উদ্দীপকে পিয়ালের সমস্যাটি হলো অটিজম।
অটিজম হচ্ছে শিশুর বিকাশজনিত স্নায়বিক সমস্যা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার বলে। শিশুর জন্মের ৩ বছরের মধ্যে এ রোগ দেখা যায়। এ রোগে আক্রান্ত হলে শিশুরা আত্মকেন্দ্রিক হয় এবং তাদের আচরণগত অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকের পিয়ালের ক্ষেত্রেও অনুরূপ অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের পিয়াল নিজে যেমন কারও সাথে কথা বলে না, তেমনি কেউ তার সাথে কথা বললে সে উত্তর দেয় না। এ থেকে বোঝা যায়, সে আত্মকেন্দ্রিক। অটিজম আক্রান্ত শিশুরা পিয়ালের মতোই নিজেদেরকে গুটিয়ে নেয়। যার জন্য তারা সমাজে অন্যদের সাথে স্বাভাবিক আচরণ বা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করতে অক্ষম। যেমন— পিয়াল স্কুলে গিয়ে কারও সাথে মিশতে পারে না; বরং সবার গায়ে থুথু ছিটায়। তবে পিয়াল সুন্দর ছবি আঁকতে পারে। এটি অটিজম আক্রান্ত শিশুদের একটি বৈশিষ্ট্য। তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই বিশেষ কোনো বিষয়ে দক্ষতা দেখা যায়। যেমন- কেউ পিয়ালের মতো ছবি আঁকতে পারে, কেউ সুন্দর গানের সুর অনুকরণ করতে পারে, কেউ বা মুখে মুখে বড় বড় যোগ-বিয়োগ করতে পারে প্রভৃতি। প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি অটিস্টিক শিশুর মধ্যেই এরূপ উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও দক্ষতা থাকে। সুতরাং পিয়ালের সমস্যাটির ধরন বিবেচনা করে তাকে একজন অটিস্টিক শিশু বলা যায়।