উদ্দীপকের দক্ষিণ সুদানের মতো মহানবি (স)-এর গৃহীত ব্যবস্থা মানবাধিকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত— কথাটি সঠিক।
মদিনার সব নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে তুলে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহানবি (স) ৪৭টি ধারা সংবলিত মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। এ সনদের নীতিমালায় মদিনার সব সম্প্রদায়ের অধিকার ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছিল । নতুন রাষ্ট্র দক্ষিণ সুদানের সংবিধানের ক্ষেত্রেও তা দেখা যায় ।
দক্ষিণ সুদানের সংবিধান প্রণয়নের ফলে সবার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মহানবি (স)ও মদিনা সনদ প্রণয়ন করে নাগরিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল আদর্শ স্থাপন করেন। এ সনদের ৪৭টি (মতান্তরে ৫৩টি) ধারা ছিল জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অধিকারের রক্ষাকবচ। এ সনদ মদিনায় বসবাসরত মুসলিম, ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিকসহ সব মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করেছিল। এছাড়া এটি মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পরস্পরের পাশে থাকতে অনুপ্রাণিত করে। মদিনা সনদে সব সম্প্রদায়কে সমান অধিকার প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। সকলের অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের যাবতীয় দিকনির্দেশনা ছিল এ সনদে । মদিনা সনদের সুমহান শিক্ষার মূল চেতনাকে ধারণ করে যুগে যুগে বিশ্বের অনেক স্থানে শান্তিকামী মানুষ ন্যায় ও আদর্শ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানও দৃশ্যত এ ধরনের চেতনা থেকে প্রণীত হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের দক্ষিণ সুদানের মতো মদিনায় মহানবি (স) এর গৃহীত ব্যবস্থা ছিল মানবাধিকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দক্ষিণ সুদানের সংবিধান যেন মদিনা সনদের চেতনাকে ধারণ করেই প্রণীত হয়েছে।