বিদায় হজ্বের ভাষণ ছিল মানবজাতির মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের শ্রেষ্ঠ দলিল। নিম্নে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো : মহানবীর জীবনের শেষ হজে এই বিশ্ব মানবতার জন্য যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তাই বিদায় হওয়ার জন্য আমি পরিচিত। এই ভাষণের মহানবী মানব জাতির অধিকারের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বিদায় হজের ভাষণে তিনি অন্যায় ভাবে রক্তপাত, মানুষের উপর জুলুম অত্যাচার, বর্ণবাদ, সুদের কুফল, স্বজনপ্রীতি ইত্যাদি জাহেলিয়ার বিরুদ্ধে মুসলমানদের জোরালো নির্দেশনা দেন। বিদায় হজের ভাষণে মহানবী নারী-পুরুষ, দল-মত নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার হিসেবে বলেছেন। এছাড়াও তিনি নারীদের অধিকারের বিষয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন তাতে নারীদের অধিকার সর্বোতভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও তিনি সকল মুসলমানদের সাম্য এবং ভ্রাতৃত্বের মধ্যে দিয়ে একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে বলেছেন। যার ফলে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সবার অধিকার সুনিশ্চিত হবে। বিদায় হজের ভাষণে মহানবী ধর্মের বিষয়ে জোরজবরদস্তি না করে বরং সকল ধর্মের মানুষদের স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম পালনের সুযোগ দেয়ার বিষয়ে জোরালো নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি বিদায় হজ্জের ভাষণে দাস-দাসীদের সাথে সদ্ব্যবহার, সকল মানুষের সমান অধিকার রক্ষা এবং মুসলমানদের ভ্রাতৃত্ববোধ রক্ষার বিবরণ আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা আল কুরআনের মানুষের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা যে নির্দেশ গুলো দিয়েছিলেন মহানবীর বিরহের ভাষণের সেই বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে। উপরে উল্লেখিত অধিকারগুলোই মূলত মানুষের মৌলিক অধিকার। আর এই অধিকারগুলো সংরক্ষণের জন্য মহানবী বিদায়ের হজের ভাষণে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাই বলা যায়, "বিদায় হজ্বের ভাষণ ছিল মানবজাতির মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের শ্রেষ্ঠ দলিল" উক্তিটি যথার্থ।