উদ্দীপকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নজনিত কারণে সংঘটিত সামাজিক সমস্যা জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও মানুষের কর্মকাণ্ড দ্বারা এই স্বাভাবিক পরিবর্তণটি সমস্যায় রূপান্তরিত হয়েছে। সাধারণত জলবায়ু হলো কোনো এলাকার কমপক্ষে ৩০ বছরের গড় আবহাওয়া আর জলবায়ু পরিবর্তন হলো বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহের গতিপ্রকৃতির ও পরিসংখ্যানগত মনের সাধারণ অবস্থার তাৎপর্যপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন। এ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, বায়ুপ্রবাহ ও. আবহাওয়ার অন্যান্য সূচকগুলোতে। তাই বলা যায়, গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইড বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘসময়ব্যাপী বিরাজমান আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতিতে যে পরিবর্তন সাধিত হয় তাকে জলবায়ু পরিবর্তন বলে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, আর বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী — অতিমাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, তেজস্ক্রিয় দূষণ, যানবাহনের অদগ্ধীভূত কার্বন— যেমন কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2), কার্বন মনোক্সাইড (CO),সালফারডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড প্রভৃতি। এছাড়াও শিল্পকারখানার নির্গত ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্য এবং শিল্পোন্নত দেশগুলোর অতিমাত্রায় শিল্পায়ন এর জন্য দায়ী। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সাইক্লোন, দাবানল ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল। উদ্দীপকের তথ্যগুলোর দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, বৈশ্বিক উষ্ণায় হেতু জলবায়ু পরিবর্তনের উপর্যুক্ত আলোচনা পুরাপুরি মিলযুক্ত।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বৈশ্বিক উষ্ণায়ন জনিত কারণে সংঘটিত সমস্যা জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে।