আমি কোনো আগন্তুক নই বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর আমি কোনো আগন্তুক নই অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৯৫

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রMCQ
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি বৈঠায় লাঙলে হাত রাখতে বলেছেন কেন?
  • ক.শপথ নেওয়ার জন্য
  • খ.অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য
  • গ.পরশ অনুভব করার জন্য
  • ঘ.কবির অতীত সন্ধানের জন্য

উত্তর: অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-i: শতাব্দীলাঞ্ছিত আর্তের কান্না প্রতি নিঃশ্বাসে আনে লজ্জা; মৃত্যুর ভয়ে ভীরু বসে থাকা, আর না- পরো পরো যুদ্ধের সজ্জা। দৃশ্যকল্প-ii: চিমনির মুখে শোনো সাইরেন-শঙ্খ, গান গায় হাতুড়ি ও কাস্তে তিল তিল মরণেও জীবন অসংখ্য জীবনকে চায় ভালোবাসতে।

Barisal · 2020

ক
রানার কী কাজ নিয়েছে?

উত্তর

রানার নতুন খবর আনার কাজ নিয়েছে।
খ
"জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে।"- উক্তিটির কারণ বর্ণনা কর।

উত্তর

"জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে”- এ কথা বলতে রানারের জীবনের সব আশা-স্বপ্নকে সামান্য মূল্যে বিক্রি করাকে বোঝানো হয়েছে। রানার বা ডাকবাহক মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখের নানা সংবাদের বোঝা কাঁধে নিয়ে রাতের পথে শহরের দিকে ছুটে চলে। শুধু রাত নয়, দুর্গম পথে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সে নিরন্তর ছুটে চলে। তার ক্লান্তি নেই, অবসর নেওয়ার অবকাশ নেই। তার ক্লান্ত শ্বাস যেন আকাশ ছুঁয়ে যায়, তার ঘামে মাটি ভেজে। সামান্য বেতনের চাকরির জন্য পথের দস্যুর ভয় উপেক্ষা করে ছুটে চলে। তার জীবনের সর রাতকে যেন তারা অল্প দামে কিনে নিয়েছে।
গ
দৃশ্যকল্প । এর ভাবধারার সাথে 'রানার' কবিতার 'এ বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে?'- চরণটির সাদৃশ্যগত দিক ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-i এর ভাবধারার সাথে 'এ বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে?'- চরণটির সাদৃশ্য রয়েছে। সমাজের শ্রমজীবী মানুষের শ্রম ও ত্যাগের ফলে সভ্যতার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে। অথচ তারা সমাজে মূল্য ও মর্যাদা পায় না। তারা উঁচু শ্রেণি দ্বারা নানাভাবে নির্যাতিত ও অবহেলিত। 