“বাংলাদেশে মুসলিম নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা প্রদানে উক্ত আইনটি সফল ভূমিকা পালন করছে”-মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: বাংলাদেশে মুসলিম নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা প্রদানে উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের গুরুত্ব অপরিসীম। সামাজিক কু-প্রথা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এদেশে বহুবিবাহ, তালাক, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার প্রভৃতি বিষয় বেশ অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থা বিরাজমান ছিল। এ অবস্থা মোকাবিলায় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার নারীর মর্যাদা, রক্ষা, অধিকার আদায় এবং পরিবারের সুখ-শান্তি ও শিশুদের উত্তরাধিকার প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৫৮ সালের ৭ আগস্ট একটি অধ্যাদেশ জারি করেন। যা পরবর্তীতে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন নামে পরিচিতি পায়। উদ্দীপকের নাসিমা আক্তার ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের মাধ্যমেই তার অধিকার ফিরে পেতে পারে। বাংলাদেশে তার মতো মুসলিম নারীদের স্বার্থ রক্ষায় এ আইন নিরাপত্তাকবচ হিসেবে কাজ করে। কেননা এই আইন নারী ও শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ এনে দিয়েছে। এই আইন প্রণয়নের আগে কোনো স্বামী মুখে তালাক উচ্চারণ করলেই তালাক হয়ে যেত। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী লিখিত প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে দেনমোহর ও ভরণপোষণের খরচ থেকে বঞ্চিত হতো। কিন্তু এ আইনে বিবাহ রেজিস্ট্রির বিধান রাখার ফলে নারীর আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা লাভের সুযোগ এসেছে। এমনকি স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে করা এবং স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এটি নারীদের স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। তাছাড়া ছেলেমেয়েদের বিয়ের বয়স নির্ধারণসহ পিতৃহীন এতিম ছেলেমেয়ের স্বার্থরক্ষার জন্যও এই আইন কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় নারীদের কল্যাণে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন এক সেফগার্ড হিসেবে পরিচিত।
HSC Social Work 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Social Work 2nd Paper · সৃজনশীল
“বাংলাদেশে মুসলিম নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা প্রদানে উক্ত…
উদ্দীপক
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর