জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার ফলে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সমাজকর্মীর ভূমিকা বহুমুখী।'জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ যেমন বেশি, তেমনি এ থেকে উদ্ভূত সমস্যাও অসংখ্য। সামাজিক বিশৃঙ্খলা, পুষ্টিহীনতা, চুরি, ছিনতাই, অপরাধ, মাদকাসক্তি, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, বিভিন্ন রোগের প্রকোপসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে মারাত্মক আকারে দেখা দেয় অভিযোজন (Adaptation) জনিত সমস্যা। কারণ দুর্যোগজনিত যে পরিবর্তন হয়ে থাকে তার সাথে মানুষ সইজে মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় সমাজকর্মী তিন ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকেন-(ক) দুর্যোগ-পূর্ববর্তী সময়ে; (খ) দুর্যোগকালীন এবং (গ) দুর্যোগ- পরবর্তী সময়ে।দুর্যোগের হাত থেকে রেহাই পেতে বা দুর্যোগ প্রতিরোধে সমাজকর্মীগণ সচেতনতা ও প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন। এক্ষেত্রে জনগণকে দুর্যোগের পূর্বলক্ষণ সম্পর্কে ধারণা প্রদান, দুর্যোগের হাত থেকে রেহাই পেতে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ, শুকনা খাবার ও পানীয় জল সংরক্ষণ, সম্পদ ও গবাদিপশু সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতন করে তোলেন।দুর্যোগকালে সমাজকর্মীগণ ত্রাণ বিতরণ, আহত লোকদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ, করে থাকেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় নেতৃত্ব এবং স্বেচ্ছাসেবীদের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকেন।দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে তার আলোকে পুনর্বাসন ও সক্ষমতা সৃষ্টিতে সমাজকর্মীগণ সমাজকর্মের পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করে থাকেন। এক্ষেত্রে ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি পর্যায়ে ব্যক্তির অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, দলীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ এবং সমষ্টির সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে দুর্যোগজনিত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেন।এ সকল কাজে সমাজকর্মীগণ স্থানীয় স্বেচ্ছাচারী সংস্থা, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব; সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করে থাকেন।