উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকার প্রধান কর্তৃক সংবিধান প্রণয়ন অপেক্ষা মহানবি (স) কর্তৃক গৃহীত কর্মকাণ্ড অধিক তাৎপর্যপূর্ণ।
মহানবি (স)-এর মদিনা সনদ প্রণয়ন ইসলামের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আরবের সর্বক্ষেত্রে সংস্কার সাধনে এটি অসামান্য ভূমিকা পালন করে । শুধু আরবেই নয়, মদিনা সনদ সর্বযুগের সব স্থানের রাষ্ট্র পরিচালনার অনুসরণীয় আদর্শ দলিল ।
উদ্দীপকের প্রণীত সংবিধানের ফলে মালয়েশিয়ায় নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয় । অপরপক্ষে, মদিনা সনদ প্রণয়নের ফলে মদিনার মুসলমান ও অমুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে হিংসা-বিদ্বেষ ও কলহ ভুলে বিপদের সময় সবাই একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। এতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ফলে এক সুদৃঢ় রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। মদিনা সনদের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, হযরত মুহাম্মদ (স) শুধু ধর্মপ্রচারকই নন; বরং তিনি বিশ্বের এক যুগান্তকারী বিপ্লবী শাসকও বটে। মদিনা সনদের ধারা অনুযায়ী রাসুল (স) নিজেকে বিচার বিভাগ, আইন প্রণয়ন, সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করেন। মদিনা সনদের মাধ্যমেই আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা ও ইসলামি শাসনতন্ত্র কায়েম হয়। মদিনা সনদের ধারা অনুযায়ী যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ হওয়ায় মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। মদিনা সনদে স্বাক্ষরকারী সব সম্প্রদায়কে একটি উম্মাহ বা জাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ইহুদি, খ্রিষ্টানসহ সবাই সনদের ধারাগুলো মেনে চলার অঙ্গীকার করে। ফলে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে। মদিনা সনদ প্রণয়নের পর পুরো আরবে ইসলামের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার হয়। বিভিন্ন যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে মহানবি (স) ইসলামকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
পরিশেষে বলা যায়, মদিনা সনদ ইসলাম, মুসলমান, রাষ্ট্র, সমাজ, নবি (স)-এর ক্ষেত্রে যতটা কার্যকর সুফল বয়ে আনে উদ্দীপকের সংবিধানে তা দেখা যায় না। তাই উদ্দীপকের সংবিধান অপেক্ষা মদিনা সনদ অধিক তাৎপর্যপূর্ণ