উদ্দীপকের সংবিধান প্রণয়নের সাথে মহানবি (সা.)-এর প্রণীত মদিনা সনদের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে পরিলক্ষিত হয় দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই বাংলাদেশের প প্রতিটি ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক অধিকার রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে জনমত ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি লক্ষ রেখে একটি সংবিধান রচিত হয়। এতে নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও দায়িত্ব-কর্তব্য সংরক্ষিত হয়। এই সংবিধান অনুসারেই রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে। অনুরূপ ঘটনা মদিনা সনদের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। মহানবি (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করেন তখন মদিনার বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও অনৈক্য বিরাজমান ছিল। এছাড়া তখন মদিনার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ছিল। এ সময় আউস ও খাযরাজ নামে দুটি গোত্র পরস্পর দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত ছিল। এছাড়া মদিনায় বনু কাইনুকা, বনু নাজির ও বনু কুরায়জা নামে ইহুদিদের তিনটি শাখা পরস্পরের স্বার্থপরতা ও চক্রান্তের কারণে মদিনায় এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজমান ছিল। তারা মহানবি (সা.)-এর নেতৃত্বে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নবজীবন লাভ করে এবং মদিনায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরতের পর মহানবি (সা.) মদিনার সংহতির চিন্তা করে সেখানে বসবাসকারী পৌত্তলিক, ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং মুসলমানদের জন্য যে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করেন, তা-ই হলো 'কিতাব-আর-রাসুল বা 'সাহিফা-আর-রাসুল' সংক্ষেপে মদিনার শাসনতন্ত্র বা মদিনা সনদ।
এস. ওয়াট একে 'মদিনার সংবিধান' বলেছেন। ইবনে হিশামের। 'সিরাত' গ্রন্থানুসারে মদিনা সনদের ৪৭টি ধারা ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সাথে রাসুল (সা.) কর্তৃক প্রণীত মদিনা সনদের মিল রয়েছে।