SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল
উদ্দীপক
দেশকালের সীমারেখা পিতৃহৃদয়ের স্বাভাবিক প্রবণতায় কোনো প্রভাব বিস্তার করে না। যে দেশের, যে সময়ের বা যে সংস্কৃতিরই মানুষ হোক না কেন পিতা সব সময়ই তার সন্তানকে একই রকম ভালোবাসেন। সন্তানের মঙ্গলচিন্তা সব পিতারই সহজাত আকাঙ্ক্ষা। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বের সকল পিতার পিতৃত্বের সর্বজনীন ও চিরন্তন রূপ উন্মোচিত করেছেন।
ক
'মহামতি গোছ' বলে কবি কাকে সম্বোধন করেছিলেন?
উত্তর
'মহামতি গোছ' বলে কবি গিয়াসউদ্দীন আজম শাহকে সম্বোধন করেছেন।
খ
"তান দয়া হন্তে হৈল এ ধড় বিশাল"- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
"তান দয়া হন্তে হইল এ ধড় বিশাল" বলতে কবি মায়ের সেবাযত্নে সন্তানের বড়ো হয়ে ওঠার বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন।
'বন্দনা' কবিতায় কবি শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে মায়ের ভূমিকাকে তুলে ধরেছেন। মানবশিশু অসহায় অবস্থায় পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়। বাবা-মায়ের ইচ্ছা ও দয়ার ওপর ভর করেই শিশু ধীরে ধীরে বড়ো হয়ে ওঠে। এ কবিতায় কবি মানবশিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মায়ের আদর-যত্ন ও পরিচর্যার মধ্য দিয়ে শিশু পরিণত মানুষ হয়ে ওঠে। আলোচ্য পঙ্ক্তিতে কবি মায়ের দয়ায় পূর্ণাঙ্গ হয়ে ওঠার কথা স্বীকার করেছেন।
গ
উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি আলোচনা করো।
উত্তর
সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসা প্রকাশের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে 'বন্দনা' কবিতাটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'বন্দনা' কবিতায় কবি বলেছেন, 'পিতাক নেহায় জিউ জীবন যৌবন'। এ পঙ্ক্তির অর্থ হলো- সন্তারে জীবন গঠনে পিতা নিজের জীবন ও যৌবন উৎসর্গ করেন। এটি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক মহান উদাহরণ।
উদ্দীপকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভিন্ন দেশের, ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা দুজন পিতার ভালোবাসা তুলে ধরেছেন। দেশ-কালের পার্থক্য থাকলেও প্রত্যেক পিতা তার সন্তানকে সমান ভালোবাসেন। সন্তানের মঙ্গলচিন্তা সব পিতারই সহজাত আকাঙ্ক্ষা। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে পিতৃস্নেহের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পিতা তার ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন নিজ স্বার্থকে বলি দিয়ে সন্তানের স্বার্থরক্ষার দিকটি প্রাধান্য দিয়ে। কবি অকপটে স্বীকার করেছেন তার পিতা না খেয়ে না পরে তার খাবার-পোশাকের বন্দোবস্ত করেছেন। এভাবে সন্তানের প্রতি পিতার অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
"উদ্দীপকটি 'বন্দনা' কবিতার একটি মাত্র দিকের প্রতিনিধিত্ব করে।" মন্তব্যটির সত্যাসত্য বিচার করো।
উত্তর
উদ্দীপকে শুধু পিতৃস্নেহের প্রকাশ থাকায় বলা যায়, "উদ্দীপকটি 'বন্দনা' কবিতার একটি মাত্র দিকের প্রতিনিধিত্ব করে" মন্তব্যটি যথার্থ।
'বন্দনা' কবিতায় পিতার ত্যাগের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা সমাজে পিতৃস্নেহের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করায়। পিতা সন্তানের সুখের জন্য নিজের কষ্ট ভুলে যান- এই ভাবটি চিরন্তন সত্য।
'বন্দনা' কবিতায় কবি তার কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য পিতামাতা, শিক্ষক, নগরবাসী ও রাজসভায় আসীন তার সহকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। কবিতায় কবি তার জীবনে পিতামাতা ও শিক্ষকদের অবদান গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন। বাবা-মা ও শিক্ষকের অপরিমেয় ত্যাগে কবি পরিপূর্ণ মানুষ হতে পেরেছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। উদ্দীপকে সন্তানের প্রতি পিতার অকুণ্ঠ ভালোবাসা প্রকাশের দিকটি বিধৃত হয়েছে। লেখক অকপটে স্বীকার করেছেন যে, পিতার ভালোবাসা দেশ কালের সীমানায় বাঁধা যায় না। সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসা চিরন্তন এবং ভাষা-সংস্কৃতি ভেদেও অভিন্ন।
উদ্দীপকের পিতৃস্নেহের চিরন্তন রূপটি 'বন্দনা' কবিতার একটিমাত্র দিক। এছাড়াও এই কবিতায় কবি মায়ের স্নেহ-মমতার দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। পিতামাতার পরে কবি শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যার কল্যাণে কবি আলোকিত জীবনের স্বাদ পেয়েছেন। এ ছাড়াও কবি কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য নগরবাসী ও রাজসভার গুণীদের দোয়া কামনা করেছেন। এই বিষয়গুলো উদ্দীপকে নেই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো