উদ্দীপকের মতো মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে মহানবি (স) জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করেছিলেন। মদিনা সনদ মহানবি (স)-এর সর্বাধিক দূরদর্শিতার ফসল। তাঁর আগে কোনো প্রশাসক বা নবি তার জাতিকে লিখিত সংবিধান দিতে পারেনি। হযরত মুহাম্মদ (স) প্রথম তাঁর লিখিত সংবিধানের ভিত্তিতে সব শ্রেণির মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন I
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ একটি মানবাধিকার সনদ প্রণয়ন করে সব মানুষকে সমমর্যাদা, অধিকার ও সমতার বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। মহানবি (স) আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে তৎকালীন সমাজের সব জাতির সমন্বয়ে এক ঐতিহাসিক সনদ প্রণয়ন করেছিলেন। মহানবি (স) প্রণীত মদিনা সনদ শতধাবিভক্ত মদিনাবাসী, মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে, হিংসা, দ্বেষ ও কলহের অবসান করে এবং বিপদে সবাই একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় । মদিনা সনদের মাধ্যমে মহানবি (স) মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টানসহ সব মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করেন। এ সনদে স্বাক্ষরকারী সকল জাতি যুদ্ধ-বিগ্রহ করা থেকে বিরত থাকার নিশ্চয়তা দেয়। ফলে মানুষের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয় । জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টিতে মদিনা সনদ এক অতুলনীয় রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে। তাছাড়া হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর মদিনা রাষ্ট্র পরিচালনার ভার অর্পিত হলে তিনি গোত্রভিত্তিক শাসনব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘোষণা করে এক আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা ও ইসলামি শাসনতন্ত্র কায়েম করেন ।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মানবাধিকার সনদের মতো মহানবি (স) প্রণীত মদিনা সনদ সব মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল ।