মহানবি (সা.)-এর জীবনের শেষ হজকে বিদায় হজ বলা হয়। তিনি ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৩ ফেব্রুয়ারি লক্ষাধিক মুসলমানকে সাথে নিয়ে মক্কায় যাত্রা করে জিলহজ মাসের ৮ তারিখ (৭ মার্চ) সেখানে হাজির হন। এটিই তার জীবনের শেষ হজ বিধায় একে হুজ্জাতুল বিদা বলা হয়। এ হজ উপলক্ষ্যে হযরত মুহাম্মদ (সা.) আরাফাতের পর্বত শীর্ষে দাঁড়িয়ে উপস্থিত জনসমুদ্রকে লক্ষ করে যে অভিভাষণ প্রদান করেন তা বিদায় হজের ভাষণ নামে পরিচিত। তার এ ভাষণ অন্ধকার ও অসাম্যের চির অবসান করে দুনিয়ার বুকে শান্তির আদর্শ এবং এক নতুন আলোকময় যুগের সূচনা করে। এ ভাষণে মানবজাতির সামগ্রিক মুক্তির ও কল্যাণের প্রতিটি দিক ফুটে উঠেছে। বিদায় হজের ভাষণ লক্ষাধিক মানুষের সামনে কুফর ও শিরকে নিমজ্জিত, শোষিত 'বঞ্চিত' নিপীড়িত ও নিষ্পেষিত, অনাগত ভবিষ্যতের সকল মানুষের মুক্তির উদ্দেশ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ভাষণ দেন তাকে অনায়াসে মানবতার মুক্তির সনদ বলা যায়। মহানবি (সা.) মানুষে মানুষে বৈষম্য দূর করে সকল মানুষের সমমর্যাদা দান করেন। তিনি দাসপ্রথার চির অবসান ঘটান। মহানবি (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানবতার মুক্তির সনদ ও মানবজাতির মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের দলিল। কেননা এতে সকল মানুষের অধিকার ও দাবির ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ভাষণে মহানবি (সা.) ঘোষণা করেন সকল মানুষই সমান। কালো-সাদাতে, আরব-অনারবে, নারী-পুরুষে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। তিনি গোত্রীয় ব্যবস্থা বিলোপ করে একজাতি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ব্যক্তির যোগ্যতা, সততা, কর্ম ও দক্ষতার কারণে তার মর্যাদা নির্ধারিত হবে। তাছাড়া তিনি নারী সমাজের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান বর্ণনা করে নারী-পুরুষকে একে অপরের পোশাক হিসেবে ঘোষণা করেন। মহানবি (সা.) ঘোষণা করেন "মানুষের মধ্যে উৎকৃষ্ট এবং শ্রেষ্ঠ যে ব্যক্তি যিনি আল্লাহর প্রতি সর্বাধিক অনুগত এবং মানুষের সর্বাধিক কল্যাণকামী।"