উদ্দীপকের শান্তি চুক্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হুদাইবিয়ার চুক্তিকে পবিত্র কুরআনে মহাবিজয় বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে- যা যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে সম্পাদিত হুদাইবিয়ার সন্ধির গুরুত্ব সুদূরপ্রসারী। এ সন্ধির মাধ্যমেই মক্কার কুরাইশরা ইসলামকে ধর্ম এবং মহানবি (সা.) কে মুসলমানদের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। হুদাইবিয়ার সন্ধির ফলে সমগ্র আরবের মানুষ 'মুসলমানদের সাথে মেলামেশার সুযোগ পেলে ইসলাম দ্রুত প্রসার লাভ করে। এ সন্ধির পরই দুজন বীরশ্রেষ্ঠ সেনাপতি আমর আল আস ও খালিদ বিন ওয়ালিদ ইসলাম গ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক ইবনে হিশাম বলেন মুহাম্মদ (সা.) যেখানে ১৪০০ সাহাবি নিয়ে হুদাইবিয়া গিয়েছিলেন। সেখানে দুই বছর ১০ হাজার সাহাবি নিয়ে মক্কা বিজয় করেন। হুদাইবিয়া থেকে ফিরে এসে মহানবি (সা.) পারস্যা, মিশর, আবিসিনিয়া, ইয়ামেন, ওমানসহ বিভিন্ন দেশের রাজাদের নিকট ইসলামের দাওয়াতপত্র প্রেরণ করে। ফলে ইসলামের পরিচিত বিশ্বময়তা লাভ করে। হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, "হুদাইবিয়া সন্ধির ফলে আমরা যেরূপ জয়ী হয়েছিলাম, সেরূপ কখনই হয়নি।” সৈয়দ আমীর আলী বলেন, বিশ্বাসীদের গভীর আত্মসংযম ও সন্ধির প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন ইসলামের শত্রুদের মনে গভীর রেখাপাত করে। তাই আল্লাহ এ সন্ধির গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং সুদূরপ্রসারী ফলাফল বর্ণনা করে পবিত্র কুরআনে একে ফাতহুম মুবিন বা মহাবিজয় বলে আখ্যায়িত করেছেন। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ইসলাম প্রচার ও প্রসারে হুদাইবিয়ার সন্ধির কার্যকারিতায় একে মহাবিজয় বলে অভিহিত করা হয়েছে যা যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত হয়েছে।