১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে বিবাহের বয়স, তালাক সংক্রান্ত ধারা ও বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী সুজন আলীর বিচার হবে।প্রথমত, বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী কোনো মুসলিম পুরুষ যদি প্রথম স্ত্রীর জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করতে চায়, তাহলে তার প্রথম স্ত্রীর লিখিত অনুমতি নিতে হবে। যদি প্রথম স্ত্রী অনুমতি না দেয়, তাহলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে। চেয়ারম্যান সালিশি পরিষদ গঠন করবেন এবং পরিষদের। সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু সুজন আলী! উল্লিখিত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিবাহ করেছে যা এই ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধারা অনুযায়ী, সুজন আলী এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড কিংবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় প্রকার দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।'দ্বিতীয়ত, সুজন আলী বিবাহের বয়স সংক্রান্ত ধারার ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। এই ধারায় বিবাহের বয়স মেয়েদের ন্যূনতম ১৮ বছর ধার্য করা হয়। কিন্তু সুজন আলী ১৪ বছরের মেয়েকে বিয়ে করেছে যা এই ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।তৃতীয়ত, যদি কোনো স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিতে চায় এক্ষেত্রে ৯০ দিনের সসময় দিতে হয়। এসময় চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে তালাকের নোটিশ প্রদান এবং ১ কপি তার স্ত্রীকে প্রদান করতে হয়। উক্ত নোটিশপ্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান সালিশ পরিষদের মাধ্যমে ৯০ দিনের ভিতরে উভয়ের মিলনের চেষ্টা করিবেন এবং মিলনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তালাক কার্যকর হবে। কিন্তু সুজন আলী এ ধারার নিয়ম অনুসরণ না করে ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। তাই মুসলিম পারিবারিক আইনে বিবাহের বয়স, তালাক ও বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী সুজন আলীর বিচার হবে।