ইসলামের প্রচার ও প্রসার এবং সকল দিক বিবেচনায় উল্লিখিত চুক্তি তথা হুদাইবিয়ার সন্ধি মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ বিজয় হয়েছিল।ইসলামের ইতিহাসে হুদাইবিয়ার সন্ধির গুরুত্ব অপরিসীম। মহানবি (সা.) অনেক সাহাবির মতামত অগ্রাহ্য করে এ চুক্তি সম্পাদন করলেও আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এ চুক্তিকে 'ফাতহুম মুবিন' বা প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। হুদাইবিয়ার চুক্তির মাধ্যমেই কুরাইশরা মহানবি (সা.)-কে রাষ্ট্রপ্রধান ও ইসলামকে ধর্ম হিসেবে মেনে নেয়। যার ফলে মুসলমান ও কুরাইশদের ব্যবসা বৃদ্ধি পায় এবং একে অপরের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ লাভ করলে অনেক বিবেকবান কুরাইশ ইসলাম গ্রহণ করে যাদের মধ্যে বিখ্যাত সেনাপতি আমর আল আস ও খালিদ-বিন-ওয়ালিদও ছিলেন। মক্কার থেকে নিরাপত্তার শর্ত লাভ করে মহানবি (সা.) আবিসিনিয়া, মিশর, পারস্যসহ অনেক রাজ্যে ইসলামের মহান বাণী নিয়ে পত্রবাহক প্রেরণ করেন। হযরত আবুবকর (রা) বলেন, "হুদাইবিয়ার সন্ধির ফলে আমরা যেরূপ জয়ী হয়েছিলাম, সেরূপ কখনোই হয়নি।" ঐতিহাসিক ইবনে হিশাম বলেন, "মুহাম্মদ (সা) যেখানে ১৪০০ লোক নিয়ে হুদাইবিয়া গিয়েছিলেন, সেখানে ২ বছর পর ১০,০০০ লোক নিয়ে মক্কা বিজয় করেন।"পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দিক থেকে হুদাইবিয়ার চুক্তি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম প্রচার ও প্রসারে এ চুক্তির ভূমিকা উল্লেখ করে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে একে যথার্থই ফাতহুম মুবিন বা প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। আর এভাবে এটি মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ বিজয় হয়েছিল।