'রানার' কবিতায় কবি শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাপন, দুঃখ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাদের সততার দিকটি তুলে ধরেছেন। রানার মানুষের সুখ-দুঃখের অনেক অজানা সংবাদ বহন করে নিয়ে যায়। সে পিঠে খবরের বোঝা, মানি অর্ডার নিয়ে দস্যুর ভয় উপেক্ষা করে লন্ঠন জ্বালিয়ে রাতের অন্ধকারে একা ছুটে চলে। অভাবে, ক্লান্তিতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে গেলেও সে দায়িত্বে অবহেলা করে না। অথচ সমাজ তাকে তার ন্যায়্য প্রাপ্য দেয় না। কবি তাই প্রশ্ন করেছেন- এ বোঝা টানার দিক কবে শেষ হবে? উদ্দীপকে কবির মনে যুগ যুগ ধরে আর্তের কান্নার কথা বলেছেন। এই অবস্থা থেকে আর্ত, লাঞ্ছিত মানুষদের কবি মৃত্যুর ভয়ে আর বসে না থেকে যুদ্ধের সাজ পরে প্রতিবাদ করতে বলেছেন।
ঘ
“দৃশ্যকল্প ii যেন 'রানার' কবিতার মূল ভাবনারই প্রতিফলন”- উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প (ii) যেন 'রানার' কবিতার মূল ভাবনারই প্রতিফলন- মন্তব্যটি যথার্থ। যাদের ঘামে ও শ্রমে সমাজ-সংসারের চাকা নিত্য সচল থাকে তাদের কেথা কেউ বলে না, কেউ তাদের সুযোগ-সুবিধার কথা ভাবে না। এটা শুধু সত্য নয়, নির্মম সত্য।' উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প (ii) এর কবিতাংশে কবি শ্রমজীবী মানুষের কথা বলেছেন। এখানে কবি কারখানার চিমনির মুখে সাইরেন-শঙ্খের আওয়াজ এবং হাতুড়ি-কাস্তের শব্দ শোনার কথা বলেছেন। অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষের নিরলস শ্রমের ইতিবৃত্ত কেউ দেখে না। কাজ করতে করতে হয়তো কেউ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, যদিও জীবনকেই তারা ভালোবাসতে চায়। এই বিষয়টি 'রানার' কবিতায় প্রতিফলিত বিষয়টিকে নির্দেশ করে। রানার সবার কাছে নতুন খবর পৌঁছে দিলেও তার খবর কেউ নেয় না। সে তার শ্রমেরও উপযুক্ত মূল ও মর্যাদা পায় না। রাত হোক, দুর্গম পথ হোক, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হোক- নিরন্তর তাদের কাজ করতে হয়। ঘরে স্ত্রী দুঃখ, বেদনা, অভিমান, অনুরাগ নিয়ে একা বিনিদ্র রাত জাগে। রানারদের দুঃখের চিঠি কেউ কোনোদিন পড়ে না। তারা অবহেলিতই থেকে যায়। উদ্দীপক (ii) ও আলোচ্য কবিতা উভয় জায়গায় শ্রমজীবী মানুষের কথা প্রকাশ পেয়েছে। যারা তিল তিল করে নিজেদের শ্রমে ও ঘামে আমাদের সুন্দর জীবনকে আরও সুন্দর করে। অথচ তারা অবহেলিত ও নিগৃহীত হয়। উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতার কবি উভয়েই তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। তাই বলা যায় মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-i: শতাব্দীলাঞ্ছিত আর্তের কান্না প্রতি নিঃশ্বাসে আনে লজ্জা; মৃত্যুর ভয়ে ভীরু বসে থাকা, আর না- পরো পরো যুদ্ধের সজ্জা। দৃশ্যকল্প-ii: চিমনির মুখে শোনো সাইরেন-শঙ্খ, গান গায় হাতুড়ি ও কাস্তে তিল তিল মরণেও জীবন অসংখ্য জীবনকে চায় ভালোবাসতে।

Barisal · 2020

ক
রানার কী কাজ নিয়েছে?

উত্তর

রানার নতুন খবর আনার কাজ নিয়েছে।
খ
"জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে।"- উক্তিটির কারণ বর্ণনা কর।

উত্তর

"জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে”- এ কথা বলতে রানারের জীবনের সব আশা-স্বপ্নকে সামান্য মূল্যে বিক্রি করাকে বোঝানো হয়েছে। রানার বা ডাকবাহক মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখের নানা সংবাদের বোঝা কাঁধে নিয়ে রাতের পথে শহরের দিকে ছুটে চলে। শুধু রাত নয়, দুর্গম পথে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সে নিরন্তর ছুটে চলে। তার ক্লান্তি নেই, অবসর নেওয়ার অবকাশ নেই। তার ক্লান্ত শ্বাস যেন আকাশ ছুঁয়ে যায়, তার ঘামে মাটি ভেজে। সামান্য বেতনের চাকরির জন্য পথের দস্যুর ভয় উপেক্ষা করে ছুটে চলে। তার জীবনের সর রাতকে যেন তারা অল্প দামে কিনে নিয়েছে।
গ
দৃশ্যকল্প । এর ভাবধারার সাথে 'রানার' কবিতার 'এ বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে?'- চরণটির সাদৃশ্যগত দিক ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-i এর ভাবধারার সাথে 'এ বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে?'- চরণটির সাদৃশ্য রয়েছে। সমাজের শ্রমজীবী মানুষের শ্রম ও ত্যাগের ফলে সভ্যতার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে। অথচ তারা সমাজে মূল্য ও মর্যাদা পায় না। তারা উঁচু শ্রেণি দ্বারা নানাভাবে নির্যাতিত ও অবহেলিত। 'রানার' কবিতায় কবি শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাপন, দুঃখ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাদের সততার দিকটি তুলে ধরেছেন। রানার মানুষের সুখ-দুঃখের অনেক অজানা সংবাদ বহন করে নিয়ে যায়। সে পিঠে খবরের বোঝা, মানি অর্ডার নিয়ে দস্যুর ভয় উপেক্ষা করে লন্ঠন জ্বালিয়ে রাতের অন্ধকারে একা ছুটে চলে। অভাবে, ক্লান্তিতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে গেলেও সে দায়িত্বে অবহেলা করে না। অথচ সমাজ তাকে তার ন্যায়্য প্রাপ্য দেয় না। কবি তাই প্রশ্ন করেছেন- এ বোঝা টানার দিক কবে শেষ হবে? উদ্দীপকে কবির মনে যুগ যুগ ধরে আর্তের কান্নার কথা বলেছেন। এই অবস্থা থেকে আর্ত, লাঞ্ছিত মানুষদের কবি মৃত্যুর ভয়ে আর বসে না থেকে যুদ্ধের সাজ পরে প্রতিবাদ করতে বলেছেন।
ঘ
“দৃশ্যকল্প ii যেন 'রানার' কবিতার মূল ভাবনারই প্রতিফলন”- উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

উত্তর

দৃশ্যকল্প (ii) যেন 'রানার' কবিতার মূল ভাবনারই প্রতিফলন- মন্তব্যটি যথার্থ। যাদের ঘামে ও শ্রমে সমাজ-সংসারের চাকা নিত্য সচল থাকে তাদের কেথা কেউ বলে না, কেউ তাদের সুযোগ-সুবিধার কথা ভাবে না। এটা শুধু সত্য নয়, নির্মম সত্য।' উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প (ii) এর কবিতাংশে কবি শ্রমজীবী মানুষের কথা বলেছেন। এখানে কবি কারখানার চিমনির মুখে সাইরেন-শঙ্খের আওয়াজ এবং হাতুড়ি-কাস্তের শব্দ শোনার কথা বলেছেন। অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষের নিরলস শ্রমের ইতিবৃত্ত কেউ দেখে না। কাজ করতে করতে হয়তো কেউ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, যদিও জীবনকেই তারা ভালোবাসতে চায়। এই বিষয়টি 'রানার' কবিতায় প্রতিফলিত বিষয়টিকে নির্দেশ করে। রানার সবার কাছে নতুন খবর পৌঁছে দিলেও তার খবর কেউ নেয় না। সে তার শ্রমেরও উপযুক্ত মূল ও মর্যাদা পায় না। রাত হোক, দুর্গম পথ হোক, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হোক- নিরন্তর তাদের কাজ করতে হয়। ঘরে স্ত্রী দুঃখ, বেদনা, অভিমান, অনুরাগ নিয়ে একা বিনিদ্র রাত জাগে। রানারদের দুঃখের চিঠি কেউ কোনোদিন পড়ে না। তারা অবহেলিতই থেকে যায়। উদ্দীপক (ii) ও আলোচ্য কবিতা উভয় জায়গায় শ্রমজীবী মানুষের কথা প্রকাশ পেয়েছে। যারা তিল তিল করে নিজেদের শ্রমে ও ঘামে আমাদের সুন্দর জীবনকে আরও সুন্দর করে। অথচ তারা অবহেলিত ও নিগৃহীত হয়। উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতার কবি উভয়েই তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। তাই বলা যায় মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুমন ও মামুন ঢাকায় বসবাস করে। বহু বছর পর সুমন বাড়ি ফিরলে গ্রামের লোকজন উৎসুক দৃষ্টিতে তার দিকে চেয়ে থাকে। সুমন স্কুল বন্ধু ফরিদকে জড়িয়ে ধরে। খোঁজখবর নেয়। তার ক্লান্ত চোখের চাহনি দেখে মর্মাহত হয়, বাড়ির আমগাছে টিয়া-শালিক দেখে রোমাঞ্চিত হয়। অথচ মামুনের বাড়ি ফেরার সময়ই হয়ে ওঠে না। কল্পনায় সে জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও শহুরে চাকচিক্যকে জীবনের অনুষঙ্গ করে নিয়েছে।

Dhaka · 2020

ক
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কোন মাসের উল্লেখ আছে?

উত্তর

আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় 'কার্তিক' মাসের উল্লেখ আছে
খ
কদম আলী অকাল বার্ধক্যে নত কেন? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

অভাব-দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত বলে কদম আলী অকাল বার্ধক্যে নত। 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি গ্রামের পথ-ঘাট, পথ-প্রান্তরের মতো সরু পথ, ধানখেত, নদীর কিনার, সেখানকার মানুষ কদম আলী, জমিলার মা প্রভৃতির কথা বলেছেন। কবি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে অভাবের কারণে না খেতে পাওয়া ক্লান্ত কদম আলীর কথাও স্মরণ করেছেন। চিকিৎসার অভাবে যে অকাল বার্ধক্যের শিকার হয়েছে। কবি কদম আলীকে গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
গ
উদ্দীপকের সুমনের ভাবনার সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি ভাবনার কোন দিকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের সুমনের ভাবনার সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি ভাবনার জন্মভূমিপ্রীতির সাদৃশ্য রয়েছে। জন্মভূমির প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। জন্মভূমির প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের জীবন গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। কারণ এদেশের মানুষ গ্রামীণ প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বেড়ে ওঠে। উদ্দীপকে জন্মভূমির প্রতি সুমনের গভীর ভালোবাসার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। বহু বছর পর গ্রামে গিয়েও সে তার পরিচিত পরিবেশে বন্ধুদের সঙ্গে প্রাণের আবেগে মিশেছে। তার গ্রামের গাছপালা, পাখি, পরিচিত লোকজন দেখে খুব খুশি হয়েছে। উদ্দীপকের গ্রামের - প্রতি গভীর টান এবং ভালোবাসার দিকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রতিফলিত স্বদেশের প্রতি কবির গভীর ভালোবাসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় কবি এদেশের প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে নিজের গভীর বন্ধনের কথা বলেছেন। উদ্দীপকের সুমনের মধ্যেও এই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। সুমনও কবির মতো জন্মভূমির প্রকৃতির মধ্যে, নিজের চিরচেনা গ্রামের মধ্যে নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে মামুন জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি ভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে কি? মতামত দাও।

