উদ্দীপকে উল্লিখিত সাংবিধানিক চুক্তির সাথে আমার পঠিত ঐতিহাসিক মদিনা সনদের সাদৃশ্য রয়েছে।উদ্দীপকের বিশিষ্ট ধর্মপ্রচারক মুহিবুল্লাহ নিজ অঞ্চলে মতাদর্শ প্রচারে ব্যর্থ হয়ে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গমন করেন। তিনি নিজ অঞ্চলে ধর্মীয় মতাদর্শ প্রচার করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাকে বাধা দেয় এমনকি হত্যার ষড়যন্ত্র করে। এমতাবস্থায় তিনি পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গিয়ে সেখানকার জনগোষ্ঠীর সাথে সহাবস্থানের জন্য সাংবিধানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা মদিনা সনদকে নির্দেশ করে। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর মদিনার আনসার, মুহাজির, ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক ও মাওয়ালিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ স্থাপন ও ভবিষ্যৎ চলার দিকনির্দেশনামূলক যে লিখিত বিবরণ তৈরি করেন তাকে মদিনা সনদ বলে। ঐতিহাসিক মদিনা সনদে ৪৭টি মতান্তরে ৫৩টি ধারা ছিল। এ সনদের মাধ্যমে মদিনা রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়। এ সনদ ইতিহাসের প্রথম লিখিত সনদ। - এ সনদের মাধ্যমে মদিনার সকল নাগরিককে সমান মর্যাদা দেওয়া হয় এবং ব্যক্তির অপরাধের জন্য গোত্রকে বাদ দিয়ে শুধু ব্যক্তির অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এ সনদের মাধ্যমে মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং বহিঃশত্রু দ্বারা মদিনা আক্রান্ত হলে সকলে মিলে নিজস্ব ব্যয়ভার বহনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। গোত্রে গোত্রে হানাহানি, রক্তপাতের পরিবর্তে মদিনায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ইসলাম প্রচারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। মদিনাকে পবিত্র শহর ঘোষণা করে মহানবি (সা.) মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হন।অতএব উদ্দীপকের সাংবিধানিক চুক্তির সাথে মহানবি (সা.)-এর মদিনার সনদের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। উভয় সনদের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের সমমর্যাদা নিশ্চিত করা হয়।