উক্ত সন্ধি অর্থাৎ হুদায়বিয়ার সন্ধি ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বাহ্যিক দৃষ্টিতে হুদায়বিয়ার সন্ধি মুসলমানদের স্বার্থের পরিপন্থি বলে মনে হলেও দূরদৃষ্টি দিয়ে বিচার করলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, এ সন্ধি মুসলমানদের অনুকূলে সম্পাদিত হয়েছিল। ইসলামের সর্বাত্মক বিজয় সংকেত এতে লুকায়িত ছিল। সন্ধি স্বাক্ষর করে মহানবি (স) অসাধারণ প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দেন। এ চুক্তি বিশ্বে মুসলমানদের একটি স্থায়ী অবস্থান তৈরি করে। উদ্দীপকেও এ সন্ধির অপরিসীম তাৎপর্যের প্রতি ইঙ্গিত লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে শ্রীপুর ও লালপুর গ্রামবাসীর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে হুদায়বিয়ার সন্ধির কথাই বলা হয়েছে। এ সন্ধির ফলে মুসলমানরা হজ না করেই মদিনায় ফিরে যেতে বাধ্য হলেও পরবর্তী সময়ে ইসলাম বিস্তারের পথকে প্রশস্ত করেছিল। এ সন্ধির স্বাধীন ও অবাধ গতিবিধির ফলে অনেক গোত্র ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হলে ইসলামের শক্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। হযরত মুহাম্মদ (স) আরব দেশের বাইরে সিরিয়া, মিসর, পারস্য, আবিসিনিয়া প্রভৃতি দেশে এবং আরব দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গোত্রপতির কাছে দূত প্রেরণ করেন। উপরন্তু কুরাইশগণ নিরপেক্ষ হয়ে পড়ায় মহানবি (স) ইসলামের জাতশত্রু খাইবারের ইহুদিদের শাস্তি দেওয়ার সুযোগ পেলেন। এর ফলে একদিকে হযরতের ক্ষমতা বৃদ্ধি, অপরদিকে কুরাইশদের ক্ষমতা হ্রাস পেতে লাগল। এভাবে বিভিন্ন দিক, দিয়ে বিচার করলে দেখা যাবে যে, হুদায়বিয়ার সন্ধি মুসলমানদের অনুকূলে থাকায় ইসলাম ধর্ম ও রাষ্ট্র হিসেবে আরবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং বহির্বিশ্বে এর সম্প্রসারণে সহায়তা করে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, হুদায়বিয়ার সন্ধি মুসলমানদের জন্য সাময়িক পরাজয় হলেও ইসলাম ও মুসলমানদের বিস্তৃতি ও শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।