উদ্দীপকের সমস্যা অর্থাৎ জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলে অনেক সমস্যারই সমাধান করা সম্ভব- উক্তিটি যথার্থ।
সমাজ হলো সামাজিক উপাদান ও সম্পর্কের জটিল জাল। প্রতিটি সামাজিক সমস্যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একে অন্যের সাথে সম্পর্কিত তাই সমাজের কোনো কাঠামোর মধ্যে অসঙ্গতি দেখা দিলে তার প্রতিক্রিয়া সব ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়। যেমন— নিরক্ষরতার কারণে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। আবার পুষ্টিহীনতাও নিরক্ষরতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে থাকে। একইভাবে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই সঙ্গত কারণেই বলা যায়, জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান করা গেলে এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা অনেকাংশে সম্ভব হবে।
আয়তন অনুপাতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে সরকারকে হিমশিম খেতে হয় । শিল্পের অবদান ক্রমশ বেড়ে চললেও কৃষি এখনো আমাদের অর্থনীতির একটা বড় ভিত্তি। কিন্তু এ দেশের কৃষিজমি যেমন কম, তেমনি উৎপাদন পদ্ধতিও আধুনিক নয়। প্রাকৃতিক সম্পদ, পুঁজি, দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিজ্ঞানের অপ্রতুলতার কারণে শিল্পেও অগ্রগতি আশানুরূপ নয় । সুতরাং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পেলে তা দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ কমাতে সাহায্য করবে। সেইসাথে সাধারণ মানুষের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। ফলে এ সমস্ত চাহিদা মেটা অভাবে সৃষ্ট বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার (যেমন-স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, বস্তি সমস্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নিরক্ষরতা, বেকারত্ব ইত্যাদি) মাত্রাও কমে আসবে। আবার এই সমস্যাগুলো চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, চুরি-ডাকাতি, খুন ইত্যাদি অপরাধ প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ সমাজের এ সব নেতিবাচক পরিস্থিতির জন্য ও অতিরিক্ত জনসংখ্যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী।
সার্বিক আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, প্রতিটি সামাজিক সমস্যাই কোনো না কোনোভাবে একটি অন্যটির সাথে সম্পৃক্ত। একটি সমস্যার সমাধান অন্য সমস্যার সমাধানে সহায়ক হয়। তাই আশা করা যায়, আমাদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনা গেলে অন্যান্য সামাজিক সমস্যার সমাধান করাও সম্ভব হবে।