উদ্দীপকের সমিতি প্রাচীন আরবের হিলফুল ফুজুল সংগঠনকে নির্দেশ করে।
মানবতার মুক্তির দূত মহানবি (স) ছোটবেলা থেকেই সত্যবাদী, কল্যাণকামী এবং শান্তিপ্রিয় ছিলেন। তিনি যেকোনো অন্যায়-অত্যাচার, অকল্যাণকর কর্মকাণ্ডকে ঘৃণা করতেন। আর তাই তৎকালীন আরব সমাজে বিদ্যমান অত্যাচার, অনাচার ও যুদ্ধবিগ্রহ দূর করে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি গড়ে তুলেছিলেন হিলফুল ফুজুল নামের শান্তিসংঘ। উদ্দীপকে বর্ণিত সমিতিতেও হিলফুল ফুজুলের প্রতিফলন দেখা যায় ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, রসুলপুর এলাকার কয়েকজন যুবক তাদের নিজ এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হানাহানি প্রতিরোধ করে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমিতি গঠন করে। এ সমিতিটি রাসুল (স) প্রতিষ্ঠিত হিলফুল ফুজুলকে নির্দেশ করে। কারণ উদ্দীপকের যুবকদের মতো রাসুল (স) তৎকালীন আরব সমাজে বিদ্যমান নানা দুর্নীতি, অরাজকতা, নৈরাজ্য দেখে বিচলিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে মক্কায় অনুষ্ঠিত উকাজ মেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া, 'হারবুল ফিজার' বা অন্যায় যুদ্ধের (৫৮৪খ্রি.) ভয়াবহতা রাসুল (স)-এর মনে দারুণভাবে রেখাপাত করে। দীর্ঘ পাঁচ বছর স্থায়ী এ যুদ্ধে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ যুদ্ধের বীভৎসতা দেখে রাসুল (স)-এর মন কেঁদে ওঠে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মক্কাবাসীকে এরূপ ধ্বংসযজ্ঞের হাত থেকে রক্ষার জন্য এলাকার সমমনা শান্তিপ্রিয় যুবকদের নিয়ে তিনি গঠন করেন হিলফুল ফুজুল নামে শান্তিসংঘ (৫৯০ খ্রি.)। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সমিতিটি রাসুল (স) গঠিত হিলফুল ফুজুলের প্রতিচ্ছবি।