খন্দকের যুদ্ধে মহানবি (স)-এর গৃহীত রণকৌশল অর্থাৎ মুসলমানদের পরিখা খনন করার মতো কৌশল যুদ্ধ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৬২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মার্চ কুরাইশ, ইহুদি ও বেদুইনদের সম্মিলিত শক্তি উহুদ যুদ্ধের বিজয়ী সেনাপতি আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মদিনাকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়। তাদের সৈন্যসংখ্যা ছিল ১০,০০০। এ সমন্বিত শক্তির মোকাবিলা করার জন্য হযরত মুহম্মদ (স) মাত্র ৩,০০০ সৈন্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণের জন্য মহানবি (স) সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করেন। বৈঠকে পারস্যের জনৈক মুসলমান সালমান ফারসির পরামর্শক্রমে মদিনা নগরীর অরক্ষিত স্থানসমূহে গভীর পরিখা খনন করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মহানবি (স) স্বয়ং এ কাজে অংশ নেন।
৬২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মার্চ মক্কার যৌথবাহিনী মদিনায় হামলা চালায়। কিন্তু মদিনার অভিনব আত্মরক্ষার কৌশল দেখে তারা বিস্মিত হয়। শত চেষ্টা সত্ত্বেও পরিখা অতিক্রম করে শত্রুপক্ষ মদিনায় প্রবেশ করতে পারেনি। তাই তারা ২৭ দিন মদিনা অবরোধ করে রাখে। দীর্ঘ অবরোধের পর খাদ্যাভাব, ঝড়-বৃষ্টি, হিমেল হাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে যৌথবাহিনী অবরোধ প্রত্যাহার করে স্বদেশে ফিরে যায়। শুধু পরিখা খননের এই কৌশলের মাধ্যমে মুসলমানরা শত্রুর অস্ত্রসম থেকে রক্ষা পায়, যা ছিল মুসলমানদের জন্য অনেক বড় বিজয়। উদ্দীপকে রাশেদদের গ্রামের লোকেরা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের আক্রমণ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য গ্রামে প্রবেশের রাস্তাটি কেটে ফেলে। ফলে হানাদার বাহিনী ঐ গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এভাবে তাদের গ্রাম রক্ষা পায়। একইভাবে খন্দকের যুদ্ধের সময় মদিনার অরক্ষিত অঞ্চলগুলোতে পরিখা খনন করে। এই পরিখা অতিক্রম করে শত্রু বাহিনী সামনে সামনে এগুতে ব্যর্থ হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, যুদ্ধের সময় পরিখা খননের মতো এ ধরনের কৌশল গ্রহণ যুদ্ধ জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।