নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় মুসলিম পারিবারিক আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে বিবাহ, রেজিস্ট্রি, তালাক ও বিবাহ বিচ্ছেদ, খোরপোশ ও দেনমোহর, বহুবিবাহ, উত্তরাধিকারসহ নারী অধিকার ও কল্যাণবিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাস্তব প্রয়োজনে আইনানুগ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ আইন অবহেলিত নারী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণ ও ব্যাপক নিরাপত্তা লাভের সুযোগ করে দিয়েছে। এ আইন প্রবর্তনের পূর্বে অনেক বিবাহ, তালাক শব্দটি উচ্চারণের মাধ্যমে অযৌক্তিকভাবে শেষ হয়ে যেত এবং তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী লিখিত প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়ে দেনমোহর ও ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এরূপ ক্ষেত্রে আইন বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নারী সমাজের নিরাপত্তা লাভের ব্যবস্থা করেছে। আবার, এ আইনে স্বামীর ইচ্ছেমতো স্ত্রী ত্যাগ করার ও গ্রহণ করার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে বিবাহ বিচ্ছেদ ও বহুবিবাহকে রোধ করার চেষ্টা করেছে। তৃতীয়ত, এ আইনে বিবাহকে একটি চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করায় স্ত্রীর মতামত স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রতি নর্মদা প্রদর্শন করা হয়েছে। চতুর্থত, ছেলেমেয়েদের বিবাহের বয়স ধার্য করে বাল্যবিবাহ রোধ করা হয়েছে। পঞ্চমত, পারিবারিক ভাঙনকে রোধ করে সুস্থ সমাজজীবন রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। সষ্ঠত, এ আইনের মাধ্যমে এতিম শিশুদের উত্তরাধিকার সূত্রেসম্পত্তির মালিকানা স্বীকার করে তাদের নিরাপত্তা দানের ব্যবস্থা করা হয় এবং বিধবা মহিলাদের অনিশ্চিত অবস্থা থেকে আশ্রয় লাভের সুযোগ করে দেওয়া হয়।।অতএব বলা যায়, নারীর অধিকার ও নিরাপত্তায় মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯০১ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।