বাংলাদেশে শিল্প শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে শিল্প সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিহার্য।
সাধারণত শিল্প কারখানার মালিক ও শ্রমিক পক্ষ একে অন্যের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। মালিক পক্ষ মনে করে শ্রমিকদের অতিরিক্ত সুবিধা দিলে ব্যবসায় লোকসান হবে। অন্যদিকে, শ্রমিক পক্ষ মনে করে তারা প্রতিনিয়ত মালিকদের শোষণের শিকার হচ্ছে। এ ধরনের টানাপোড়েন সামগ্রিক উৎপাদনে প্রভাব ফেলে। একজন শিল্প সমাজকর্মী এক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে সেতুবন্ধন সৃষ্টিতে কাজ করে। শিল্পকারখানায় শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মীর অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে এ শাখার গুরুত্ব অপরিসীম। একজন শিল্প সমাজকর্মী সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান দেন। শিল্প প্রতিষ্ঠানে মালিক- শ্রমিকদের সম্পর্ক উন্নয়নে একজন সমাজকর্মী, বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করে সমস্যা সমাধান দেন। এর মাঝে আছে— মালিক, শ্রমিকের পেশাগত এ দ্বন্দ্বের কারণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, সমাধান, শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, সামঞ্জস্য বিধান, সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিকল্পনা প্রণয়ন ইত্যাদি। এ ধাপগুলো সমস্যা সমাধানকে ফলপ্রসূ করে। সেই সাথে শ্রমিকদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজের ক্ষেত্র নির্বাচন, শ্রমিক শোষণ যাতে না হয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ, অবসরকালীন ভাতা প্রদান, শিল্প ক্ষেত্রে শ্রমিকদের যথাযথ চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে শিল্প সমাজকর্মের গুরুত্ব অত্যধিক।
তাই বলা যায়, বাংলাদেশে শিল্প শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে শিল্প সমাজকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।