উদ্দীপকে উল্লিখিত সামাজিক সমস্যাটি হলো অটিজম। এটি কোনো রোগ নয়, বরং একটি স্নায়ুবিক বিকাশজনিত অবস্থা। তাই এর প্রতিরোধ নয়, বরং সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ, যত্ন এবং সহযোগিতা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান করণীয়।
অটিজম সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। পরিবার, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষকে অটিজমের বৈশিষ্ট্য, লক্ষণ এবং আক্রান্ত শিশুদের প্রতি সঠিক আচরণ সম্পর্কে শিক্ষিত করতে হবে, যা সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর করবে। কোনো শিশুর মধ্যে অটিজমের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার, কারণ যত কম বয়সে এটি শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত থেরাপি ও বিশেষ শিক্ষাদান শুরু করা সম্ভব হয়, যা ভবিষ্যৎ বিকাশে সহায়ক হয়।
অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও থেরাপি 'সেন্টারের ব্যবস্থা করতে হবে। স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি ও বিহেভিয়ারাল থেরাপির মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ, সামাজিক দক্ষতা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। পাশাপাশি তাদের পরিবারকে মানসিক ও আর্থিক সহায়তা দিতে হবে এবং সঠিক যত্ন নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সমাজের সকল স্তরে অটিস্টিক শিশুদের অন্তর্ভুক্তির পরিবেশ তৈরি করা। তাদের সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সমাজের সক্রিয় সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সুতরাং বলা যায়, অটিজম প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ, বিশেষ শিক্ষা ও থেরাপি, পারিবারিক সহায়তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।