উত্তর

না, উদ্দীপকে মামুন জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি ভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না। মানুষ তার জন্মভূমির আলো-বাতাসে, প্রকৃতির স্নেহস্পর্শে বেড়ে ওঠে। জন্মভূমি ও জন্মভূমির মাটির কাছে মানুষের ঋণের শেষ নেই। 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। কবি মনে করেন এদেশের শ্যামল প্রকৃতি তাঁর জীবনের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। আর তাই তিনি নিজের কথা বলতে গিয়ে তাঁর চিরচেনা গ্রাম, জনপদ, আসমান, জমিন, গাছপালা, পুকুর, জোনাকি, পাখি প্রভৃতির কথা বলেছেন। তিনি কদম আলী ও জমিলার মায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় থাকার কথা বলেছেন। কবির মতে তারা তাঁর চিরচেনা স্বজন। উদ্দীপকের মামুনের মধ্যে এই আত্মিক অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেনি। উদ্দীপকের মামুন জন্মস্থানের প্রতি যতটা না অনুরাগী তার চেয়ে বহুগুণে সে শহরমুখী। সে শহরের পরিবেশেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। কল্পনায় জন্মভূমির প্রতি তার যে টান তা প্রকৃত অনুভূতি নয়। কারণ শহুরে চাকচিক্যকে সে জীবনের অনুষঙ্গ করে নিয়েছে। অন্যদিকে আলোচ্য কবিতার কবি গ্রামীণ জনপদের সঙ্গেই জীবনের বন্ধন অনুভব করেছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে মামুন জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও আলোচ্য কবিতার কবিভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুমন ও মামুন ঢাকায় বসবাস করে। বহু বছর পর সুমন বাড়ি ফিরলে গ্রামের লোকজন উৎসুক দৃষ্টিতে তার দিকে চেয়ে থাকে। সুমন স্কুল বন্ধু ফরিদকে জড়িয়ে ধরে। খোঁজখবর নেয়। তার ক্লান্ত চোখের চাহনি দেখে মর্মাহত হয়, বাড়ির আমগাছে টিয়া-শালিক দেখে রোমাঞ্চিত হয়। অথচ মামুনের বাড়ি ফেরার সময়ই হয়ে ওঠে না। কল্পনায় সে জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও শহুরে চাকচিক্যকে জীবনের অনুষঙ্গ করে নিয়েছে।

Dhaka · 2020

ক
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কোন মাসের উল্লেখ আছে?

উত্তর

আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় 'কার্তিক' মাসের উল্লেখ আছে
খ
কদম আলী অকাল বার্ধক্যে নত কেন? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

অভাব-দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত বলে কদম আলী অকাল বার্ধক্যে নত। 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি গ্রামের পথ-ঘাট, পথ-প্রান্তরের মতো সরু পথ, ধানখেত, নদীর কিনার, সেখানকার মানুষ কদম আলী, জমিলার মা প্রভৃতির কথা বলেছেন। কবি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে অভাবের কারণে না খেতে পাওয়া ক্লান্ত কদম আলীর কথাও স্মরণ করেছেন। চিকিৎসার অভাবে যে অকাল বার্ধক্যের শিকার হয়েছে। কবি কদম আলীকে গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
গ
উদ্দীপকের সুমনের ভাবনার সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি ভাবনার কোন দিকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের সুমনের ভাবনার সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি ভাবনার জন্মভূমিপ্রীতির সাদৃশ্য রয়েছে। জন্মভূমির প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। জন্মভূমির প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের জীবন গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। কারণ এদেশের মানুষ গ্রামীণ প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বেড়ে ওঠে। উদ্দীপকে জন্মভূমির প্রতি সুমনের গভীর ভালোবাসার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। বহু বছর পর গ্রামে গিয়েও সে তার পরিচিত পরিবেশে বন্ধুদের সঙ্গে প্রাণের আবেগে মিশেছে। তার গ্রামের গাছপালা, পাখি, পরিচিত লোকজন দেখে খুব খুশি হয়েছে। উদ্দীপকের গ্রামের - প্রতি গভীর টান এবং ভালোবাসার দিকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রতিফলিত স্বদেশের প্রতি কবির গভীর ভালোবাসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় কবি এদেশের প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে নিজের গভীর বন্ধনের কথা বলেছেন। উদ্দীপকের সুমনের মধ্যেও এই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। সুমনও কবির মতো জন্মভূমির প্রকৃতির মধ্যে, নিজের চিরচেনা গ্রামের মধ্যে নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে মামুন জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি ভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে কি? মতামত দাও।

উত্তর

না, উদ্দীপকে মামুন জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি ভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না। মানুষ তার জন্মভূমির আলো-বাতাসে, প্রকৃতির স্নেহস্পর্শে বেড়ে ওঠে। জন্মভূমি ও জন্মভূমির মাটির কাছে মানুষের ঋণের শেষ নেই। 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। কবি মনে করেন এদেশের শ্যামল প্রকৃতি তাঁর জীবনের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। আর তাই তিনি নিজের কথা বলতে গিয়ে তাঁর চিরচেনা গ্রাম, জনপদ, আসমান, জমিন, গাছপালা, পুকুর, জোনাকি, পাখি প্রভৃতির কথা বলেছেন। তিনি কদম আলী ও জমিলার মায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় থাকার কথা বলেছেন। কবির মতে তারা তাঁর চিরচেনা স্বজন। উদ্দীপকের মামুনের মধ্যে এই আত্মিক অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেনি। উদ্দীপকের মামুন জন্মস্থানের প্রতি যতটা না অনুরাগী তার চেয়ে বহুগুণে সে শহরমুখী। সে শহরের পরিবেশেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। কল্পনায় জন্মভূমির প্রতি তার যে টান তা প্রকৃত অনুভূতি নয়। কারণ শহুরে চাকচিক্যকে সে জীবনের অনুষঙ্গ করে নিয়েছে। অন্যদিকে আলোচ্য কবিতার কবি গ্রামীণ জনপদের সঙ্গেই জীবনের বন্ধন অনুভব করেছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে মামুন জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও আলোচ্য কবিতার কবিভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

"বাংলা আমার আমি বাংলার বাংলা আমার জন্মভূমি গঙ্গা ও যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা, বহিছে যাহার চরণ চুমি। . . . . . . . . . . . . . . . . . . . হৃদয় আমার বাংলার লাগি, যে দেশেই থাকি সদা থাকে জাগি, স্বর্গ হতেও শ্রেষ্ঠ সে আমার বাংলা আমার অমিয় ধারা।"

Sylhet · 2025

ক
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবির চিরচেনা স্বজন কে?

উত্তর

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবির চিরচেনা স্বজন কদম আলী।
খ
'আমি স্বাপ্নিক নিয়মে এখানেই থাকি'- কথাটির দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর

◉ "আমি স্বাপ্নিক নিয়মে এখানেই থাকি"- কথাটির দ্বারা কবির স্বপ্নময় স্বদেশের সঙ্গে মিলে থাকাকে বুঝিয়েছেন। ◉ 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি নিজের জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। কবি যে দেশে জন্মেছেন সেই দেশটি স্বপ্নময়। সেই দেশের গ্রাম, গ্রামীণ প্রকৃতি ও জনজীবন প্রায় একই ধরনের স্বপ্নের স্পর্শ মাখা। কবিও সেই স্বপ্নময়তাকে ধারণ করেই বেড়ে উঠেছেন। অবাধ ও অবারিত স্বপ্নের মতো কবি সেখানে ছিলেন, এখনো তিনি সারা দেশের অস্তিত্বের সঙ্গেই মিশে আছেন।
গ
উদ্দীপকের প্রথম স্তবকের সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সাদৃশ্য তুলে ধর।

উত্তর

◉ উদ্দীপকের প্রথম স্তবকের সঙ্গে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় বর্ণিত জন্মভূমির সঙ্গে কবির গভীর বন্ধনের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে। ◉ 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে নিজের - সম্পৃক্ততার মাধ্যমে জন্মভূমির প্রতি এদেশের মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। তিনি গ্রামের পথ-ঘাট; ধানখেত, নদীর কিনার, সেখানকার মানুষজন, কদম আলী, জমিলার মা প্রভৃতির কথা বলেছেন। গ্রামীণ প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর বন্ধন ও মানুষের বেড়ে ওঠার বিষয়টি এতে প্রতিফলিত হয়েছে। এখানকার প্রকৃতি, পরিবেশ, পাখি, কার্তিকের ধানখেত সবই কবির চেনা। তারাও কবিকে চেনে, কারণ কবি কোনো আগন্তুক নন। ◉ উদ্দীপকের প্রথম স্তবকে কবি বাংলার সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। কবি বাংলায় জন্মগ্রহণ করেছেন, যার চরণ স্পর্শ করে বয়ে গেছে গঙ্গা, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা। উদ্দীপকের এ বিষয়টি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর ভালোবাসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় কবি নিজেকে জন্মভূমির সন্তান বলে দাবি করেছেন। এতে জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর অনুভবটি প্রকাশ পেয়েছে। কবির এই অনুভব স্বদেশপ্রেমের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যা উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
ঘ
"উদ্দীপকের দ্বিতীয় স্তবকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার মূল চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

