষা পরবর্তী যুদ্ধসমূহে (খন্দক, খাইবার, মুতা প্রভৃতি) মুসলমানদের জয়লাভ করার জন্য বেশ সহায়ক হয়েছিল। উহুদ যুদ্ধ মুসলমানদের নেতৃত্বের আদেশ মেনে চলার শিক্ষা দেয়। এ মহান শিক্ষা কাজে লাগিয়ে তারা পুরো আরব উপদ্বীপ জয় করার পর শক্তিশালী সাসানীয় এবং বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য করায়ত্ত করেছিল। সুতরাং বলা যায়, উহুদ যুদ্ধের শিক্ষা মুসলমানদের অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো