বন্দনা বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর বন্দনা অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১১৯

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

দেশকালের সীমারেখা পিতৃহৃদয়ের স্বাভাবিক প্রবণতায় কোনো প্রভাব বিস্তার করে না। যে দেশের, যে সময়ের বা যে সংস্কৃতিরই মানুষ হোক না কেন পিতা সব সময়ই তার সন্তানকে একই রকম ভালোবাসেন। সন্তানের মঙ্গলচিন্তা সব পিতারই সহজাত আকাঙ্ক্ষা। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বের সকল পিতার পিতৃত্বের সর্বজনীন ও চিরন্তন রূপ উন্মোচিত করেছেন।
'মহামতি গোছ' বলে কবি কাকে সম্বোধন করেছিলেন?

উত্তর

'মহামতি গোছ' বলে কবি গিয়াসউদ্দীন আজম শাহকে সম্বোধন করেছেন।
"তান দয়া হন্তে হৈল এ ধড় বিশাল"- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

"তান দয়া হন্তে হইল এ ধড় বিশাল" বলতে কবি মায়ের সেবাযত্নে সন্তানের বড়ো হয়ে ওঠার বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন। 'বন্দনা' কবিতায় কবি শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে মায়ের ভূমিকাকে তুলে ধরেছেন। মানবশিশু অসহায় অবস্থায় পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়। বাবা-মায়ের ইচ্ছা ও দয়ার ওপর ভর করেই শিশু ধীরে ধীরে বড়ো হয়ে ওঠে। এ কবিতায় কবি মানবশিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মায়ের আদর-যত্ন ও পরিচর্যার মধ্য দিয়ে শিশু পরিণত মানুষ হয়ে ওঠে। আলোচ্য পঙ্ক্তিতে কবি মায়ের দয়ায় পূর্ণাঙ্গ হয়ে ওঠার কথা স্বীকার করেছেন।
উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি আলোচনা করো।

উত্তর

সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসা প্রকাশের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে 'বন্দনা' কবিতাটি সাদৃশ্যপূর্ণ। 'বন্দনা' কবিতায় কবি বলেছেন, 'পিতাক নেহায় জিউ জীবন যৌবন'। এ পঙ্ক্তির অর্থ হলো- সন্তারে জীবন গঠনে পিতা নিজের জীবন ও যৌবন উৎসর্গ করেন। এটি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক মহান উদাহরণ। উদ্দীপকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভিন্ন দেশের, ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা দুজন পিতার ভালোবাসা তুলে ধরেছেন। দেশ-কালের পার্থক্য থাকলেও প্রত্যেক পিতা তার সন্তানকে সমান ভালোবাসেন। সন্তানের মঙ্গলচিন্তা সব পিতারই সহজাত আকাঙ্ক্ষা। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে পিতৃস্নেহের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পিতা তার ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন নিজ স্বার্থকে বলি দিয়ে সন্তানের স্বার্থরক্ষার দিকটি প্রাধান্য দিয়ে। কবি অকপটে স্বীকার করেছেন তার পিতা না খেয়ে না পরে তার খাবার-পোশাকের বন্দোবস্ত করেছেন। এভাবে সন্তানের প্রতি পিতার অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকটি 'বন্দনা' কবিতার একটি মাত্র দিকের প্রতিনিধিত্ব করে।" মন্তব্যটির সত্যাসত্য বিচার করো।

উত্তর

উদ্দীপকে শুধু পিতৃস্নেহের প্রকাশ থাকায় বলা যায়, "উদ্দীপকটি 'বন্দনা' কবিতার একটি মাত্র দিকের প্রতিনিধিত্ব করে" মন্তব্যটি যথার্থ। 'বন্দনা' কবিতায় পিতার ত্যাগের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা সমাজে পিতৃস্নেহের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করায়। পিতা সন্তানের সুখের জন্য নিজের কষ্ট ভুলে যান- এই ভাবটি চিরন্তন সত্য। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য পিতামাতা, শিক্ষক, নগরবাসী ও রাজসভায় আসীন তার সহকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। কবিতায় কবি তার জীবনে পিতামাতা ও শিক্ষকদের অবদান গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন। বাবা-মা ও শিক্ষকের অপরিমেয় ত্যাগে কবি পরিপূর্ণ মানুষ হতে পেরেছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। উদ্দীপকে সন্তানের প্রতি পিতার অকুণ্ঠ ভালোবাসা প্রকাশের দিকটি বিধৃত হয়েছে। লেখক অকপটে স্বীকার করেছেন যে, পিতার ভালোবাসা দেশ কালের সীমানায় বাঁধা যায় না। সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসা চিরন্তন এবং ভাষা-সংস্কৃতি ভেদেও অভিন্ন। উদ্দীপকের পিতৃস্নেহের চিরন্তন রূপটি 'বন্দনা' কবিতার একটিমাত্র দিক। এছাড়াও এই কবিতায় কবি মায়ের স্নেহ-মমতার দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। পিতামাতার পরে কবি শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যার কল্যাণে কবি আলোকিত জীবনের স্বাদ পেয়েছেন। এ ছাড়াও কবি কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য নগরবাসী ও রাজসভার গুণীদের দোয়া কামনা করেছেন। এই বিষয়গুলো উদ্দীপকে নেই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

দেশকালের সীমারেখা পিতৃহৃদয়ের স্বাভাবিক প্রবণতায় কোনো প্রভাব বিস্তার করে না। যে দেশের, যে সময়ের বা যে সংস্কৃতিরই মানুষ হোক না কেন পিতা সব সময়ই তার সন্তানকে একই রকম ভালোবাসেন। সন্তানের মঙ্গলচিন্তা সব পিতারই সহজাত আকাঙ্ক্ষা। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বের সকল পিতার পিতৃত্বের সর্বজনীন ও চিরন্তন রূপ উন্মোচিত করেছেন।
'মহামতি গোছ' বলে কবি কাকে সম্বোধন করেছিলেন?

উত্তর

'মহামতি গোছ' বলে কবি গিয়াসউদ্দীন আজম শাহকে সম্বোধন করেছেন।
"তান দয়া হন্তে হৈল এ ধড় বিশাল"- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

"তান দয়া হন্তে হইল এ ধড় বিশাল" বলতে কবি মায়ের সেবাযত্নে সন্তানের বড়ো হয়ে ওঠার বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন। 'বন্দনা' কবিতায় কবি শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে মায়ের ভূমিকাকে তুলে ধরেছেন। মানবশিশু অসহায় অবস্থায় পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়। বাবা-মায়ের ইচ্ছা ও দয়ার ওপর ভর করেই শিশু ধীরে ধীরে বড়ো হয়ে ওঠে। এ কবিতায় কবি মানবশিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মায়ের আদর-যত্ন ও পরিচর্যার মধ্য দিয়ে শিশু পরিণত মানুষ হয়ে ওঠে। আলোচ্য পঙ্ক্তিতে কবি মায়ের দয়ায় পূর্ণাঙ্গ হয়ে ওঠার কথা স্বীকার করেছেন।
উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি আলোচনা করো।

উত্তর

সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসা প্রকাশের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে 'বন্দনা' কবিতাটি সাদৃশ্যপূর্ণ। 'বন্দনা' কবিতায় কবি বলেছেন, 'পিতাক নেহায় জিউ জীবন যৌবন'। এ পঙ্ক্তির অর্থ হলো- সন্তারে জীবন গঠনে পিতা নিজের জীবন ও যৌবন উৎসর্গ করেন। এটি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক মহান উদাহরণ। উদ্দীপকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভিন্ন দেশের, ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা দুজন পিতার ভালোবাসা তুলে ধরেছেন। দেশ-কালের পার্থক্য থাকলেও প্রত্যেক পিতা তার সন্তানকে সমান ভালোবাসেন। সন্তানের মঙ্গলচিন্তা সব পিতারই সহজাত আকাঙ্ক্ষা। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে পিতৃস্নেহের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পিতা তার ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন নিজ স্বার্থকে বলি দিয়ে সন্তানের স্বার্থরক্ষার দিকটি প্রাধান্য দিয়ে। কবি অকপটে স্বীকার করেছেন তার পিতা না খেয়ে না পরে তার খাবার-পোশাকের বন্দোবস্ত করেছেন। এভাবে সন্তানের প্রতি পিতার অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকটি 'বন্দনা' কবিতার একটি মাত্র দিকের প্রতিনিধিত্ব করে।" মন্তব্যটির সত্যাসত্য বিচার করো।

উত্তর

উদ্দীপকে শুধু পিতৃস্নেহের প্রকাশ থাকায় বলা যায়, "উদ্দীপকটি 'বন্দনা' কবিতার একটি মাত্র দিকের প্রতিনিধিত্ব করে" মন্তব্যটি যথার্থ। 'বন্দনা' কবিতায় পিতার ত্যাগের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা সমাজে পিতৃস্নেহের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করায়। পিতা সন্তানের সুখের জন্য নিজের কষ্ট ভুলে যান- এই ভাবটি চিরন্তন সত্য। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য পিতামাতা, শিক্ষক, নগরবাসী ও রাজসভায় আসীন তার সহকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। কবিতায় কবি তার জীবনে পিতামাতা ও শিক্ষকদের অবদান গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন। বাবা-মা ও শিক্ষকের অপরিমেয় ত্যাগে কবি পরিপূর্ণ মানুষ হতে পেরেছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। উদ্দীপকে সন্তানের প্রতি পিতার অকুণ্ঠ ভালোবাসা প্রকাশের দিকটি বিধৃত হয়েছে। লেখক অকপটে স্বীকার করেছেন যে, পিতার ভালোবাসা দেশ কালের সীমানায় বাঁধা যায় না। সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসা চিরন্তন এবং ভাষা-সংস্কৃতি ভেদেও অভিন্ন। উদ্দীপকের পিতৃস্নেহের চিরন্তন রূপটি 'বন্দনা' কবিতার একটিমাত্র দিক। এছাড়াও এই কবিতায় কবি মায়ের স্নেহ-মমতার দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। পিতামাতার পরে কবি শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যার কল্যাণে কবি আলোকিত জীবনের স্বাদ পেয়েছেন। এ ছাড়াও কবি কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য নগরবাসী ও রাজসভার গুণীদের দোয়া কামনা করেছেন। এই বিষয়গুলো উদ্দীপকে নেই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

প্রথম যেদিন তুলে নিলে উষ্ণ তোমার বুকে বুকের দুধের অমৃত স্বাদ লেগে আছে মুখে হাত বাড়িয়ে বলতে আমার আয়রে কাছে খোকা তোমার কাছে শুরু হলো আমার যতো শেখা।
'তিহ' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'তিহ' শব্দের অর্থ 'তিনিও'।
কবি সভাসদদের কাছে দোয়া চেয়েছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

কবি তার কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য সভাসদদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। 'বন্দনা' কবিতাটি কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ কাব্য 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের বন্দনা নামক অংশ থেকে সংকলিত। এটি মধ্যযুগের সর্বপ্রথম কাব্যগ্রন্থ। সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের শাসনামলে সুলতানের পৃষ্ঠপোষকতায় কবি কাব্যটি রচনা করেন। এ কাব্যে কবি সুলতানের রাজদরবারের সকল সভাসদকে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন। কবি কাব্য সূচনার শুরুতে তার সহকর্মী তথা রাজকর্মচারীদের দোয়া প্রার্থনা করেছেন কাব্য রচনা সফল হওয়ার উদ্দেশ্যে।
উদ্দীপকের সাথে 'বন্দনা' কবিতার কবির অভিমতের সাদৃশ্য আলোচনা করো।

উত্তর

'বন্দনা' কবিতায় বর্ণিত কবির শৈশবের অসহায়ত্বে মায়ের সেবাযত্ন ও পরিচর্যার সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে। 'বন্দনা' কবিতায় মাতৃস্নেহকে 'কোল দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত' বাক্যে যে ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, তা অসাধারণ। এটি মায়ের সর্বজনবিদিত ত্যাগ ও অগাধ ভালোবাসার অনন্য প্রতিচ্ছবি। উদ্দীপকে সন্তানের পরিচর্যায় মায়ের অপরিমেয় ত্যাগ স্বীকারের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। মায়ের স্তনপানে শিশুর তৃপ্তি নিবারণ, উষ্ণ বুকে অপার মমতায় ঘুমানোর সুখস্মৃতি বর্ণনা করে কবি মায়ের স্নেহ-মমতার দিকটির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। মা শিশুকে কোলে-পিঠে করে তিলে তিলে মানুষ করেছেন। 'বন্দনা' কবিতায়ও কবি অকপটে মাতৃস্নেহের বিষয়টিকে সামনে এনেছেন। পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে অসহায় পরনির্ভর কবিকে সেবা-শুশ্রুষা ও পরিচর্যার মাধ্যমে মা বড় করে তুলেছেন। তাই কবি তার স্নেহময়ী মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এভাবে বিষয়টি উদ্দীপকের কবির মায়ের আদর-যত্নে বেড়ে ওঠার অভিমতের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"মাতৃহৃদয়ের চিরন্তনতা উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতার কবির কাঙ্ক্ষিত সত্য।"- মন্তব্যের সত্যাসত্য বিচার করো।

উত্তর

মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধের প্রকাশ থাকায় বলা যায়, "মাতৃহৃদয়ের চিরন্তনতা উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতার কবির কাঙ্ক্ষিত সত্য" মন্তব্যটি যথার্থ। 'বন্দনা' কবিতায় কবি পিতা-মাতার ত্যাগ ও স্নেহের মাধ্যমে মানবজীবনের শেকড়কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এটি কৃতজ্ঞতার শিক্ষা দেয় যে মানুষ যতই উচ্চ অবস্থানে পৌছাক, তার জীবনের প্রথম ঋণ মাতা-পিতার কাছেই। সন্তানের জন্য পিতামাতাই সর্বদা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে থাকেন। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে মায়ের অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন। মায়ের সদাজাগ্রত কল্যাণদৃষ্টি সন্তানের জীবন পথের পাথেয়স্বরূপ। শিশুকে মা বহু যত্নে লালন-পালন করেন। কবি তার স্নেহময়ী মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কাব্য সূচনা করেছেন। উদ্দীপকের কবিও শৈশবের অসহায় অবস্থায় মায়ের ত্যাগ স্বীকারকে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন। শিশুর কান্নায় মা স্তন মুখে তুলে দিয়ে শান্ত করেছেন, বুকের উষ্ণ ছোঁয়ায় পৃথিবীর সকল মমতা ঢেলে দিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছেন, মায়ের কাছ থেকেই শিশু পরিবার-সমাজ সম্পর্কে একটু একটু করে শিখেছে। উদ্দীপকের কবি মায়ের বুকের দুধের ত্যাগ, কোলে-পিঠে করে মানুষ করার দিক এবং একটু একটু করে মানবসমাজ সম্পর্কে শেখার বিষয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে মায়ের অপরিমেয় ত্যাগের কথা স্বীকার করেছেন। কবির মা কবিকে অসহায় অবস্থায় দয়া ও করুণায় ধরে রেখেছেন, কোলে-পিঠে করে তিলে তিলে পূর্ণাঙ্গ মানুষ করে তোলার কথা বলেছেন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

প্রথম যেদিন তুলে নিলে উষ্ণ তোমার বুকে বুকের দুধের অমৃত স্বাদ লেগে আছে মুখে হাত বাড়িয়ে বলতে আমার আয়রে কাছে খোকা তোমার কাছে শুরু হলো আমার যতো শেখা।
'তিহ' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'তিহ' শব্দের অর্থ 'তিনিও'।
কবি সভাসদদের কাছে দোয়া চেয়েছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

কবি তার কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য সভাসদদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। 'বন্দনা' কবিতাটি কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ কাব্য 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের বন্দনা নামক অংশ থেকে সংকলিত। এটি মধ্যযুগের সর্বপ্রথম কাব্যগ্রন্থ। সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের শাসনামলে সুলতানের পৃষ্ঠপোষকতায় কবি কাব্যটি রচনা করেন। এ কাব্যে কবি সুলতানের রাজদরবারের সকল সভাসদকে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন। কবি কাব্য সূচনার শুরুতে তার সহকর্মী তথা রাজকর্মচারীদের দোয়া প্রার্থনা করেছেন কাব্য রচনা সফল হওয়ার উদ্দেশ্যে।
উদ্দীপকের সাথে 'বন্দনা' কবিতার কবির অভিমতের সাদৃশ্য আলোচনা করো।

উত্তর

'বন্দনা' কবিতায় বর্ণিত কবির শৈশবের অসহায়ত্বে মায়ের সেবাযত্ন ও পরিচর্যার সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে। 'বন্দনা' কবিতায় মাতৃস্নেহকে 'কোল দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত' বাক্যে যে ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, তা অসাধারণ। এটি মায়ের সর্বজনবিদিত ত্যাগ ও অগাধ ভালোবাসার অনন্য প্রতিচ্ছবি। উদ্দীপকে সন্তানের পরিচর্যায় মায়ের অপরিমেয় ত্যাগ স্বীকারের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। মায়ের স্তনপানে শিশুর তৃপ্তি নিবারণ, উষ্ণ বুকে অপার মমতায় ঘুমানোর সুখস্মৃতি বর্ণনা করে কবি মায়ের স্নেহ-মমতার দিকটির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। মা শিশুকে কোলে-পিঠে করে তিলে তিলে মানুষ করেছেন। 'বন্দনা' কবিতায়ও কবি অকপটে মাতৃস্নেহের বিষয়টিকে সামনে এনেছেন। পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে অসহায় পরনির্ভর কবিকে সেবা-শুশ্রুষা ও পরিচর্যার মাধ্যমে মা বড় করে তুলেছেন। তাই কবি তার স্নেহময়ী মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এভাবে বিষয়টি উদ্দীপকের কবির মায়ের আদর-যত্নে বেড়ে ওঠার অভিমতের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"মাতৃহৃদয়ের চিরন্তনতা উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতার কবির কাঙ্ক্ষিত সত্য।"- মন্তব্যের সত্যাসত্য বিচার করো।

উত্তর

মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধের প্রকাশ থাকায় বলা যায়, "মাতৃহৃদয়ের চিরন্তনতা উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতার কবির কাঙ্ক্ষিত সত্য" মন্তব্যটি যথার্থ। 'বন্দনা' কবিতায় কবি পিতা-মাতার ত্যাগ ও স্নেহের মাধ্যমে মানবজীবনের শেকড়কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এটি কৃতজ্ঞতার শিক্ষা দেয় যে মানুষ যতই উচ্চ অবস্থানে পৌছাক, তার জীবনের প্রথম ঋণ মাতা-পিতার কাছেই। সন্তানের জন্য পিতামাতাই সর্বদা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে থাকেন। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে মায়ের অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন। মায়ের সদাজাগ্রত কল্যাণদৃষ্টি সন্তানের জীবন পথের পাথেয়স্বরূপ। শিশুকে মা বহু যত্নে লালন-পালন করেন। কবি তার স্নেহময়ী মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কাব্য সূচনা করেছেন। উদ্দীপকের কবিও শৈশবের অসহায় অবস্থায় মায়ের ত্যাগ স্বীকারকে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন। শিশুর কান্নায় মা স্তন মুখে তুলে দিয়ে শান্ত করেছেন, বুকের উষ্ণ ছোঁয়ায় পৃথিবীর সকল মমতা ঢেলে দিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছেন, মায়ের কাছ থেকেই শিশু পরিবার-সমাজ সম্পর্কে একটু একটু করে শিখেছে। উদ্দীপকের কবি মায়ের বুকের দুধের ত্যাগ, কোলে-পিঠে করে মানুষ করার দিক এবং একটু একটু করে মানবসমাজ সম্পর্কে শেখার বিষয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে মায়ের অপরিমেয় ত্যাগের কথা স্বীকার করেছেন। কবির মা কবিকে অসহায় অবস্থায় দয়া ও করুণায় ধরে রেখেছেন, কোলে-পিঠে করে তিলে তিলে পূর্ণাঙ্গ মানুষ করে তোলার কথা বলেছেন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

শিক্ষার ফলে মনুষ্যত্বের স্বাদ পেলে অন্নবস্ত্রের সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে ওঠে। শিক্ষার আসল কাজ মূল্যবোধ সৃষ্টি, জ্ঞানদান নয়; জ্ঞান মূল্যবোধ সৃষ্টির উপায় মাত্র। 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবে এর এক চিহ্নিত করেছেন। জ্ঞান ও অন্তরের মুক্তি ব্যক্তিকে মনুষ্যত্ববোধে উন্নীত হওয়ার শিক্ষা দেয়।
'বন্দনা' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'বন্দনা' শব্দের অর্থ স্তুতি, প্রশংসা।
কবি মা-বাবার পায়ে প্রণাম করেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

কবি তার কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য বাবা-মায়ের পায়ে প্রণাম করেছেন। 'বন্দনা' কবিতাটি শাহ মুহম্মদ সগীরের 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের 'বন্দনা' অংশ থেকে সংকলন করা হয়েছে। এ অংশে কবি কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। মধ্যযুগীয় সকল কাব্যের সূচনায় বন্দনা অংশের প্রচলন ছিল। কেননা এসব কাব্য সুর করে গাওয়া হতো। 'বন্দনা' কবিতার এ অংশে কবি প্রথমেই বাবা-মায়ের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছে। কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য প্রথমেই কবি জন্মদাতা পিতামাতার পায়ে প্রণাম করেছেন।
'বন্দনা' কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য আলোচনা করো।

উত্তর

'বন্দনা' কবিতার কবির শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে মনুষ্যত্বের সাধনা করার দিক থেকে উদ্দীপকের সাদৃশ্য বিদ্যমান। 'বন্দনা' কবিতায় সমাজের সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে কবি সামাজিক বন্ধনকে মজবুত করেছেন। এতে মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছে। শিক্ষাদীক্ষার মধ্য দিয়ে মানুষ সহজেই মনুষ্যত্বের স্তরে উন্নীত হতে পারে। জ্ঞান ও অন্তরের মুক্তিই মনুষ্যত্বের প্রধান উদ্দেশ্য। শিক্ষা মানুষের এই উদ্দেশ্য সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 'বন্দনা' কবিতায় কবি পিতা-মাতার, পাশাপাশি শিক্ষকের বন্দনা করেছেন। কবির মতে, শিক্ষকের শিক্ষাই মানুষকে জীবসত্তা থেকে মনুষ্যত্বের ঘরে নিয়ে উন্নত জীবনের স্পর্শ দেয়। একে কবি 'দোসর-জনম' বা দ্বিতীয় জন্ম বলে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েই কবি মূল্যবোধের স্তরে পৌঁছেছেন এবং কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে মনুষ্যত্বের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলেছেন। এভাবে বিষয়টি উদ্দীপকের শিক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্বের স্বাদ পাওয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকের মনুষ্যত্ববোধে জাগ্রত হওয়ার, বাণীই 'বন্দনা' কবিতায় অন্যভাবে প্রকাশিত হয়েছে।"- উক্তিটি সম্পর্কে তোমার মতামত উপস্থাপন করো।

উত্তর

বিষয়গত দিক থেকে বলা যায়, "উদ্দীপকে মমত্ববোধে জাগ্রত হওয়ার বাণীই 'বন্দনা' কবিতায় অন্যভাবে প্রকাশিত হয়েছে" উক্তিটি যথার্থ। 'বন্দনা' কবিতায় কবি ওস্তাদ বা শিক্ষককে দ্বিতীয় জন্মদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি প্রমাণ করে জ্ঞানার্জন ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষকই মানুষের মানসিক ও আত্মিক বিকাশ ঘটান। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে বিভিন্ন ব্যক্তির অবদান কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন। এই সূত্র ধরেই কবি বাবা-মা ও শিক্ষকের শিক্ষাদানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করেছেন। শিক্ষকের শিক্ষাদানের মাধ্যমেই কবি জীবসত্তা থেকে মানবসত্তায় উন্নীত হয়েছেন আর তা অকপটে স্বীকার করে কবি মানুষ্যত্বের বিষয়টিকে স্পষ্ট করেছেন। উদ্দীপকে শিক্ষাদীক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্ব অর্জনের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষা কেবল জ্ঞান পরিবেশন করে না, মনুষ্যত্বে উন্নীত করে আর এভাবেই মানব আত্মার মুক্তি আসে। উদ্দীপকে মনুষ্যত্বের সাথে মানবতার মুক্তির বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অন্যদিকে 'বন্দনা' কবিতার কবি তার জীবনের বিভিন্ন স্তরে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন। শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করেছেন তাদের অবদানকে। এই শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে কবির চরিত্রের যে বিনয় ও মূল্যবোধ প্রকটিত হয়েছে তা যেন উদ্দীপকে বর্ণিত মনুষ্যত্ববোধের জাগরণ। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।.

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

শিক্ষার ফলে মনুষ্যত্বের স্বাদ পেলে অন্নবস্ত্রের সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে ওঠে। শিক্ষার আসল কাজ মূল্যবোধ সৃষ্টি, জ্ঞানদান নয়; জ্ঞান মূল্যবোধ সৃষ্টির উপায় মাত্র। 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবে এর এক চিহ্নিত করেছেন। জ্ঞান ও অন্তরের মুক্তি ব্যক্তিকে মনুষ্যত্ববোধে উন্নীত হওয়ার শিক্ষা দেয়।
'বন্দনা' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'বন্দনা' শব্দের অর্থ স্তুতি, প্রশংসা।
কবি মা-বাবার পায়ে প্রণাম করেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

কবি তার কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য বাবা-মায়ের পায়ে প্রণাম করেছেন। 'বন্দনা' কবিতাটি শাহ মুহম্মদ সগীরের 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের 'বন্দনা' অংশ থেকে সংকলন করা হয়েছে। এ অংশে কবি কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। মধ্যযুগীয় সকল কাব্যের সূচনায় বন্দনা অংশের প্রচলন ছিল। কেননা এসব কাব্য সুর করে গাওয়া হতো। 'বন্দনা' কবিতার এ অংশে কবি প্রথমেই বাবা-মায়ের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছে। কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য প্রথমেই কবি জন্মদাতা পিতামাতার পায়ে প্রণাম করেছেন।
'বন্দনা' কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য আলোচনা করো।

উত্তর

'বন্দনা' কবিতার কবির শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে মনুষ্যত্বের সাধনা করার দিক থেকে উদ্দীপকের সাদৃশ্য বিদ্যমান। 'বন্দনা' কবিতায় সমাজের সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে কবি সামাজিক বন্ধনকে মজবুত করেছেন। এতে মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছে। শিক্ষাদীক্ষার মধ্য দিয়ে মানুষ সহজেই মনুষ্যত্বের স্তরে উন্নীত হতে পারে। জ্ঞান ও অন্তরের মুক্তিই মনুষ্যত্বের প্রধান উদ্দেশ্য। শিক্ষা মানুষের এই উদ্দেশ্য সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 'বন্দনা' কবিতায় কবি পিতা-মাতার, পাশাপাশি শিক্ষকের বন্দনা করেছেন। কবির মতে, শিক্ষকের শিক্ষাই মানুষকে জীবসত্তা থেকে মনুষ্যত্বের ঘরে নিয়ে উন্নত জীবনের স্পর্শ দেয়। একে কবি 'দোসর-জনম' বা দ্বিতীয় জন্ম বলে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েই কবি মূল্যবোধের স্তরে পৌঁছেছেন এবং কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে মনুষ্যত্বের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলেছেন। এভাবে বিষয়টি উদ্দীপকের শিক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্বের স্বাদ পাওয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকের মনুষ্যত্ববোধে জাগ্রত হওয়ার, বাণীই 'বন্দনা' কবিতায় অন্যভাবে প্রকাশিত হয়েছে।"- উক্তিটি সম্পর্কে তোমার মতামত উপস্থাপন করো।

উত্তর

বিষয়গত দিক থেকে বলা যায়, "উদ্দীপকে মমত্ববোধে জাগ্রত হওয়ার বাণীই 'বন্দনা' কবিতায় অন্যভাবে প্রকাশিত হয়েছে" উক্তিটি যথার্থ। 'বন্দনা' কবিতায় কবি ওস্তাদ বা শিক্ষককে দ্বিতীয় জন্মদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি প্রমাণ করে জ্ঞানার্জন ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষকই মানুষের মানসিক ও আত্মিক বিকাশ ঘটান। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে বিভিন্ন ব্যক্তির অবদান কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন। এই সূত্র ধরেই কবি বাবা-মা ও শিক্ষকের শিক্ষাদানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করেছেন। শিক্ষকের শিক্ষাদানের মাধ্যমেই কবি জীবসত্তা থেকে মানবসত্তায় উন্নীত হয়েছেন আর তা অকপটে স্বীকার করে কবি মানুষ্যত্বের বিষয়টিকে স্পষ্ট করেছেন। উদ্দীপকে শিক্ষাদীক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্ব অর্জনের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষা কেবল জ্ঞান পরিবেশন করে না, মনুষ্যত্বে উন্নীত করে আর এভাবেই মানব আত্মার মুক্তি আসে। উদ্দীপকে মনুষ্যত্বের সাথে মানবতার মুক্তির বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অন্যদিকে 'বন্দনা' কবিতার কবি তার জীবনের বিভিন্ন স্তরে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন। শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করেছেন তাদের অবদানকে। এই শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে কবির চরিত্রের যে বিনয় ও মূল্যবোধ প্রকটিত হয়েছে তা যেন উদ্দীপকে বর্ণিত মনুষ্যত্ববোধের জাগরণ। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।.

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSC বাংলা ১ম পত্র — বন্দনা MCQ | Prosthuti