◉ জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের আজীবনের সম্পর্ক, আপন সত্তায় স্বদেশকে অনুভব করার বিষয়ে যোগসূত্র থাকায় “উদ্দীপকের দ্বিতীয় স্তবকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার মূল চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ। ◉ 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর নিজের বন্ধন ও মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। এখানে গ্রামীণ প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গে কবির প্রাত্যহিক জীবনের সম্পৃক্ততার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। গ্রামের মাঠ-ঘাট, আকাশ, ফুল-পাখি, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা সবই কবির বহু দিনের চেনা। তারাও তাকে ভালো করে চেনে। কবির মতো, মানুষও জন্মভূমির মধ্যে শিকড় গেড়ে থেকেই সমগ্র দেশকে আপন করে পায়। ◉ উদ্দীপকের দ্বিতীয় স্তবকে কবি তাঁর জন্মভূমি বাংলার জন্য আকুলতা ব্যক্ত করেছেন। কবি যে দেশেই থাকেন তার জন্য তিনি সদা জেগে থাকেন। জন্মভূমি তাঁর কাছে স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। উক্ত দিকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির মধ্যেও লক্ষণীয়। কবি তাঁর জন্মভূমির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক প্রমাণ করার জন্য এর নানা অনুষঙ্গকে সাক্ষী বানিয়েছেন। তিনি বারবার বলেছেন তিনি কোনো আগন্তুক নন, বরং জন্মভূমির প্রতিটি বস্তু ও মানুষ তাঁর চিরপরিচিত। ◉ 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা, ধানখেত- এ সবকিছুই কবির দেশের মাটির প্রতি গভীর মমতাকে আরও গভীরতর করেছে। স্বদেশের সবকিছুই কবির অস্থিমজ্জায় গ্রথিত হয়ে আছে। জন্মভূমির সঙ্গে কবির এমন গভীর সম্পর্ক এবং তার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার দিকটিই উদ্দীপকের দ্বিতীয় - স্তবকে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

"বাংলা আমার আমি বাংলার বাংলা আমার জন্মভূমি গঙ্গা ও যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা, বহিছে যাহার চরণ চুমি। . . . . . . . . . . . . . . . . . . . হৃদয় আমার বাংলার লাগি, যে দেশেই থাকি সদা থাকে জাগি, স্বর্গ হতেও শ্রেষ্ঠ সে আমার বাংলা আমার অমিয় ধারা।"

Sylhet · 2025

ক
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবির চিরচেনা স্বজন কে?

উত্তর

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবির চিরচেনা স্বজন কদম আলী।
খ
'আমি স্বাপ্নিক নিয়মে এখানেই থাকি'- কথাটির দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর

◉ "আমি স্বাপ্নিক নিয়মে এখানেই থাকি"- কথাটির দ্বারা কবির স্বপ্নময় স্বদেশের সঙ্গে মিলে থাকাকে বুঝিয়েছেন। ◉ 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি নিজের জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। কবি যে দেশে জন্মেছেন সেই দেশটি স্বপ্নময়। সেই দেশের গ্রাম, গ্রামীণ প্রকৃতি ও জনজীবন প্রায় একই ধরনের স্বপ্নের স্পর্শ মাখা। কবিও সেই স্বপ্নময়তাকে ধারণ করেই বেড়ে উঠেছেন। অবাধ ও অবারিত স্বপ্নের মতো কবি সেখানে ছিলেন, এখনো তিনি সারা দেশের অস্তিত্বের সঙ্গেই মিশে আছেন।
গ
উদ্দীপকের প্রথম স্তবকের সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সাদৃশ্য তুলে ধর।

উত্তর

◉ উদ্দীপকের প্রথম স্তবকের সঙ্গে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় বর্ণিত জন্মভূমির সঙ্গে কবির গভীর বন্ধনের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে। ◉ 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে নিজের - সম্পৃক্ততার মাধ্যমে জন্মভূমির প্রতি এদেশের মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। তিনি গ্রামের পথ-ঘাট; ধানখেত, নদীর কিনার, সেখানকার মানুষজন, কদম আলী, জমিলার মা প্রভৃতির কথা বলেছেন। গ্রামীণ প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর বন্ধন ও মানুষের বেড়ে ওঠার বিষয়টি এতে প্রতিফলিত হয়েছে। এখানকার প্রকৃতি, পরিবেশ, পাখি, কার্তিকের ধানখেত সবই কবির চেনা। তারাও কবিকে চেনে, কারণ কবি কোনো আগন্তুক নন। ◉ উদ্দীপকের প্রথম স্তবকে কবি বাংলার সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। কবি বাংলায় জন্মগ্রহণ করেছেন, যার চরণ স্পর্শ করে বয়ে গেছে গঙ্গা, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা। উদ্দীপকের এ বিষয়টি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর ভালোবাসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় কবি নিজেকে জন্মভূমির সন্তান বলে দাবি করেছেন। এতে জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর অনুভবটি প্রকাশ পেয়েছে। কবির এই অনুভব স্বদেশপ্রেমের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যা উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
ঘ
"উদ্দীপকের দ্বিতীয় স্তবকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার মূল চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

◉ জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের আজীবনের সম্পর্ক, আপন সত্তায় স্বদেশকে অনুভব করার বিষয়ে যোগসূত্র থাকায় “উদ্দীপকের দ্বিতীয় স্তবকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার মূল চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ। ◉ 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর নিজের বন্ধন ও মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। এখানে গ্রামীণ প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গে কবির প্রাত্যহিক জীবনের সম্পৃক্ততার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। গ্রামের মাঠ-ঘাট, আকাশ, ফুল-পাখি, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা সবই কবির বহু দিনের চেনা। তারাও তাকে ভালো করে চেনে। কবির মতো, মানুষও জন্মভূমির মধ্যে শিকড় গেড়ে থেকেই সমগ্র দেশকে আপন করে পায়। ◉ উদ্দীপকের দ্বিতীয় স্তবকে কবি তাঁর জন্মভূমি বাংলার জন্য আকুলতা ব্যক্ত করেছেন। কবি যে দেশেই থাকেন তার জন্য তিনি সদা জেগে থাকেন। জন্মভূমি তাঁর কাছে স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। উক্ত দিকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির মধ্যেও লক্ষণীয়। কবি তাঁর জন্মভূমির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক প্রমাণ করার জন্য এর নানা অনুষঙ্গকে সাক্ষী বানিয়েছেন। তিনি বারবার বলেছেন তিনি কোনো আগন্তুক নন, বরং জন্মভূমির প্রতিটি বস্তু ও মানুষ তাঁর চিরপরিচিত। ◉ 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা, ধানখেত- এ সবকিছুই কবির দেশের মাটির প্রতি গভীর মমতাকে আরও গভীরতর করেছে। স্বদেশের সবকিছুই কবির অস্থিমজ্জায় গ্রথিত হয়ে আছে। জন্মভূমির সঙ্গে কবির এমন গভীর সম্পর্ক এবং তার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার দিকটিই উদ্দীপকের দ্বিতীয় - স্তবকে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো