সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনা তথা বিদায় হজের ভাষণের গুরুত্ব ইসলামের ইতিহাসে অপরিসীম।
উদ্দীপকে বর্ণিত আব্দুল মজিদের ঘোষণার ন্যায় মহানবি (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল একটি অমূল্য সম্পদ। মহানবি (সা.) তার জীবনের শেষ হজে বিশ্বমানবতার উদ্দেশ্যে যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন তা বিশ্বমানবাধিকারের ক্ষেত্রে ভাষণের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়। জিলহজ মাসের ৯ তারিখে আরাফাতের ময়দানে মহানবি (সা.) তাঁর ভাষণে বলেন, "হে মানবজাতি, মনে রেখ আল্লাহ একজন নর ও একজন নারী থেকে সবাইকে সৃষ্টি করেছেন। কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি কোনো কালোর ওপর কোনো সাদার শ্রেষ্ঠত্ব নেই।" তিনি আরও বলেন, "নারীদের ওপর পুরুষের যেরূপ অধিকার আছে, পুরুষের ওপর ও নারীর সেরূপ অধিকার আছে। তাদের প্রতি অত্যাচার করো না। মনে রেখ আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের গ্রহণ করেছে। দাসদাসীদের সম্পর্কে মহানবি (সা.) বলেন, "দাসদাসীদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করবে না। তোমরা যা খাবে তাদেরকে তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে, তাদেরকে তাই পরাবে, ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতো মানুষ। "ভ্রাতৃত্ববোধ সম্পর্কে মহানবি (সা.) বলেন, "মনে রেখ, সব মুসলমান ভাই ভাই কেউ কারও চেয়ে ছোট বা বড় নয়। আল্লাহর চোখে সবাই সমান। আর সব মুসলমান মিলে একটি অখন্ড ভ্রাতৃসমাজ।" পরকাল সম্পর্কে মহানবি (সা.)-এর ভাষণে বলেন, "স্মরণ রেখ, তোমাদের সবাইকে আল্লাহর দরবারে হাজির হয়ে নিজ নিজ কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে হবে।"
পরিশেষে বলা যায়, শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা, নারীর অধিকার, বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি বিশ্ব মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানে মহানবি (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল বিশ্ব মানবতার দিকনির্দেশনা ও আন্তর্জাতিক মুক্তির দলিল।