অটিজমের প্রভাব ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত- উক্তিটি যথার্থ।
অটিজম আমাদের দেশ তথা বিশ্বের জন্য একটি বড় ধরনের সমস্যা। সমাজে যেসব অটিস্টিক শিশু বা ব্যক্তি আছে তারা ব্যক্তি সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যা অনেক সময় পুরো রাষ্ট্রীয় পরিবেশের স্বাভাবিকতায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যাদের পরিবারে অটিস্টিক শিশু আছে তাদের আর্থিক ব্যয় বেশি হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিবছর অটিস্টিক শিশুদের জন্য ১৩৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়। আর একজন সুস্থ ব্যক্তির জন্য সারা জীবনে ব্যয় হয় ২.৪ মিলিয়ন US ডলার।
সামাজিকভাবেও অটিজমের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে যখন কোনো বাবা-মা সন্তানের অটিজমের বিষয়টি জানতে পারে তখন থেকে ঐ শিশুর প্রতি তার মনোভাব পরিবর্তন হয়। অনেক ক্ষেত্রে অটিস্টিক শিশুর জন্য তার ভাই-বোন অস্বস্তিবোধ করে। অনেক সময় সামাজিক নানা অনুষ্ঠান থেকেও তাদের দূরে রাখা হয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা এসব বিষয় যখন শিশুটি বুঝতে পারে তখন তার মধ্যে অস্বস্তি কাজ করে এবং সে নেতিবাচক কাজে প্রলুব্ধ হয়। সমাজে অনেক ব্যক্তি আছেন যারা নিজেদের সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে অটিস্টিক সন্তানকে সবার সামনে নিয়ে আসতে চান না। পারিবারিক পরিবেশেও অটিজমের প্রভাব অনেক। এ সমস্ত শিশুর বা ব্যক্তির আচরণে অনেক সময় পরিবারে অশান্তি নেমে আসে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে মায়ের ওপর। তিনি শত বাধা সত্ত্বেও তার সন্তানকে পরিবারে আগলে রাখতে চান।
তবে শুধু ব্যক্তি ও পরিবারেই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও অটিজম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। এ আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, অটিজম ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।