উদ্দীপকে উল্লেখিত জহির সাহেবের সাথে আমার পঠিত ধর্ম প্রচারক মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর দেশত্যাগের সাদৃশ্য রয়েছে ।
নবুয়ত লাভের পর মহানবি (স) মক্কাবাসীর কাছে তাওহিদের বাণী প্রচার শুরু করেন। এতে মক্কার পৌত্তলিক কুরাইশরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁর ওপর অত্যাচার, নির্যাতন শুরু করে। কুরাইশদের অত্যাচারের মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেলে হযরত আবু বকর (রা)-কে সাথে নিয়ে তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। উদ্দীপকের জহির সাহেবের ক্ষেত্রেও এ ঘটনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের জহির সাহেব একজন ধর্মীয় নেতা। ধর্মীয় মতাদর্শ প্রচারকে কেন্দ্র করে নিজ এলাকার অধিবাসীদের সাথে তার বৈরি সম্পর্ক তৈরি হয়। নিজ এলাকায় ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের ব্যর্থতা, এলাকাবাসী কর্তৃক নির্যাতন, আত্মরক্ষা, স্বীয় ধর্ম-সমর্থকদের নিরাপত্তা বিধান প্রভৃতি কারণে তিনি পার্শ্ববর্তী এলাকায় গমন করেন। এখানে জহির সাহেবের এরূপ কর্মকাণ্ডের সাথে মহানবি (স)-এর দেশত্যাগের সাদৃশ্য রয়েছে। কেননা, মহানবি (স)-ও এ রকম পরিস্থিতিতে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। মক্কার অভিজাত গোত্র কুরাইশরা মনে করত, ইসলামের প্রসার ও প্রভাব বৃদ্ধি পেলে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি কমে যাবে। তাই তারা মহানবি (স)-কে নিজেদের স্বার্থের প্রতিবন্ধক মনে করে তাঁর ওপর অমানবিক অত্যাচার চালায় । তারা পাথর ছুঁড়ে নবি (স)-এর শরীর রক্তাক্ত করে দেয় । নামাজের সিজদায় গেলে মহানবি (স)-এর পিঠে উটের নাড়ি-ভুঁড়ি চাপিয়ে দেয়। পাগল বলে তাঁকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এসব বাধা সত্ত্বেও মক্কায় ইসলাম দিন দিন প্রসার লাভ করলে তারা মহানবি (স)-কে হত্যার পরিকল্পনা করে। আবু জেহেলের প্রস্তাব অনুযায়ী তারা একটি হত্যাকারী দল গঠন করে। এরূপ পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ নবি (স)-কে মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরতের আদেশ দেন। এ আদেশ পেয়ে মহানবি (স) মক্কা থেকে মদিনায় যান । সুতরাং দেখা যায়, জহির সাহেবের ঘটনাটি মহানবি (স)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ।