উক্ত যুদ্ধ তথা বদরের যুদ্ধে জয়লাভ করতে না পারলে ইসলাম দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। মন্তব্যটি যথার্থ।
বদরের যুদ্ধ ছিল মুসলমান ও অমুসলমানদের মধ্যে অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জীবন-মরণ যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মুসলমানরা জয়লাভ না করলে ইসলাম পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে যেত। এজন্য একে মীমাংসার যুদ্ধ বলা হয়। বদরের যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিজয়। এ যুদ্ধে মুসলমানদের জয়লাভ ছিল অজ্ঞতার বিরুদ্ধে জ্ঞানের বিজয়, অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের বিজয়, বেইমানের বিরুদ্ধে ইমানের বিজয়। এ যুদ্ধে ইসলাম ও পৌত্তলিকতার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়ে যায়। এতে মুসলমানরা জয়লাভ করে এবং তাদের শক্তি, সাহস ও উদ্দীপনা বৃদ্ধি পায়। ইসলামের মর্যাদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উন্নীত হয়। ফলে দলে দলে লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এর ফলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে আরব উপদ্বীপে ইসলাম সম্প্রসারিত হয়। এ যুদ্ধের মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.) তাঁর পার্থিব ক্ষমতার ভিত্তি স্থাপন করেন। এ যুদ্ধের পর মদিনায় মুসলমানদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। মুহাম্মদ (সা.) মদিনার রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে একক শক্তির অধিকার হন। বদরের যুদ্ধে জয়লাভের ফলে হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৬২৭ খ্রি. খন্দকের যুদ্ধ, ৬২৮ খ্রি. হুদাইবিয়ার সন্ধি সন্ধি, ৬২৯ খ্রি. মৃত্যুর যুদ্ধ, ৬৩০ খ্রি. হুনায়েনের যুদ্ধ এবং মক্কা বিজয় ও ৬৩১. খ্রি. তাবুক অভিযানে সাফল্য লাভ করেন। এ যুদ্ধে জয়লাভ করায় মুসলমানদের জন্য পরবর্তী বিশ্বজয়ের পথ উন্মুক্ত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, বদরের যুদ্ধ মুসলমানদের সীমাংসাকারী বা ভাগ্য নির্ধারণী ছিল। এতে পরাজিত হলে মুসলমানরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।