উদ্দীপকে যথাক্রমে দুটি সামাজিক সমস্যার কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে বাল্যবিবাহ ও যৌতুক। নিচে সামাজিক সমস্যা দুটির কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
আমাদের সমাজে বাল্যবিবাহের অধিক প্রচলনের পিছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান রয়েছে। মানুষের সহজাত প্রবণতা, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি দিক এবং অজ্ঞতা, কুসংস্কার, শিক্ষার অভাব ইত্যাদি বিষয়গুলো বাল্যবিবাহের কারণ হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে। প্রথমত, দরিদ্রতার কারণে বাল্যবিবাহ বেশি সংঘটিত। দরিদ্রতার কারণেই পিতামাতা মেয়েদেরকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে ঝামেলামুক্ত হতে চায়। দ্বিতীয়ত, বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে অভিভাবকদের অজ্ঞতা এবং অসচেতনতা।
অনেক অভিভাবক আছেন যারা বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে কিছুই জানেন না। আর এ অসচেতনার কারণে অতি অল্প বয়সে বিবাহ হয়। তৃতীয়ত, নেতিবাচক সামাজিক পরিবেশ এবং নিরাপত্তাহীনতাও বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের ইভটিজিং ও উত্ত্যক্তকরণসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে অভিভাবকরা অল্প বয়সেই মেয়েদের বিবাহের ব্যবস্থা করেন। চতুর্থত, নাতিশীতোষ্ণ ও মৌসুমি অঞ্চলের আবহাওয়া এবং খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবে বাংলাদেশের তরুণ তরুণীরা দ্রুত যৌবনপ্রাপ্ত হয়। এ কারণেও বাল্যবিবাহ সংঘটনের জন্য দায়ী। পঞ্চমত, বাল্যবিবাহ আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় বাল্যবিবাহের বিস্তাররোধ সম্ভবপর হয়ে উঠছে না।
যৌতুক প্রথা বাংলাদেশের আরেকটি সামাজিক ব্যাধি। যৌতুক প্রথা সমাজব্যবস্থায় বিদ্যমান থাকার পিছনে বহুবিধ কারণ ক্রিয়াশীল রয়েছে। সামাজিক রীতিনীতি, মূল্যবোধ, সম্পদের অসম বণ্টনব্যবস্থা ইত্যাদির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে যৌতুক সামাজিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। দারিদ্র্য যৌতুকের মতো সামাজিক কুপ্রথা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অর্থের অভাবে যারা নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে না, তারা মনে করে যৌতুক তাদের আর্থিক উন্নতির একটি বড় সুযোগ। আবার অনেকক্ষেত্রে যৌতুক নেওয়াকে সামাজিক মর্যাদার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত পরিবারের বংশমর্যাদা ও আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে কন্যাপক্ষ যৌতুক দেয়। যৌতুকের অন্যতম কারণ হলো নারীদের পরনির্ভরশীল জীবনযাপন ও আর্থিক নিরাপত্তার অভাব। এছাড়াও শারীরিক বৈশিষ্ট্য যেমন- চেহারা, উচ্চতা, গায়ের রং ইত্যাদির কারণে অনেক সময়ই যৌতুক দিতে বাধ্য করা হয়। এছাড়াও আরও অনেক কারণ রয়েছে।