বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তুলনায় মদিনায় হিজরতকারী মুসলমানরা অনেক বেশি সমাদৃত ও অধিকারপ্রাপ্ত হয়েছিলেন মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে প্রবেশ করলে বাংলাদেশে তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা সুব্যবস্থা করে।রোহিঙ্গাদের তুলনায় হিজরতকারী মুসলমান তথা মুহাজিরগণ মদিনার মানুষের ব্যাপক অভ্যর্থনা লাভ করে। মদিনার মানুষ তাদেরকে সাদরে গ্রহণ করে। মহানবি (সা.) কর্তৃক মুহাজিরদের সাথে আনসারদের ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে দেওয়ার পর আনসাররা বিষয়-সম্পত্তি, ঘরবাড়ি, টাকাপয়সা সবকিছু মুহাজির ভাইকে ভাগ করে দেয়। এমনকি নিজেদের খাবার আনসারগণ মুহাজিরদের খেতে দেন এবং যাদের একাধিক স্ত্রী ছিল তা থেকে তালাক দিয়ে মুহাজিরদের সাথে বিবাহ দেন। তাদের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা পবিত্র কুরআনে এবং হাদিসের বহু জায়গায় এসেছে। সূরা হাশরের ৯নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, "আর তাদের জন্যও মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে যারা এ নগরীতে (মদিনায়) বসবাস করছে ও ইমান এনেছে তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে এবং মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে। সেজন্য তারা অন্তরে ঈর্ষা পোষণ করে না, আর যারা তাদেরকে নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও মনের কার্পণ্য থেকে যাদের মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম।" মহানবি (সা.) আনসারদের সম্পর্কে বলেন, "আনসারকে ভালোবাসা ইমানের লক্ষণ, আর আনসারকে ঘৃণা করা নিফাকের লক্ষণ।"
মুসলমানদের মদিনায় হিজরতের ফলে তাদের ওপর পরিচালিত অত্যাচার ও নির্যাতনের অবসান হয়। মদিনায় হিজরতের ফলে মহানবি (সা.) নবগঠিত মদিনা রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধান বিচারপতি হন। দলে দলে মুসলমানগণ মদিনায় আগমন করলে মদিনায় ইসলাম প্রচারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয় এবং ইসলাম দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। ইয়াসরিবের নাম পরিবর্তন করে মদিনা রাখা হয়। এভাবে হিজরতের ঘটনা ইতিহাসের মোড় পরিবর্তন করে দেয়।
অতএব, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তুলনায় মদিনায় হিজরতকারী মুসলমানরা অনেক বেশি সমাদৃত ও অধিকারপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।