উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা আনসার ও মুহাজির সম্প্রদায়কে নির্দেশ করে। তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল খুব মধুর ও সম্প্রীতিপূর্ণ।
উদ্দীপকের ঘটনা তথা হিজরত মুহাজির ও আনসারদের ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবি (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। হিজরতের পর থেকে মদিনাবাসী আনসার উপাধিতে পরিচিতি হয়ে উঠেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মক্কা থেকে আগত মুসলিমদের 'মুহাজির' এবং মদিনার মুসলিমদের 'আনসার' উপাধিতে ভূষিত করেন। আনসারগণ মুহাজিরদের ধনসম্পদ, বাসস্থান এমনকি একাধিক স্ত্রী থাকলে তাকে তালাক দিয়ে মুহাজির ভাইকে দিয়ে অনন্য নজির গড়েছেন। প্রত্যেক আনসারের সাথে একজন মুহাজিরের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করা হয়। মুহাজির আনসার ভাই ভাই হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এতে ধনসম্পদ, উত্তরাধিকারিত্ব, আয়-ব্যয় ইত্যাদি সমভাবে বণ্টিত হতে থাকে। ইমানের স্বার্থে, ইসলামের স্বার্থে, আল্লাহর স্বার্থে প্রত্যেক মুসলিম ভাই ভাই হিসেবে অনন্য মর্যাদা লাভ করে। পবিত্র কুরআন শরিফের ৪ : ৩৩নং আয়াত দ্বারা মুহাজিরদের আনসারদের সম্পত্তিতে অংশ নির্ধারিত হয় এবং ৫৯ : ৯নং আয়াত দ্বারা আনসারদের সফলতার বিষয়ে প্রশংসা করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে আনসারদের সম্পদে মুহাজিরদের অংশ নির্ধারণ রহিত হয়ে যায়।
উপরিউক্ত বর্ণনার আলোকে স্পষ্ট বলা যায়, মক্কা থেকে আগত মুহাজির মুসলিমদের আনসার মুসলিমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করে। তারা ইসলামের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্কে বলিয়ান হয়েছিল।