হ্যাঁ, উক্ত যুদ্ধ অর্থাৎ উহুদ যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই মুসলমানদেরকে অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল।
উহুদ যুদ্ধে বীর বিক্রমে যুদ্ধ করা সত্ত্বেও নেতার নির্দেশ না মানার কারণে মুসলিম বাহিনী পরাজিত হয়। এ যুদ্ধ ছিল মুসলমানদের জন্য ইমান ও ধৈর্যের এক অগ্নিপরীক্ষা। ঐতিহাসিক এম ওয়াট বলেন, উহুদের যুদ্ধে এ চরম অবস্থায় না পড়লে মুসলমানরা বুঝতে পারত না, তারা কতটুকু খাঁটি। এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে মুসলমানরা পরে একটি সুশৃঙ্খল এবং অপরাজেয় সামরিক জাতিতে পরিণত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত এভারগ্রিন কলেজের কিছু শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের নির্দেশ অমান্য করে মারাত্মক বিপদে পড়ে। অন্য শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে বড়দের নির্দেশ সর্বদা পালনীয়। এ শিক্ষা তাদেরকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করে। একই ভাবে উহুদ যুদ্ধে গিরিপথ রক্ষায় নিয়োজিত মুসলিম সৈন্যরা তাদের দায়িত্বে অবহেলা করায় মুসলিম বাহিনী পরাজিত হয়। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে নেতার আদেশ অগ্রাহ্য করা এবং বিশৃঙ্খল হওয়া যে কতো বড় বিপদজনক, মুসলমানরা তা মর্মে মর্মে অনুভব করেন। পরবর্তীকালে আর কোনো যুদ্ধেই তারা এরূপ মারাত্মক ভুল করেনি। উহুদ যুদ্ধের শিক্ষা পরবর্তী যুদ্ধসমূহে (খন্দক, খাইবার, মুতা প্রভৃতি) মুসলমানদের জয়লাভ করার জন্য বেশ সহায়ক হয়েছিল।
উহুদ যুদ্ধ মুসলমানদের নেতৃত্বের আদেশ মেনে চলার শিক্ষা দেয়। এ মহান শিক্ষা কাজে লাগিয়ে তারা পুরো আরব উপদ্বীপ জয় করার পর শক্তিশালী সাসানীয় এবং বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য করায়ত্ত করেছিল। সুতরাং বলা যায়, উহুদ যুদ্ধের শিক্ষা মুসলমানদের অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল।