উদ্দীপকে সবুর মিয়ার মেয়েটি আমাদের দেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা যৌতুকের কারণে জীবন দিয়েছে।
যৌতুক প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি ঘৃণ্য প্রথা, যা সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিয়ের আগে পাত্রপক্ষ থেকে দর কষাকষি করে এটা নির্ধারণ করা হয়। এটি অনেকটা হাট-বাজারে কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের মতো। যৌতুকের প্রধান শিকার আমাদের দেশের নারী সমাজ। উদ্দীপকের মেয়েটিকেও যৌতুক প্রথার বলি হতে হয়েছে।
সবুর মিয়া তার বড় মেয়েকে বেকার যুবক রফিকের সাথে বিয়ে দেন। বরপক্ষের দাবি অনুযায়ী তিনি বিয়েতে বরকে একটি মোটরসাইকেল ও এক লক্ষ টাকা দিতে রাজি হন। এ থেকে বোঝা যায়, এক্ষেত্রে যৌতুকের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইন অনুসারে, যৌতুক বলতে বিবাহের কোনো এক পক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে বা অপর কোনো ব্যক্তিকে বিয়ের সময় পূর্বে বা পরে উক্ত পক্ষগণের মধ্যে বিবাহের পণ্য হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত বা প্রদান করতে সম্মত জামানতকে বোঝায়।' এ থেকে বোঝা যায়, সবুর মিয়া যৌতুক দিতে সম্মত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে চাহিদানুযায়ী যৌতুক না দেওয়ায় তার মেয়েটি স্বামীর নির্যাতনের মুখে মৃত্যুর দেশে পাড়ি জমায়, অর্থাৎ মেয়েটি যৌতুক প্রথার কারণেই জীবন দিল।