উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' বৃত্তে উল্লিখিত বিষয়গুলো অপুষ্টির ইঙ্গিত দেয়।
একজন মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও গুণগত খাবার। মানবদেহে এই খাবারের অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলা হয়। অপুষ্টি বাংলাদেশে একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। উদ্দীপকে এ সমস্যার প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের 'ক' বৃত্তে অসচেতনতা, খাদ্য ঘাটতি এবং ১৮০৫ কিলোক্যালরির কম খাদ্য গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো অপুষ্টির কারণ। আর 'খ' বৃত্তে রাতকানা রোগ, রক্তস্বল্পতা, কম ওজনের শিশু জন্মের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়গুলো অপুষ্টির প্রভাবজনিত সমস্যা। বাংলাদেশ জনসংখ্যাবহুল দেশ। বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য পুষ্টিসম্মত খাবারের সংস্থান করা বেশ কষ্টকর। এছাড়া এ দেশের মানুষের মাথাপিছু আয়ও অনেক কম। তাই স্বল্প আয় দিয়ে পুষ্টিসম্মত খাবার গ্রহণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। স্বাভাবিকভাবেই তাদের দিনে ১৮০৫ কিলোক্যালরির কম খাদ্য গ্রহণ করা হয়। এছাড়া এদেশের মানুষ অজ্ঞতার কারণে কোন খাদ্যে কী ধরনের পুষ্টি পাওয়া যায় সে সম্পর্কে সচেতন নয়। এসব কারণে তাদের দেহে খাদ্য ঘাটতি এবং পরবর্তীতে অপুষ্টি দেখা দেয়। পুষ্টিহীনতার কারণে আমাদের দেশের শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়। যেমন— রাতকানা, রক্তশূন্যতা, স্কার্ভি ইত্যাদি। পুষ্টিহীনতার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে প্রসূতি মা ও শিশুর ওপর। আমাদের দেশের বেশির ভাগ শিশু মাতৃগর্ভে অপুষ্টিতে ভোগে। যার ফলে কম ওজনের শিশু জন্ম হয় এবং পরবর্তীতে তারা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। ছকচিত্রে এ কার্যগুলোরই প্রতিফলন ঘটেছে। তাই বলা যায়, ছকে অপুষ্টি সমস্যার কথা উঠে আছে।